•  বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা  •     •  আন্দোলনের নামে বাড়াবাড়ি জনদুর্ভোগ বাড়াবে এটা তাদের বোঝা উচিত: প্রধানমন্ত্রী  •     •  ৪২তম বিসিএসের নন-ক্যাডারে নিয়োগের ফল প্রকাশ  •     •  ১৫ আগস্ট জিয়াউর রহমান কেন সুটেড বুটেড ছিলেন, প্রশ্ন তথ্যমন্ত্রীর  •     •  ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫০ লাখ পরিবার পাবে ১৫ টাকা দরে চাল  •     •  সবচেয়ে বেশি নিরাপত্তা ঝুঁকিতে প্রধানমন্ত্রী: ডিএমপি কমিশনার  •     •  অভিযানে কড়াকড়, ৯০ বাসে ৩ লাখের বেশি জরিমানা  •     •  সুইস ব্যাংকের তথ্য চেয়ে ‘৩ বার চিঠি দিয়েছিল’ বাংলাদেশ ব্যাংক  •     •  ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান  •     •  আজ ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান  •     •  এবার পুলিশ কর্মকর্তাদের গাড়ির তেলের বরাদ্দ কমল  •     •  বিএনপির পেট্রোলবোমা সন্ত্রাসীরা মাঠে নেমেছে, প্রতিরোধ করতে হবে-তথ্যমন্ত্রী  •     •  হাইকোর্টের নতুন আইনজীবী হলেন ৩ হাজার ৫২ জন  •     •  নেতাকর্মীদের দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা না বলার আহ্বান কাদেরের  •     •  কাল ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান  •     •  দুপুরে গুচ্ছভুক্ত বি-ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা  •     •  অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে চা শ্রমিকরা  •     •  গ্যারেজে বিস্ফোরণ: দগ্ধ আটজনেরই মৃত্যু  •     •  রাজধানীতে আজকের লোডশেডিং শিডিউল  •     •  ব্যাংকের শাখায় শাখায় বেচাকেনা হবে নগদ ডলার  •  
Friday, 24th June , 2022, 10:03 am,BDST
Print Friendly, PDF & Email

পদ্মা সেতু: সক্ষমতা, সম্ভাবনা ও বিজয়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ।


। । ড. মো. কামরুজ্জামান।।

২০৩০ সালের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছে ইতোমধ্যে। উন্নয়নের এই অগ্রযাত্রায় ভবিষ্যতে আরও অর্জনের পথ খুলে দিতে নতুন করে যুক্ত হয়েছে বহুল আকাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ তার ৫০তম জন্মদিন, গৌরব ও গর্বের সঙ্গে উদযাপন করেছে। ২৫ জুন স্মরণীয় আরেক উদযাপনে পদ্মা সেতু উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, যা বাংলাদেশের উন্নয়নের ইতিহাসে এক মাইলফলক হতে যাচ্ছে।

পদ্মা সেতুর মূল অংশের দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। দুই প্রান্তের উড়ালপথের দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৬৮ কিলোমিটার। সব মিলিয়ে সেতুর দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার। স্বপ্নের এ পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় প্রায় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা। আর সেতুর সঙ্গে যুক্ত রেললাইন ঘিরে রাজধানী ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত চলমান রেল লিঙ্ক প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৯ হাজার ২৪৬ কোটি টাকা। নানাবিধ অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার নিজেদের অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মানের ঘোষণা দিয়েছিল। সরকার সেই পদ্মা সেতু নিজেদের অর্থে নির্মাণ করে প্রমাণ করেছে মানষিক দৃঢ়তার।

বিশ্বের অন্যতম খরস্রোতা পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে নান্দনিক সেতু। কোনো উন্নয়নশীল দেশ নিজস্ব অর্থায়নে এমন দৃষ্টিনন্দন ও টেকসই স্থাপনা নির্মাণ করতে পারে, তা এক সময় ভাবতেও পারত না বিশ্বের উন্নত দেশগুলো। কিন্তু, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অদম্য আত্মবিশ্বাস, দূরদর্শী পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে আজ তা বাস্তবে পরিণত হয়েছে। এই বিশাল পরিমাণ অর্থের জোগান ও সেতু নির্মাণ আমাদের আর্থিক সক্ষমতা ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

খুলে দেবে সম্ভাবনার দুয়ার

পদ্মা সেতু আমাদের জন্য উন্মোচন করেছে অপার সম্ভাবনার দুয়ার। এই সেতু নির্মাণের ফলে দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নদীবেষ্টিত ভূখণ্ড সরাসরি রাজধানীর সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে। পদ্মা সেতু যেমন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের প্রায় ৫ কোটি মানুষের জীবনে অর্থনৈতিক সুবাতাস বয়ে আনবে, তেমনি কমপক্ষে এক দশমিক পাঁচ শতাংশ জাতীয় আয় বৃদ্ধিও নিশ্চিত করবে। ফলে, লাভবান হবে দেশের সব মানুষ। প্রসার ঘটবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন শিল্পের। ভবিষ্যত বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই সেতুর প্রভাব হবে অনেক। বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় ও অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানসহ সবকিছু মিলিয়ে পদ্মা সেতু দক্ষিণের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে অনন্য উচ্চতায়।

এরই মধ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে ওই অঞ্চলের অনেক স্থানেই। দৃষ্টি ফেরালেই দেখা যায়, কিছুদিন আগে যেখানে ছোট ছোট দোকানপাট ছিল সেখানে এখন গড়ে উঠেছে বহুতল ভবন। বিপণিবিতান, ব্যাংক-বিমা, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ শত শত প্রতিষ্ঠানের গোড়াপত্তন হয়েছে। মুন্সীগঞ্জের লৌহজং ও শ্রীনগর পাশাপাশি দুটি উপজেলা ও শরীয়তপুরের জাজিরা এবং মাদারীপুরের শিবচরসহ চার উপজেলায় বড় রকমের অবকাঠামোগত পরিবর্তন সুস্পষ্ট। মাওয়া পয়েন্টকে কেন্দ্র করে তৈরি হচ্ছে নতুন নগরায়ন, দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীসহ হাজার হাজার শ্রমিক কর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হচ্ছে দক্ষিণের এ জনপদ।

প্রসার ঘটাবে পর্যটন শিল্পের

পর্যটন শিল্প ও বাণিজ্যের উন্মেষ এবং অগ্রযাত্রার গতি তরান্বিত হচ্ছে এ সেতুকে কেন্দ্র করে। বরিশাল অঞ্চলের ২১টি জেলাকে পদ্মা নদী আলাদা করে রেখেছিল রাজধানী তথা সারা দেশ থেকে। যে কারণে এতদিন কুয়াকাটাসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে পর্যটন শিল্পে বিনিয়োগের গতিও ছিল অত্যন্ত মন্থর। ফলে রাজধানী থেকে খুব কাছে থেকেও কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত পর্যটকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারেনি এতদিনেও। আবার ঢাকা থেকে মাত্র ২৬৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থান কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের। এ সৈকত এলাকায় কিছু হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁ গড়ে উঠলেও সেগুলোতে পেশাদারত্বের প্রকট অভাব এখনো পরিলক্ষিত হচ্ছে। পদ্মা সেতু চালু হলে ৪-৫ ঘণ্টায় রাজধানী থেকে কুয়াকাটা পৌঁছানো সম্ভব হবে। আর তখন পর্যটকদের ভিড়ে মুখরিত হবে এই সমুদ্র সৈকত।

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত ছাড়াও নতুন পর্যটনস্থল হিসেবে অনেক দর্শনীয় স্থান রয়েছে পদ্মার দক্ষিণ পারে। পিরোজপুরে অবস্থিত স্বরূপকাঠির জলের রাজ্যে পেয়ারা বাগান ঘিরে গড়ে উঠতে পারে সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্র। এ ছাড়া বরগুনার তালতলীতে শুভ সন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত এবং টেংরাগীরি বনাঞ্চল, পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীতে জাহাজ মারা সৈকত, গলাচিপার কলাগাছিয়া সাগর পাড়, পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার হরিণপালা এবং বরগুনার পাথরঘাটার হরিণঘাটা ইত্যাদিও হয়ে উঠতে পারে পর্যটন শিল্পের কেন্দ্রবিন্দু। অপার সম্ভাবনা আর ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরপুর এ রকম আরও অসংখ্য স্থাপনা বুকে ধারণ করে আছে এ অঞ্চল।

পদ্মা নদী পাড়ি দেওয়ার ঝক্কি এড়াতে অনেকেই আসতে চাইতেন না দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই ২১ জেলায়। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এভাবে যুগের পর যুগ পিছিয়ে থাকার সেই কষ্ট দূর হচ্ছে এবার। উদ্বোধন হচ্ছে দেশের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এই সেতুকে ঘিরে তাই এখন শিল্প-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে নববিপ্লবের স্বপ্ন দেখছে বরিশাল ও খুলনা অঞ্চলের মানুষ। পুরোদমে চলছে সম্ভাবনার নতুন ভুবনে প্রবেশের প্রস্তুতি। সেতু চালু হলে এসব উপকূলীয় এলাকায় বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমন ঘটবে। সেই সঙ্গে প্রতিষ্ঠা পাবে নতুন নতুন পর্যটনকেন্দ্রগুলো।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালুর মধ্য দিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে তথা কৃষি, শিল্প, সেবাসহ অর্থনৈতিক সম্মৃদ্ধির অসংখ্য দ্বার উন্মোচিত হবে। যেহেতু ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের তুলনায় পায়রা বন্দরের দূরত্ব অর্ধেক সেহেতু এ সমুদ্রবন্দর থেকে রাজধানীতে পণ্য পৌঁছাতে সময় লাগবে তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর নিঃসন্দেহে বাড়বে পটুয়াখালির পায়রা বন্দরের গুরুত্ব। একইসঙ্গে গুরুত্ব বাড়বে বাগেরহাট জেলায় অবস্থিত মোংলা বন্দরেরও। কেননা পদ্মা সেতুর কারণে মোংলা থেকেও খুব কম সময়ে আমদানি পণ্য পৌঁছে যাবে রাজধানী ঢাকায়। এই সেতুর কারণে কৃষিপণ্য খুব সহজেই বাজারজাত করতে পারবে এ অঞ্চলের কৃষকগণ যা কৃষিদ্রব্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে অন্যতম মাইলফলক হবে। সেই সাথে শিল্পপণ্য খুব সহজেই প্রান্তিক বাজারে প্রবেশ করবে এবং ভোক্তাদের কাছে স্বল্প মূল্যে পণ্য সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে আরও গতি সঞ্চার হবে।

অর্থনীতিতে আসবে সাফল্য

দেশের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও দেখা যাবে দৃশ্যমান পরিবর্তন। সমীক্ষা বলছে, পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশের মোট জিডিপি (দেশজ উৎপাদন) ১.২৩ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বাড়বে ২.৩ শতাংশ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, বর্তমানে পদ্মার ওপারের ২১টি জেলার ১৩৩টি উপজেলার মধ্যে ৫৩টি উপজেলা উচ্চ দারিদ্র্য ঝুঁকিতে আছে যেগুলির মধ্যে ২৯টি বরিশাল বিভাগের অন্তর্ভূক্ত। এ ছাড়া ৪২টি উপজেলা মধ্যম দারিদ্র্য এবং ৩৮টি নিম্ন দারিদ্র্য ঝুঁকিতে আছে। পদ্মা সেতু প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং ব্যাবস্যা-বাণিজ্যের উন্নতির মধ্য দিয়ে উল্লিখিত দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

যেই পদ্মা সেতুকে কেন্দ্র করে অপার উন্নতির সম্ভাবনা, সম্মৃদ্ধি, আশা-আকাঙ্ক্ষা, স্বপ্ন, প্রাপ্তি, সেগুলো অর্জন করা সহজেই সম্ভব হয়নি। ভুয়া দুর্নীতির অভিযোগ তুলে দেশের ব্যক্তিবিশেষের প্ররোচনায় বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু নির্মাণ প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছিল। এরকম শত বাধা-বিপত্তি, ষড়যন্ত্র, বৈদেশিক অসহযোগীতা স্বত্বেও বর্তমান সরকার নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের মতো এত বড় চ্যালেঞ্জ নিয়ে সেতু নির্মাণের কাজ সম্পন্ন করেছে। ফলে এ সেতু নির্মানের মধ্য দিয়ে সমালোচনাকারীদের জন্য সৃষ্টি হয়েছে একটি সমুচিত জবাব। এটিও নিঃসন্দেহে আমাদের জাতীয় জীবনে একটি উল্লেখযোগ্য বিজয়।

পদ্মা পাড়ের মানুষদের প্রতিক্ষার দিন শেষ হচ্ছে

পদ্মা সেতুর বিশাল কর্মযজ্ঞ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘ দিনের আশা-আকাঙ্ক্ষা আর স্বপ্নের বাস্তবায়ন। বহু প্রতীক্ষিত সেতু খুলে দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে, এই সংবাদটি আমাদের জন্য বিশেষ করে পদ্মা পাড়ের মানুষের জন্য অত্যান্ত গৌরবের। পদ্মা তীরের মানুষ আজ আনন্দে আত্মহারা, উচ্ছ্বসিত। গণমানুষের এই আবেগের জায়গাকে মূল্যায়ন করেই আমরা মনে করি, দেশের মানুষের কাছে পদ্মা সেতু যোগাযোগের জন্য শুধুমাত্র একটি স্থাপনা নয়, এটি এখন বাঙালি জাতি তথা বাংলাদেশের গর্ব, আত্মমর্যাদা ও অহংকারের প্রতীক। তাই পদ্মা সেতু নির্মাণের কৃতিত্ব প্রতিটি বাঙালির, আপনার-আমার-আমাদের সকলের।

পেছনে ফিরে যাই

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালির বিজয়ের পেছনে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঐতিহাসিক ছয় দফা, উনসত্তরের গণআন্দোলন, সত্তরের নির্বাচন, একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন, ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ ও বঙ্গবন্ধুর ডাকে দেশের আপামর জনমানুষের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ। ঠিক তেমনি পদ্মা সেতু বাস্তবায়নের পেছনেও রয়েছে অনেক ঘটনার পরম্পরা। যেমন ১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ, গনতন্ত্রকে সুসংহত করা, দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা বিরোধীদের সরিয়ে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসা, দেশের মাটিতে মানবতা বিরোধী অপরাধীদের বিচার করা, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করা ও সর্বপরি দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে অভূতপূর্ব উন্নয়ন। কেননা এ অর্জনগুলোর মূলে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অসীম সাহস, প্রজ্ঞা ও দূরদর্শী একক নেতৃত্ব যা তাকে সেতুকেন্দ্রীক তথাকথিত বহুমাত্রিক রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে পদ্মা সেতু নির্মানসহ অন্য মেগা প্রজেক্টগুলোও বাস্তবায়ন হতে চলেছে, যা উন্নত বিশ্বের কাছে এক অপার বিস্ময়।

তাই পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন বাংলাদেশের ও বাঙালির জন্য একটি ঐতিহাসিক বিষয়। দেশবাসী আনন্দিত যে অসংখ্য মানুষ এটি উদযাপন করতে যাচ্ছে যা একদিন বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বর্ণীল অংশ হয়ে থাকবে। এ দিনের স্মৃতিগুলো পদ্মা পাড়ে সদ্য গড়ে ওঠা নতুন কোনো শহরের প্রতিষ্ঠিত যাদুঘরে আগামী প্রজন্মের জন্য প্রদর্শিত হবে। জাদুঘরটি হবে আমাদের অতীত ও ভবিষ্যতের সেতুবন্ধন। বিস্ময়কর পদ্মা সেতু বাঙালির সাফল্যের প্রতীক হয়ে থাকবে।

ড. মো. কামরুজ্জামান: অধ্যাপক, ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। কোষাধ্যক্ষ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

আপনার মতামত দিন
Print Friendly, PDF & Email
youtube
youtube
পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
islame bank
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভিসা প্রথা তুলে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, আপনি কি একমত ?

View Results

Loading ... Loading ...
আর্কাইভ
IBBL-Web-Ad-Option-6.gif
মতামত
শোকের মাসে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর নিয়ে কিছু কথা
বাংলাদেশে আগস্ট শোকের মাস। এ মাসে বাঙালির হৃদ...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • হাসপাতাল থেকে নারী চিকিৎসকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
  • ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে এমপি শিবলী সাদিক, বিরামপুর প্রেসক্লাবের নিন্দা
  • মেয়েকে হত্যার পর মাটি চাপা, নিজেই করলেন মামলা

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভিসা প্রথা তুলে দেওয়া উচিত বলে মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, আপনি কি একমত ?

  • হ্যা (66%, ১০০ Votes)
  • না (29%, ৪৪ Votes)
  • মতামত নাই (5%, ৮ Votes)

Total Voters: ১৫২

Start Date: ডিসেম্বর ৬, ২০২১ @ ১০:১৮ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

অ্যালার্জি আছে এমন কারো করোনা টিকা নেওয়া উচিত নয় বলেছেন ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমএইচআরএ। আপনি কি এর সাথে একমত?

  • হ্যা (59%, ১০৭ Votes)
  • না (26%, ৪৭ Votes)
  • মতামত নাই (15%, ২৬ Votes)

Total Voters: ১৮০

Start Date: ডিসেম্বর ৯, ২০২০ @ ৮:২১ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি মনে করেন আসন্ন ‘বড় দিন’ মহামারির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আপনি কি তার এই মন্তব্যকে যথাযোগ্য মনে করেন?

  • হ্যা (0%, ০ Votes)
  • না (0%, ০ Votes)
  • মতামত নাই (100%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ৮, ২০২০ @ ২:০৩ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

জার্মানির বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, নাক দিয়েও মস্তিস্কে করোনা হানা দেয়। আপনি কি মনে করেন মস্তিস্কে করোনার আক্রমণ রক্ষার্থে মাস্ক ই যথেষ্ট?

  • হ্যা (75%, ৬ Votes)
  • না (13%, ১ Votes)
  • মতামত নাই (12%, ১ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ২, ২০২০ @ ৩:১৯ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

মডার্নার, ফাইজারের করোনা ভাইরাসের টিকার মধ্যে মডার্নার টিকার উপর কি আপনার আস্থা বেশি ?

  • মতামত নাই (100%, ১ Votes)
  • হ্যা (0%, ০ Votes)
  • না (0%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ২, ২০২০ @ ৯:১৯ পূর্বাহ্ন
End Date: No Expiry

 Page ১ of ৩  ১  ২  ৩  »