বিএনপিতে হতাশার সুর
Sunday, 28th August , 2016, 10:15 am,BDST
Print Friendly, PDF & Email

বিএনপিতে হতাশার সুর



লাস্টনিউজবিডি, ২৮ আগস্ট, ঢাকা: কাউন্সিলের পর ফিনিকস পাখির মতো ফের ঘুরে দাঁড়াবে বিএনপি। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল বারবার এমন কথাই বলেছিলেন। শুধু মির্জা ফখরুল নন, দলের সিংহভাগ নেতাকর্মীও সেটাই বিশ্বাস করতেন। ‘ঘুরে দাঁড়াবে বিএনপি’ এই বদ্ধমূল ধারণা নিয়ে কাউন্সিল এবং কমিটি গঠন হয়ে গেলেও তার প্রতিফলন চোখে পড়ছে না। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে, কয়েক বছর ধরে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের পরিকল্পনামতো কোনো কাজই ‘ক্লিক’ করছে না। অন্যদিকে বিএনপিকে নিয়ে সরকারের কৌশল শতভাগই সফল হচ্ছে। সরকারের কৌশলের বিপরীতে বিএনপির কোনো পরিকল্পনা আলোর মুখ দেখছে না বলে মেনেও নিচ্ছেন দলটির সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা।

দলটির এই প্রায় অকার্যকর রাজনৈতিক কৌশল বিশ্লেষণ করে তাদের সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা বলছেন, সমসাময়িক রাজনীতিতে নানান ফাঁদে এবং খাদে পড়েছে বিএনপি। দলটিকে খাদের কিনারা থেকে তুলে আনতে বারবার উদ্যোগ নিয়েও তা সম্ভব হচ্ছে না। এর জন্য তারা দায়ী করছেন দলের ভেতর ঝেঁকে বসা কট্টর জামায়াতপন্থি নেতাদের। তাদের মতে, জামায়াতপন্থি নেতাদের প্রবল বাধার মুখে পেরে উঠছেন না বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। অন্যদিকে সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে দলকে বেকায়দায় রেখেছেন এমন নেতাদের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়।

বিএনপির ভেতর থেকে সরকারের সঙ্গে লিয়াজোঁ রাখছেন এমন শতাধিক নেতার কর্মকান্ডের তথ্য-প্রমাণ চেয়ারপারসনের হাতে থাকলেও কিছুই করতে পারছেন না তিনি। যদিও কাউন্সিলের আগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু অজানা এক আশঙ্কায় দল থেকে বাদ দিতে পারেননি তাদের। উল্টো সব পক্ষকে নিয়ে কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করেন দলীয় প্রধান। নতুন কমিটি দিয়ে সংকট উত্তরণের আশা করা হয়েছিল। কিন্তু ঘুরেফিরে সেই পুরনো বৃত্তেই ফিরে যাচ্ছে দল। তাই হাঁক-ডাক দিয়ে অনেক কিছু করার চিন্তা করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি বলে মনে করছেন এ ধারার বিশ্লেষকরা।

বিএনপির রাজনীতি কোন দিকে, এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির রাজনৈতিক বিশ্লেষক কাজী সিরাজ বলেন, দলে আশা জাগাবে এমন কমিটির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা করতে ব্যর্থ হয়েছেন বলা যায়। কেননা দলের ভেতর কট্টর অংশের নেতারা দলের মূল হালটা ধরেছেন। এবারের কমিটিতে মুক্তিযোদ্ধা নেতারা কোণঠাসা আছেন। তা ছাড়া যুদ্ধাপরাধী পরিবারের প্রভাবপুষ্ট রাজনীতির দিকে হাঁটছে দল। অন্যদিকে যারা বিএনপি থেকে সরকারের সঙ্গে আঁতাত করছেন, এমন নেতারা ভালো অবস্থান নিয়েছেন। তাদের চিহ্নিত না করার কারণে আরো বেশি উৎসাহিত হবেন তারা। এমনটা খুব স্বাভাবিক।

বিএনপির দুদফা আন্দোলনে দলের সিনিয়র বেশ কিছু নেতার বিরুদ্ধে সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগ ওঠে সে সময়। অভিযোগ আছে, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের আগে সারা দেশে সরকারের বিরুদ্ধে তুমুল আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করা গেলেও ঢাকার চিত্র ছিল উল্টো। সে সময়কার অবস্থার প্রেক্ষাপটে প্রয়াত সাংবাদিক এ বি এম মূসা একটি অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কি ঢাকার প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন? সে সময় তৃর্ণমূল থেকে দলের নেতারা ব্যাপকভাবে অভিযোগ করছিলেন, কিছু নেতা সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে আন্দোলনকে নষ্ট করেছে। নাটোর জেলার সভাপতি রুহুল কুদ্দুছ তালুকদার দুলু প্রকাশ্যে বলেছিলেন, এসির ভেতর বসে সরকারের সুনজরে থেকে আন্দোলন সফল করা যায় না। একইভাবে কুড়িগ্রাম বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আন্দোলনে জোরালো ভূমিকা রাখলেও তিনি ঢাকার নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করেন। তা ছাড়া চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িত অনেকের বিরুদ্ধে সরকারের গোয়েন্দাদের হয়ে কাজ করার অভিযোগ অনেক পুরনো।

অন্যদিকে মোটা দাগে অভিযোগ আছে, দলের কমিটিতে এবার প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিরাপদ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তারা অনেকেই জামায়াতের প্রভাবে বিএনপির রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠিত। জামায়াত প্রশ্নে এ অংশের নেতারা অনেকটা কট্টর। এমন নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটির খসড়া চূড়ান্ত হওয়ায় হতাশা বেড়েছে সর্বত্র। অভিযোগ আছে, চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বলয়ের নিয়ন্ত্রণ বেড়েছে। আর এ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গোয়েন্দা যোগসাজশ থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তিনি ১/১১-এর পর চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে একটি বিশেষ সংস্থা থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছিলেন বলে কথিত আছে। এখন তিনি পূর্ণনিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন চেয়ারপারসন অফিসের। তার জানার বাইরে কেউ চেয়ারপারসন পর্যন্ত দেখা করতে বা কথা বলতে পারেন না। জানা যায়, কী কারণে দেখা করতে চান তা আগে ওই কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা দিতে হয়। তাই ইচ্ছা থাকলেও কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলতে পারছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, এ কর্মকর্তা এতটাই চতুর যে, তিনি সব সময় চেয়ারপারনের কানে কানে কান কথা বলে এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। তার কারণে এবারের কমিটিতে হ-য-ব-র-ল অবস্থার তৈরি হয়েছে। তার পছন্দ নয় এমন নেতাদের জুনিয়রদের নিচে নাম বসিয়ে অপমান করেছেন তিনি। এসব কাজকে জায়েজ করার জন্য তিনি সঙ্গ নিয়েছেন রুহুল কবির রিজভীকে। চেয়ারপারসনের কাছে রিজভীকে অনন্য ত্যাগী নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন তার নিজের স্বার্থে। তারা দুজনে মিলে বর্তমানে চেয়ারপারনের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন।

এমন পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সম্প্রতি খালেদা জিয়ার কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন দলের হিতাকাক্সক্ষী জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি চেয়ারপারসনকে দলের সব পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে পরামর্শ দিয়েছেন চিঠিতে। বলেছেন তার দেখাশোনার জন্য এক বা দুজন মহিলা কর্মচারীকে নিয়োগ দিতে।

তা ছাড়া দলের জন্য এমন কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন যা পালন করলে দল হিসেবে বিএনপি ক্ষত পুষিয়ে নিতে পারবে। ঘুরে দাঁড়াবে। চেয়ারপারসন অফিসের এমন সংস্কার প্রস্তাবসংবলিত খোলা চিঠির বাস্তবায়নের পক্ষে-বিপক্ষে জোরালো অবস্থান তৈরি হয়েছে বলে জানায় একটি সূত্র। সূত্র বলছে, একটি পক্ষ চায়, চেয়ারপারসন যাতে জাফরুল্লাহর খোলা চিঠিমতো এগোতে না পারেন। আবার অন্যপক্ষের নেতারা গুলশান অফিসের শক্তিশালী বলয়ের বাঁধ ভাঙতে চান। তারা চেয়ারপারসনকে চিঠির বিষয়ে মনোযোগ দিতে পরামর্শ দিয়েছেন।

একদিকে জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার ডাকে হঠাৎ পিছুটান, খালেদার মামলার সাজাÑএসব নিয়ে দল যখন সিদ্ধান্তহীনতায়, ঠিক তখন জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা পদক ফিরিয়ে নিচ্ছে সরকার এমন খবরে আরো বেশি খেই হারিয়ে ফেলেছে দলটি। এই সবকিছু মিলিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে হতাশার চিত্র প্রকট হয়ে উঠেছে কি না জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেন, বিএনপিকে আপনি যেভাবে দেখছেন তা হয়তো আপনার দৃষ্টিতে ঠিক আছে। কিন্তু আপনাকে বলতে চাই, সরকার গণতন্ত্রকে বিসর্জন দিয়ে যেভাবে স্বৈরাচারী আচরণ করছে তাও একটু দেখা দরকার। তিনি আরো যোগ করে বলেন, এরশাদের ৯ বছরের স্বৈরাচারী শাসনামলে ১০৯ জনের মতো মানুষ আন্দোলনে মারা গেছে। আর এ সরকার এক দিনে মেরেছে ৫০০ জনের বেশি। দেখবেন বিএনপি সঠিক সময়ে ঠিকই ঘুরে দাঁড়াবে। সেদিন বেশি দূরে নয়, সরকারের কর্মকা-ে তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

 

 

লাস্টনিউজবিডি/এমবি

Print Friendly, PDF & Email

You must be logged in to post a comment Login

পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >

আপনি কি মনে করেন বাসে আগুন দিয়ে কি সরকার পরিবর্তন করা যাবে ?

View Results

Loading ... Loading ...
আর্কাইভ
মতামত
যুবলীগের নতুন নেতৃত্বঃ পরশের পরশ ছোঁয়ায় জেগে উঠুক কোটি তরুণ
।।মানিক লাল ঘোষ।।"আমার চেষ্টা থাকবে যুব সমাজ যেনো...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
সফল হওয়ার গল্প, সাফল্যের পথ
।।আলীমুজ্জামান হারুন।। ১৯৮১ সালে যখন নিটল মটরসের য...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • জাহাঙ্গীর হত্যা মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতার
  • বোরকা কিনে দেওয়ার কথা বলে কলেজছাত্রীকে হোটেলে নিয়ে ধর্ষণ
  • অবশেষে ডি‌সির আশ্বা‌সে ঘর পা‌চ্ছেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা

আপনি কি মনে করেন বাসে আগুন দিয়ে কি সরকার পরিবর্তন করা যাবে ?

  • না (65%, ১৩ Votes)
  • হ্যা (25%, ৫ Votes)
  • মতামত নাই (10%, ২ Votes)

Total Voters: ২০

Start Date: নভেম্বর ১৩, ২০২০ @ ২:৫৪ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

How Is My Site?

  • Good (0%, ০ Votes)
  • Excellent (0%, ০ Votes)
  • Bad (0%, ০ Votes)
  • Can Be Improved (0%, ০ Votes)
  • No Comments (100%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: নভেম্বর ১৩, ২০২০ @ ২:৫৪ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry