Wednesday, 24th August , 2016, 01:48 pm,BDST
Print Friendly, PDF & Email

প্রথম নারী এসআই নিয়োগ পেয়ে আলোচনায় প্রিথিকা ইয়াসিনি


লাস্টনিউজবিডি, ২৪ আগস্ট, ডেস্ক:  নানা ঘাত-প্রতিঘাতের পর ভারতের প্রথম নারী সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) হওয়ার গৌরব অর্জন করেলেন প্রিথিকা ইয়াসিনি নামের এক হিজড়া।সাব-ইন্সপেক্টর হওয়ার রাস্তাটা খুব সহজ ছিল না প্রিথিকা ইয়াসিনির। হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের হওয়ায় আইনি লড়াই করতে বেশির ভাগ সময় তাকে আদালতে থাকতে হতো।

তার এই সফলতার পর অনেক সংবাদ মাধ্যম তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে। তার সংগ্রামের কথা শুনেছে। সম্প্রতি ভারতের প্রায় সব পত্রিকায় ফলাও করে প্রিথিকা ইয়াসিনির নাম ঘোষণা করা হচ্ছে। তবে এতে তিনি একটুও বিচলিত নন। কারণ তিনি এত বেশি মিডিয়া ও আদালতের মুখোমুখি হয়েছেন যে এগুলো তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। আগে কোনো হিজড়া ভাবতেই পারতেন না যে ভারতের ইতিহাসে ‘খাকি’ পরে কেউ পুলিশ বাহিনীতে যোগ দিতে পারবেন। প্রিথিকা ইয়াসিনির পর তার হিজড়া সম্প্রদায়ের আশার আলো জ্বলে উঠেছে। প্রিথিকাকে দেখে তারাও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন। একদিন তারাও প্রিথিকার মত পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেবেন।

এই মানুষ্য সমাজের দিকে তাকিয়ে বিদ্রুপ হাসি হেসে প্রিথিকা বলেন, ‘আমি আমার (পুলিশের) পোশাক পরতে লজ্জাবোধ করি না। আপনি চিন্তা করতে পারেন? আমিই প্রথম হিজড়া যে সাব-ইন্সপেক্টরের পোশাক পরেছি। এর আগে সাব-ইন্সপেক্টর হওয়াতো দূরের কথা মানুষ হিসেবে নিজের অধিকারটুকুও পেতাম না।’

অন্যদের মত প্রিথিকার জীবনটা সহজ ছিল না। অন্যরা যখন সুন্দর জীবনযাপন করছে, প্রিথিকা তখন আদালতে আদালতে জেরা করে বেড়াচ্ছেন। অবিরাম নিজের অধিকার আদায় করতে যুদ্ধ করে চলেছেন।

হিজড়া হয়ে জন্ম নেওয়ার পর থেকেই প্রিথিকার জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। তবে তাকে মূল যুদ্ধটি করতে হয়ে ২০১৫ সাল থেকে যখন তামিলনাড়ু ইউনিফর্ম সার্ভিস রিক্রুটমেন্ট বোর্ডে তিনি নারী সাব-ইন্সপেক্টর পদে আবেদন করলেন। কর্তৃপক্ষ তার নাম নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে প্রথম আবেদনটি বাতিল করে দেন। কারণ আবেদনপত্রে শুধু পুরুষ ও নারীর ক্যাটাগরি ছিল। কোনো হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের ক্যাটাগরি ছিল না। তাতে প্রিথিকা দমে যাননি। তিনি আদালতের মুখোমুখি হলেন। ভবাণী সুবারায়ন নামের এক উকিলের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করে তার সাহায্য নিলেন। আদালত তার আবেদন গ্রহণ করলেন এবং তাকে নারী সাব-ইন্সপেক্টর পদে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দিলেন।

মেধাবী প্রিথিকা সেই পরীক্ষায় পাস করলেন এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাক পেলেন। এবার মৌখিক পরীক্ষাও ভালো করলেন প্রিথিকা। তার কিছুদিন পর ফলাফল ঘোষণা করা হলো। সরকার তাকে তামিলনাড়ুর নারী সাব-ইন্সপেক্টর পদের জন্য সুপারিশ করলেন। প্রতিটি পদক্ষেপই ছিল প্রিথিকার জন্য জীবনযুদ্ধ। চেন্নাইয়ের এক রুমের একটি ফ্ল্যাট নিয়ে থাকেন।

কথা বলার সময় বার বার নিজের হাতে থাকা মোবাইলের দিকে তাকাচ্ছিলেন প্রিথিকা আর কি যেন ভাবছিলেন। হইতো ছোটবেলার স্মৃতিগুলো মনে পড়ছে তার। আর্থিক অস্বচ্ছল পরিবারে কতই না আদর যত্নে বড় করেছিলেন তার বাবা-মা। তখন তারা জানতেন না যে তার ছেলে বড় হয়ে হিজড়া হবে। তিনি নিজেরও জানতেন না। যখন তার বয়স ১২ কী ১৫ বছর হবে তখন প্রিথিকা নিজেকে আলাদা ভাবতে শুরু করেন। তিনি কোনোভাবেই নিজেকে ছেলে হিসেবে ভাবতে পারতেন না।

এদিকে, ছেলেকে ভালো করার জন্য কত কিছুই না করেছেন প্রিথিকার বাবা-মা। মন্দিরে পূজা দিয়েছেন, ডাক্তার ও কবিরাজের কাছে নিয়ে গেছেন যেন সন্তান সুস্থ হয়। কিন্তু তাতে কোনো কাজ হয়নি। প্রিথিকা যখন তার বিষয়টি পুরোপুরি জানতে পারলেন তখন বাবা-মায়ের বোঝা হয়ে থাকতে চাইলেন না। ২০১১ সালে পালিয়ে গেলেন চেন্নাই শহরে। সেখানে তার পরিচিত কেউ ছিল না। যোগাযোগের জন্য শুধু কয়েকটি মোবাইল নম্বর ছিল তার কাছে। ট্রেন থেকে নেমে চেন্নাইয়ের কেন্দ্রীয় রেলস্টেশনেই বসবাস শুরু করলেন।

ভারতে হিজড়াদের ভালো চোখে দেখা হয় না। কিছুদিন পর তিনি বুঝতে পারলেন সাধারণ মানুষ হিজড়াদের বাঁকা চোখে দেখলেও হিজড়ারা তাদের বাঁকা চোখে দেখে না। হিজড়ারা নিজেরা নিজেদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে, বন্ধুত্ব তৈরি করে। প্রিথিকাও কয়েকজন মেয়ের সঙ্গে বন্ধুত্ব করলেন এবং একটি নারী হোস্টেলে কাজ নিলেন।

প্রিথিকা কোনো সময় থেমে থাকেননি। জীবিকার তাগিদে একের পর এক নতুন কাজ করেছেন। অনেক চাকরি পরিবর্তন করেছেন তিনি। বাসা পরিবর্তন করেছেন। এখন দক্ষ অ্যাপ ডেভেলপার হিসেবে এক কোম্পানিতে কাজ করছেন। একজন হিজড়া হয়ে এত সম্মানের চাকরি করায় হিজড়া সম্প্রদায় প্রিথিকাকে নিয়ে গর্ববোধ করে।

প্রিথিকা এখন শুধু হিজড়া সম্প্রদায়ের কাছেই প্রিয়পাত্র নন ভারতসহ নানা দেশে তাকে ও তার জীবন নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

প্রিথিকা বলেন, ‘সাব-ইন্সপেক্টর হয়ে নিজেকে খুব দায়িত্ববান মনে হচ্ছে। এই সমাজের জন্য আমার অনেক কিছু করার আছে। আর আমার সম্প্রদায়ের জন্য আমি একজন উদাহরণ।’ সঠিকভাবে নিজ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এমন আশাই ব্যক্ত করেন প্রিথিকা।

এখানেই প্রিথিকার স্বপ্ন শেষ নয়। তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়ে ইন্সপেক্টর হতে চান। তবে সেটি খুব সহজ নয়। তার জন্য যত পরিশ্রম করা দরকার তিনি তা করতে রাজি আছেন। আর হিজড়াদের শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করতে চান তিনি। যুদ্ধ ও ত্যাগ স্বীকার করে এই পদে উঠেছেন। তিনি চান আর কোনো হিজড়াকে যেন এত কষ্ট করতে না হয়।

পড়াশোনায় খুবই মনযোগী প্রিথিকা। কাজের পর একটু সময় পেলেই বই নিয়ে বসে পড়েন। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে পড়াশোনা করতে পারেননি তিনি।

প্রিথিকা বলেন, ‘দিনের বেশির ভাগ সময়ই পড়াশোনার মধ্যে কাটাতাম। এমনকি আদালতে থাকার সময়েও পড়তাম। তবে কয়েক মাস ধরে একটুও পড়ার সুযোগ পাইনি। সেই পরীক্ষার আগে পড়েছিলাম। সেদিন রাত সাড়ে ১০টায় পরীক্ষার প্রবেশপত্র হাতে পেলাম। তারপর সারারাত ধরে পড়েছি। একটুও চোখের পাতা বন্ধ করিনি।’

 

 
লাস্টনিউজবিডি/এমবি

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed

youtube
app
পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >

অ্যালার্জি আছে এমন কারো করোনা টিকা নেওয়া উচিত নয় বলেছেন ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমএইচআরএ। আপনি কি এর সাথে একমত?

View Results

Loading ... Loading ...
আর্কাইভ
মতামত
হাঁ, আমরাও পারি
।।আজিজুল ইসলাম ভূইয়া।।এইতো সেদিনের কথা ৪ মে, ...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
সফল হওয়ার গল্প, সাফল্যের পথ
।।আলীমুজ্জামান হারুন।। ১৯৮১ সালে যখন নিটল মটরসের য...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • রংপুরে ভুয়া নারী ম্যাজিস্ট্রেট গ্রেপ্তার
  • চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবিতে রাজারহাটে মানববন্ধন
  • গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখালেন ঠাকুরগাঁওয়ের রাসেল

অ্যালার্জি আছে এমন কারো করোনা টিকা নেওয়া উচিত নয় বলেছেন ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমএইচআরএ। আপনি কি এর সাথে একমত?

  • হ্যা (61%, ৮৩ Votes)
  • না (25%, ৩৪ Votes)
  • মতামত নাই (14%, ১৯ Votes)

Total Voters: ১৩৬

Start Date: ডিসেম্বর ৯, ২০২০ @ ৮:২১ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি মনে করেন আসন্ন ‘বড় দিন’ মহামারির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আপনি কি তার এই মন্তব্যকে যথাযোগ্য মনে করেন?

  • হ্যা (0%, ০ Votes)
  • না (0%, ০ Votes)
  • মতামত নাই (100%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ৮, ২০২০ @ ২:০৩ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

জার্মানির বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, নাক দিয়েও মস্তিস্কে করোনা হানা দেয়। আপনি কি মনে করেন মস্তিস্কে করোনার আক্রমণ রক্ষার্থে মাস্ক ই যথেষ্ট?

  • হ্যা (75%, ৬ Votes)
  • না (13%, ১ Votes)
  • মতামত নাই (12%, ১ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ২, ২০২০ @ ৩:১৯ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

মডার্নার, ফাইজারের করোনা ভাইরাসের টিকার মধ্যে মডার্নার টিকার উপর কি আপনার আস্থা বেশি ?

  • মতামত নাই (100%, ১ Votes)
  • হ্যা (0%, ০ Votes)
  • না (0%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ২, ২০২০ @ ৯:১৯ পূর্বাহ্ন
End Date: No Expiry

মার্কিন টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্নার দাবি করেছেন অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর ওপর এ টিকা ১০০ শতাংশ কাজ করেছে। আপনি কি শতভাগ ফলপ্রসু মনে করেন?

  • হ্যা (100%, ১ Votes)
  • না (0%, ০ Votes)
  • মতামত নাই (0%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ১, ২০২০ @ ১২:৫১ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

 Page ১ of ২  ১  ২  »