জঙ্গিরা রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিচ্ছে
Sunday, 3rd July , 2016, 12:51 am,BDST
Print Friendly, PDF & Email

জঙ্গিরা রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিচ্ছে



লাস্টনিউজবিডি, ০৩ জুলাই, নিউজ ডেস্ক: কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই রাজধানীর কূটনৈতিক পাড়া গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে সশস্ত্র জঙ্গি হামলার ঘটনায় ‘অবাক’ হয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক ও ব্রি. জেনারেল (অব) এম সাখাওয়াত হোসেন।

তারা মনে করেন, রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিচ্ছে জঙ্গিরা। জঙ্গিরা যে মিশন নিয়ে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় প্রবেশ করেছিল তাতে তারা ‘সফল’ হয়েছে। তারা সুইসাইড মিশন নিয়েই সেখানে গিয়েছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে সাখাওয়াত হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আইএসের পক্ষ থেকে রাতেই জানানো হলো- হামলার ঘটনায় ২৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। পরদিন ‘অপারেশন থান্ডার বোল্ট’ অভিযানের পর আইএসপিআর-এর পক্ষ থেকেও একই তথ্য জানানো হলো (এই ২৮ জনের মধ্যে ২০জন বিদেশী নাগরিক, দুজন পুলিশ অফিসার এবং ছয়জন জঙ্গি)। এতেই প্রমাণিত হয়, হামলাকারীদের সঙ্গে অবশ্যই আইএস-সহ আন্তর্জাতিক রাজনীতির যোগাযোগ ছিল।

সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ‘বজ্র আঁটুনি ফস্কা গেরো’ উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এত নিরাপত্তা বেস্টনীর মধ্যে কিভাবে জঙ্গিরা সেখানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ নিয়ে প্রবেশ করলো?’

এই নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেন, ‘এতদিন সরকার আত্মতৃপ্তিতে ভুগেছিল এই ভেবে যে, ঢাকায় কিছু হয়নি। সবকিছু নিয়ন্ত্রণে আছে। জঙ্গিরা প্রমাণ করলো যে, নিরাপত্তা নিয়ে সরকারের যতই বজ্র আঁটুনি থাকুক না কেন তারা তা ভ্রুক্ষেপ করে না।’

তিনি বলেন, ‘ওই রেস্টুরেন্টের পেছনের লেকটি একেবারেই অরক্ষিত। সেখানে কোনো লাইট নেই। ওই এলাকাটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কতটুকু নজরদারিতে ছিল তা নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন আছে।’

সাবেক এই সেনা কর্মকর্তার আশংকা বলেন, হামলাকারী কেবল ছয়জন বা সাতজনই ছিল না। অনেকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে গিয়ে বাইরে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছে। এরা মাদ্রাসাছাত্র নয়। চিন্তা, মেধা, মনন ও প্রযুক্তসহ সব বিষয়ে তারা পুলিশের চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে থাকে। তাদের লেখা-পড়া ও ব্যাকগ্রাউন্ড অনেক ভালো। তাদের মাস্টারমাইন্ডরা অনেক বেশি দক্ষ।

এক প্রশ্নে তিনি আরও বলেন, ‘রেস্টুরেন্ট থেকে জঙ্গি সন্দেহে যাকে আটক করা হয়েছে, তিনি জঙ্গি কি না তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়ার কারণ অতীত অভিজ্ঞতা। এর আগে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা আইএস সন্দেহে অনেককে গ্রেফতার করেছে। একজনকে গ্রেফতার করে বলা হলো- তিনি আইএস বাংলাদেশ শাখার সমন্বয়ক। বেশ কিছুদিন ধরে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে দেশে কোনো আইএস নেই।’

সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্রের সংকটের কারণেই দেশে উগ্রপন্থীদের বিস্তার ঘটছে। এই মুহূর্তে প্রয়োজন জাতীয় ঐকমত্য। সব রাজনৈতিক দল একটি প্লাটফর্মে আসলে জঙ্গি হামলার চান্স অনেকটা কমে যাবে।’

মেজর জেনারেল (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন, ‘উগ্রবাদ, চরম পন্থা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে সবাইকে সচেতন হতে হবে। এ বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্যের বিকল্প নেই। তাছাড়া গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দক্ষতা বাড়াতে হবে।’

তিনি নিহত দুই পুলিশ অফিসারের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং ‘অপারেশান থান্ডার বোল্ট’র সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের অভিনন্দন জানান।

তবে সাবেক এ সেনা কর্মকর্তা আফসোস প্রকাশ করে বলেন, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিলখানা বিদ্রোহের সময় সামরিকভাবে অভিযান পরিচালনা করতে দেয়া হয়নি বা করা হয়নি।

লাস্টনিউজবিডি, এমবি

Print Friendly, PDF & Email

You must be logged in to post a comment Login

পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >
আর্কাইভ
মতামত
বাংলাদেশে সাংবাদিকতার সঙ্কট ও সম্ভাবনা: বর্তমান প্রেক্ষিত
।।মনজুরুল আহসান বুলবুল।। গণমাধ্যম বা সাংবাদিকত...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
সফল হওয়ার গল্প, সাফল্যের পথ
।।আলীমুজ্জামান হারুন।। ১৯৮১ সালে যখন নিটল মটরসের য...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ রেলওয়ে ফ্যানস ফোরামের বৃক্ষরোপন
  • বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক দাবীতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন
  • কুড়িগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় কৃষক পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

[page_polls]