একটু আশ্রয়ের খোঁজে পানিবন্দী হাজারো মানুষ
Tuesday, 23rd August , 2016, 11:37 am,BDST
Print Friendly, PDF & Email

একটু আশ্রয়ের খোঁজে পানিবন্দী হাজারো মানুষ



বদরুদ্দিন বাবুল, লাস্টনিউজবিডি, ২৩ আগস্ট, যশোর: হাজার হাজার লোক আসছে সারি বেধে উদভ্রান্তের মত। আবাল-বৃদ্ধ-বণিতা। যেন শরণার্থীর লাইন। তাদের হাতে সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র। আছে গবাদি পশুও। আশ্রয়ের জন্য ডাঙার খোঁজে বেরিয়েছেন তারা।

এসব আশ্রয়প্রার্থী মণিরামপুরের পানিবন্দি এলাকার। আছেন বিত্তহীন থেকে নিম্নবিত্ত কৃষক। উঁচু রাস্তার ধারে টং বেঁধে কোনো রকমে মাথা গোঁজার ঠাঁই করছেন তারা।

কিন্তু সেখানেও বিপত্তি। উজান থেকে নেমে আসা ঢল রাস্তা উপচে পড়ছে। ফলে দিন তো বটেই, রাতেও ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অনেককে।

বাঁশ, পলিথিন বা পাটকাঠির তৈরি অস্থায়ী ঘর অনিরাপদ হয়ে উঠছে। রয়েছে সাপ-পোকার ভয়। বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে এসব ঘরবাড়িছাড়া মানুষের।

দেড় সপ্তাহ আগের টানা বৃষ্টি যাদের ঘরছাড়া করেছিল তাদের অনেকেই ফিরে গিয়েছিলেন বাড়িতে। আবার অনেকের বাড়িতে পানি জমে থাকায় রাস্তার ধারের অস্থায়ী টংঘরেই ছিলেন। তাদের সঙ্গে এখন যোগ দিচ্ছেন আরো হাজারো মানুষ; রোববারের অতিবর্ষণ যাদের বাড়িঘর ডুবিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, অতিবৃষ্টিতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন মণিরামপুরের শ্যামকুড় এলাকার মানুষেরা। এই ইউনিয়নের এক চিলতে জমি শুকনো পাওয়া ভার। পানির মধ্যে বসবাস করার উপায় নেই। নলকূপ ডুবে যাওয়ায় খাবার পানির তীব্র সংকট। বাধ্য হয়ে তারা দলে দলে এসে উঠছেন উঁচু রাস্তায়। কোলের শিশু, তরুণী, গৃহবধূরাও ঘরছাড়া। কিন্তু সড়কে উঠে এসেও সবাই নিশ্চিন্তে থাকতে পারছেন না।

যশোর-চুকনগর সড়কের চিনাটোলা বাজার থেকে কেশবপুর পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার রাস্তার ওপর দিয়ে স্রোত বইছে। রাস্তার ওই অংশে আশ্রয় নেওয়া মানুষেরা রাতেও ঘুমাতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে অনেকে পাততাড়ি গুটিয়ে নতুন আশ্রয়ের সন্ধান করছেন।

সোমবার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার ওপর হাঁটু সমান পানি থাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। যাত্রীবাহী বাসগুলো চিনাটোলা বাজারে পৌঁছে যাত্রী নামিয়ে দিচ্ছে। ফলে জেলা সদর যশোরের সঙ্গে কেশবপুরের সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কেশবপুর থেকে কাউকে যশোর শহরে আসতে বা যশোরের দিক থেকে কেশবপুরে যেতে মাঝখানের কয়েক কিলোমিটার পানি ভেঙে হেঁটে বা রিকশাভ্যানে চলাচল করতে হচ্ছে।

সোমবার বিকেলে চিনাটোলা বাজার এলাকায় স্থানীয়দের রাস্তায় জাল দিয়ে মাছ শিকার করতে দেখা গেছে।

সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, রোববারের বৃষ্টিতে মণিরামপুরের ১৭টির মধ্যে ১৩টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। এদের মধ্যে শ্যামকুড়, হরিদাসকাটি, কুলটিয়া, নেহালপুর, মনোহরপুর, চালুয়াহাটি- এই ছয় ইউনিয়নের ৮০ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তবে সবচে’ দুরাবস্থা শ্যামকুড় ইউনিয়নের। গোটা ইউনিয়নই পানিবন্দি। এই ইউনিয়নের প্রায় আড়াই হাজার পরিবার মালসামানা নিয়ে রাস্তায় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে উঠেছে।

শ্যামকুড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের প্রায় দশ হাজার পরিবার পানিবন্দি। সোমবার পর্যন্ত সরকারিভাবে ১২ টন চাল বরাদ্দ হয়েছে; যা এক হাজার ২০০ পরিবারের দুই দিনের খাবার। বাকি আট হাজার পরিবার কার্যত অনাহারে রয়েছে।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লুৎফর রহমান জানান, দ্বিতীয় দফার বৃষ্টিতে ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করা এখনো সম্ভব হয়নি। তবে দেড় সপ্তাহ আগে প্রথম দফা বৃষ্টিতে সাত হাজার ১৩ হেক্টর মৎস্য জমি ও চার হাজার ৮৫০ হেক্টর কৃষিজমিসহ মোট ১২ হাজার হেক্টর জমি প্লাবিত হয়েছে। এক্ষেত্রে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৫০ কোটি টাকার। তবে সার্বিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশংকা করছেন।

এছাড়া উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন পানিবন্দি হয়ে পড়ায় স্কুল, মাদরাসা ও কলেজসহ ৮৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানান পিআইও।

পানি বাড়তে থাকলে কয়েকদিনের মধ্যে জলাবদ্ধ হয়ে আরও ২০-২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

লাস্টনিউজ/এমএইচ

Print Friendly, PDF & Email

You must be logged in to post a comment Login

পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >

আপনি কি মনে করেন বাসে আগুন দিয়ে কি সরকার পরিবর্তন করা যাবে ?

View Results

Loading ... Loading ...
আর্কাইভ
মতামত
যুবলীগের নতুন নেতৃত্বঃ পরশের পরশ ছোঁয়ায় জেগে উঠুক কোটি তরুণ
।।মানিক লাল ঘোষ।।"আমার চেষ্টা থাকবে যুব সমাজ যেনো...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
সফল হওয়ার গল্প, সাফল্যের পথ
।।আলীমুজ্জামান হারুন।। ১৯৮১ সালে যখন নিটল মটরসের য...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • বিরল প্রজাতির শুকুন পাখি উদ্ধার
  • চিকিৎসা সামগ্রী চুরি, হাতেনাতে ধরা খেলেন হাসপাতালের কর্মচারী
  • রুহিয়া এলএসডিকে জমি দান করলেন এমপি রমেশ চন্দ্র

আপনি কি মনে করেন বাসে আগুন দিয়ে কি সরকার পরিবর্তন করা যাবে ?

  • না (67%, ১৪ Votes)
  • হ্যা (24%, ৫ Votes)
  • মতামত নাই (9%, ২ Votes)

Total Voters: ২১

Start Date: নভেম্বর ১৩, ২০২০ @ ২:৫৪ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

How Is My Site?

  • Good (0%, ০ Votes)
  • Excellent (0%, ০ Votes)
  • Bad (0%, ০ Votes)
  • Can Be Improved (0%, ০ Votes)
  • No Comments (100%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: নভেম্বর ১৩, ২০২০ @ ২:৫৪ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry