Monday, 18th October , 2021, 08:44 am,BDST
Print Friendly, PDF & Email

কবি জীবনানন্দের ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ


।। ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম।।

বাংলার মুখ আমি দেখিয়াছি/ তাই আমি পৃথিবীর রূপ খুঁজিতে যাই না আর’—বরিশালের রূপবৈচিত্র্যে মুগ্ধ হয়েই এই কবিতা লিখেছিলেন রূপসী বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ।

নির্জনতার এই কবি ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষক ছিলেন।এখনো দেশ-বিদেশের পর্যটকেরা আসেন জীবনানন্দ দাশের এই কলেজ দেখার জন্য।

‘গোলগাল বেটে ও সুবোধ চেহারার ধুতি পাঞ্জাবি ও চাদরমণ্ডিত অধ্যাপক জে.এন.ডি ওরফে জীবনানন্দ (তার উচ্চারণ কিঞ্চিৎ ভারী ছিল বলে তৎকালীণ গুণগ্রাহী ছাত্ররা তাকে এই উপাধি দিয়েছিলেন) যে কবিতা লেখেন, এ খবর জানার পরে তার ছাত্ররা কী পরিমাণ বিস্মিত হয়েছিলেন, যার জন্য শিক্ষকদের বিশ্রামকক্ষে উঁকি মেরে তাকে আবার দেখে আসতে হয়েছিল।’

কবি হুমায়ুন কবির (রচনাবলি, বাংলা একাডেমি, পৃষ্ঠা ২৪৪) জীবনানন্দের বরিশাল বিএম কলেজের বর্ণনা দিতে গিয়ে এই যে কথাগুলো লিখেছেন, তার কাছাকাছি মন্তব্য করেছেন সলিল গঙ্গোপাধ্যায়ও। তার ভাষায় (জীবনানন্দ দাশ, দৈনিক কবিতা, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৩৭৩), ‘তিনি (জীবনানন্দ) বেচারার মতো ক্লাসে পড়িয়ে যাচ্ছেন এবং অবসরে বিশ্রামঘরে মুখে বইচাপা দিয়ে রাখছেন। তার একাধিক মহৎগ্রন্থ যে প্রকাশিত হয়েছে ইত্যবসরে তা জানার সামান্য অবকাশই হত ছাত্র ও সহকর্মীদের। এই তার ব্যক্তিত্বের মগ্নতা।’

খোদ রবীন্দ্রনাথের জীবদ্দশায় বাংলা কাব্যসাহিত্যে বিস্ময়করভাবে আলোচিত ছিলেন বিএম কলেজের নিত্যান্ত নিরিহ, মুখচোরা ইংরেজীর এক অধ্যাপক। উপমহাদেশের বড় পত্রিকা ও সমালোচকরা চেয়ার টেবিল নিয়ে বসে থাকতেন সেই নিরিহ অধ্যাপকের লেখাকে কেটে টুকরো টুকরো করতে। জেডিমা, অশ্লিলতার কবি কিংবা গুঁইসাপ স্যার দেয়া হয়েছিল প্রাথমিক উপনাম। বিশ্বসাহিত্যে কোন কবিকে জীবদ্দশায় এমন উপহাসমূলক উপনাম কখনোই কাউকে পেতে হয়নি।

যদিও সমস্ত কুহক ভেদ করে সেকালের কবিতার ডোমঘরে অনবরত কাটাছেঁড়া হতে থাকা মানুষটি আজ আমাদের কাছে বড়ই পবিত্র নাম। বেদনাদায়ক চিত্তের নির্জলা আশ্রয়ন-জীবনানন্দ দাশ।

রবীন্দ্র যুগে বিএম কলেজের ইংরেজীর অধ্যাপক জীবনানন্দকে নিয়ে আলোচনা মেনে নিতে পারছিলেন না সেই সমস্ত আলোচকরা যারা রবীন্দ্রনাথকে ভগবান বানাতে বসেছিলেন। বিপরীতে জীবনানন্দকে মূল্যায়ন করতে শুরু করলেন স্রোতে ভেসে যাওয়া পানার সাথে। তবে জীবনানন্দ সহ্য-অসহ্যের বালাই কখনোই ধরতেন না। তাই সাহিত্যের ত্রিশের দশকটা যুগ-যুগান্তরে প্রাসঙ্গিক।

‘অন্তর্জাগতিক এবং বাহ্যিক সমালোচনার টেক্কা’-এই দুইয়ে নিরন্তর লড়াই চলতো তখন। নিন্দুকেরা নিন্দা করে যেত আর জীবনানন্দ লিখে যেতেন হিম ডানায় ভর করে। অন্তর্জাগতিকে অভ্যাস্ত জীবনানন্দের লেখার মূল রসদ ছিল তার পারিপার্শি¦ক প্রকৃতি ও পরিবেশ। আরও সংকুচিত করে বললে তার উল্লেখযোগ্য কবিতার অবয়ব গড়ে উঠেছে বিএম কলেজে বা তার আসেপাশে।

তিনি অতিসাধারনের মাঝে অত্যান্ত অসাধারন উপমা-দোত্যনা খুঁজে পেতেন। আরও একটি কথা বলে রাখা শ্রেয় যে বিএম কলেজ, বিএম স্কুল ও তার বাড়ি একই সুতোয় গাঁথা। হাটাপথে জীবনানন্দ কলেজে আসতেন এবং হাটাপথেই বাড়ি ফিরতেন। জীবনানন্দের বাড়ি থেকে বিএম স্কুল যত কাছে, বিএম কলেজ তত কাছে নয়। বিএম স্কুল তার বাড়ি থেকে যেদিকে, কলেজ ঠিক তার উল্টো দিকে। কলেজ আওয়ারে চির চুপচাপ এই মানুষটিকে বিএম কলেজ এলাকায় পাওয়া যেত এবং বিকেলদিকে বিএম স্কুল এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যেত।

কোজাগরি পূর্নিমার রাতে প্রায়শই বরিশাল উপ-শহরে যারা বাসকরতেন তারা জোৎস্নাবিলাসে বের হতেন। বের হতেন জীবনানন্দও। বিএম স্কুলের মস্তবড় মাঠটি এসব রাতে ভেসে যেত জোৎস্নার প্লাবনে।

পাশেই মন্তাজ মিয়ার ঘোড়ার আস্তাবল। মন্তাজ মিয়ার ছেলে ছিল মঈন। মঈন শব্দটি শুদ্ধরুপে কেউ না ডাকলেও এই শিশুটির বন্ধুরা মঈনকে মহীন বলে ডাকতো বলে জানা যায়। থৈ থৈ জোৎস্নার মাঠে মঈন বা মহীনের পিতা মন্তাজ মিয়ার ঘোড়াগুলো ঘাস খেতো। যেহেতু পিতার ঘোড়া সেই সূত্রে অধিকাংশরা মহীনের ঘোড়া বলেও পরিচিত ছিল। মাঠ, জোৎস্নার প্লাবন আর কোজাগরি পূর্নিমায় ভেসে ভেসে ঘাস খাওয়া ঘোড়াদের চিত্র পাওয়া যায় জীবনানন্দের ‘ঘোড়া’ কবিতার একাংশে।

মহীনের ঘোড়াগুলো ঘাস খায় কার্তিকের জোৎস্নার প্রান্তরে,

প্রস্তরযুগের সব ঘোড়া যেন-এখনও ঘাসের লোভে চরে

পৃথিবীর কিমাকার ডাইনামোর ‘পরে’।

১৯৩৫ সালে কলকাতা থেকে ফিরে এসে বিএম কলেজে ইংরেজীর প্রভাষক পদে যোগ দেন। এখান থেকে ১৯৭৪ এর কিছু আগে বরিশাল ত্যাগ করে ফের কলকাতায় ফিরে যান।

অতিমাত্রায় নিরিহ জীবনানন্দ বিএম কলেজে অধ্যাপনা জীবনে কখনোই শিক্ষার্থীদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি। পুরো জীবনে হাতে গোনা চার-পাঁচজন ছাত্রের সন্ধান পাওয়া যায় যারা তার প্রিয় পাত্র ছিলেন কিংবা ঐ কয়জনেই জীবনানন্দের ভক্ত ছিলেন।

যদিও বর্তমানে ইংরেজী বিভাগ কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন মূল এলাকা ছাড়িয়ে পশ্চিম সীমানার বর্ধিত অংশে নেয়া হয়েছে। তবে বর্তমান পদার্থবিদ্যা ভবনই ছিল তৎকালীন মূল ভবন। এই ভবনের উল্টোদিকে দুটো ছাত্রাবাস ছিল। একটি মুসলিম ছাত্রদের জন্য, অপরটি হিন্দু ছাত্রদের জন্য। এখনো ছাত্রাবাস দুটি রয়েছে। একটি ফ্লাইট সার্জেন্ট ফজলুল হক ছাত্রাবাস। অপরটি কবি জীবনানন্দ দাশ ছাত্রাবাস।

কলেজের অনেক কিছু বদল হয়েছে। কিন্তু ছাত্রদের মাঝে হিন্দু মুসলমানের এমন আবাসন বিভেদ কেউ আজও ঘোচাতে পারেনি। যে কারনে এখনো বিএম কলেজে ধর্মের ভিত্তিতে ছাত্রাবাসে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। এটা পরিতাপের বিষয়।

এই ছাত্রাবাস এবং মূল ভবনের মাঝখানের মস্তবড় মাঠটি পেরিয়ে চলাফেরা করতেন জীবনানন্দ দাশ। তার হেটে চলাকে অনেকে তুলনা করতেন ফড়িং বা ভাত শালিখের লাফিয়ে লাফিয়ে চলার সাথে। তিনি কখনোই শ্লথ ধীবরের গতি রপ্ত করে আর দশটা মানুষের মত চলাচল করতেন না। তার হাটাচলায় ছিল গতি ও একাগ্রতা।

মূল ভবনের দোতলার পশ্চিম দিকটায় একসময়ে অধ্যাপকদের বসার স্থান ছিল। অন্যান্য অধ্যাপকরা সেখানে খোশগল্পে মেতে থাকলেও জীবনানন্দ তার ক্লাশ শেষ হলে অধ্যাপকদের মিলনায়তনে না বসে পিছনের রেলিংয়ে পাথরের মত বসে থাকতেন। লোকালয়ে কিংবা শেণীকক্ষে বড্ড নিঃসঙ্গ থাকতেন তিনি। কারো দিকে তাকাতেন না। নিরবে ক্লাশে ঢুকতেন। রোল কলের খাতা খুলে নাম ডাকতেন।

ক্লাশে শীক্ষার্থীরা সহজেই প্রক্সি দিতে পারতো। কারন জীবনানন্দ কিছুতেই ভ্রুক্ষেপ করতেন না কেবল নিমগ্নতা ছাড়া। আপন মনে আসতেন, রোল কল করতেন। বই খুলে পড়াতে শুরু করতেন। ঘন্টা পড়লে বই বন্ধ করে কোনদিকে তাকিয়ে তার সহজাত হাটার স্টাইল লাফাতে লাফাতে চলে যেতেন।

ক্লাশে যখন তিনি পড়াতেন তখন অদ্ভুদ এক রুপ ফুটে উঠতো জীবনানন্দের মাঝে। তিনিতো বেটেখাটো ছিলেন। ফলে ক্লাশের ডায়াসের নাগাল জুতসই পেতেন না। তাই অনেকটা ঝুলে পাঠদান করতেন। তার মধ্যে অসম্ভব রকমের মেয়ে ভীতি কাজ করতো।

এটা তার স্ত্রী লাবন্য দাশ এর ভয়ে নাকি কেলেংকারীর ভয়ে নাকি সহজাত প্রবৃত্তি ছিল তা কেবল মাত্র তিনিই জানতেন। তবে জোরালো যে বক্তব্য তা হলো, কেলেংকারী থেকে এড়াতে জীবনানন্দ ক্লাশেও ছাত্রীদের দিকে তাকাতেন না। দেশ বিভাগের আগেই কবি বরিশাল ত্যাগ করেন।

এর পরে ইংরেজী পড়াতেন প্রমথ নাথ দে বা পিএনডি স্যার। পিএনডি মেয়েদের কথা বলে হেসে কুটি কুটি হতেন। বলতেন মেয়েদের বিশ্বাস করো না। তখন সবেমাত্র কলেজে সহশিক্ষা চালু হয়েছে। ইংরেজী পড়াচ্ছেন পিএনডি। পড়াতে পড়াতে এক ছাত্রীর প্রেমে মজে গেলেন তিনি। তোরজোর শুরু করে দিলেন ছাত্রীকে বিয়ে করার জন্য। কিন্তু বাধ সাধলেন কলেজ প্রতিষ্ঠাতা অশ্বিনী কুমার দত্ত। শেষ পর্যন্ত ঐ ছাত্রী পিএনডির গলায় নয় অন্য কারো গলায় মালা পড়িয়েছিলে।

তবে এই ঘটনাটা যথারীতি বরিশালে এত আলোড়িত হয় যে শিক্ষকদের কেলেংকারীর পালা। এর আগেও এ ধরনের কম বেশি ঘটেছে। আর শিক্ষক ছাত্রী পছন্দ করলেই তা নিয়ে পাড়া-মহল্লায় সমালোচনার কমতি ছিল না।

যে কারনে জীবনানন্দ দাশ হয়তো এমন অবস্থান থেকে নিজেকে দূরে রাখতে ক্লাশে কারও মুখে তাকাতেন না। সোজাসুজি উপরে তাকিয়ে লেকচার দিতেন। আর ঘন ঘান শ্বাস নিতেন। এসময়ে জিহ্বার সম্মুখভাগ বার বার বাইরে বেড়িয়ে পরতো। তিনি ছাত্রীদের এড়িয়ে চললেও ছাত্রীরা তার এই পুরো বিষয়টিকে তুলনা করতেন গুঁইসাপের সাথে। আর জীবনানন্দ দাশ বা জেডিমা’কে চতুর্থ নাম ‘গুঁইসাপ স্যার’ বলে ডাকতো ছাত্রীরা।

জীবনানন্দর ইংরেজীতে অন্যান্য শিক্ষকের চেয়ে অতুলনীয় পান্ডিত্য ছিল। বিশেষ করে সাহিত্যে। যদিও সুস্পষষ্ট ইংরেজী বলতে পারতেন না। তিনি ক্লাশে সাহিত্য নিয়ে আলোচনা করতেন মাঝেমধ্যে। কিন্তু তার শিক্ষার্থীরা এসবে আগ্রহ পেত না। কারন সমসাময়িক সাহিত্য পরিস্থিতি বুঝে ওঠাটা সাধারন কোন বিষয় না। জীবনানন্দ তা বুঝতেন। আলোচনা করার মত লোক পেতেন না। যদিও ঐ সময়ে বরিশালে সাহিত্য-সংস্কৃতির প্রচুর পরিমানে সভা হতো।

পরিহাসের কথা হলো এসবে একবারের মতও নিমন্ত্রন পাননি তিনি। ফলে অবসর কাটানোর জন্য তার কাছে একটিই উপায় ছিল চুপচাপ বসে থাকা। সহকর্মীদের বয়ানে উঠে এসেছে, বিএম কলেজে সকাল আওয়ারে তার ক্লাশ না থাকলে রেলিংয়ে বসে থাকতেন। আর ছুটির পূর্বে ক্লাশ না থাকলে অধ্যাপকদের কক্ষে বসে থাকতেন।

তার বিখ্যাত ‘রুপসী বাংলা’ কবিতার বইটি লেখা শুরু করেন বিএম কলেজের মূল ভবনের দোতলায় বসেই। যদিও সুনির্দিষ্ট স্থান ও কাল উল্লেখ করেনি কবি, তবে তার অন্যান্য লেখা এবং লেখার আঙ্গিক বিচারে এমনটাই ধারনা করা হয়।

ওদিকে তার বিখ্যাত কবিতা ‘আট বছর আগের একদিন’ লেখা হয় বিএম স্কুলের মাঠ সংলগ্ন ডোমঘরকে কেন্দ্র করে। বিএম স্কুলের মাঠের পাশেই ছিল ডোমঘর বা লাশকাটা ঘর। ছেলেরা মাঠে ফুটবল খেলতো।

যখন তুমুল বুষ্টি নামতো তখন ডোমঘরের দরজা খুলে ভিতরে আশ্রয় নিত। জীবনানন্দের যেসমস্ত ছাত্ররা ঐ মাঠে নিয়মিত ফুটবল খেলতে যেত তারা দেখেছে, ডোমঘরে সারি সারি লাশ চিৎ করে রেখে দেয়া হয়েছে। জীবনানন্দও ঐ মাঠে বা ঐ এলাকায় হাটাচলা করতেন। তিনিও দেখেছেন ডোমঘরে লাশেদের রেখে দেবার দৃশ্য।

বরিশালে জীবনানন্দকে কেউ তামাক-বিড়ি-সিগারেট সেবন করতে দেখেনি। তবে একটি ঘটনায় এর ব্যত্যয় পাওয়া যায়। অচিন্ত্য কুমার সেনগুপ্ত তখন পটুয়াখালীর মুনসেফ। অচিন্ত্যর সাথে জীবনানন্দের আত্মিক এবং জীবনানন্দের প্রিয়ভাজন ছাত্র শামসুদ্দিন আবুল কালামের পত্র যোগাযোগ ছিল।

একদিন কলকাতা থেকে পটুয়াখালী যাবার পথে জীবনানন্দের সাথে দেখা করতে তার বাড়িতে ঢুকে পড়েন অচিন্ত্য বাবু। জীবনানন্দকে হাত ধরে টানলেন তিনি। বললেন-চলো। এখনই চলো।

জীবনানন্দঃ বোসো। কোথা যাবে?

অচিন্ত্যঃ না চলো। এখনি চলো। শামসুদ্দিনের বাড়িতে।

জীবনানন্দঃ দাঁড়াও পাঞ্জাবিটা গায়ে দেই।

শেষে যেতে হলো জীবনানন্দকে। শামসুদ্দিনের বাড়িতে অচিন্ত্য বাবুকে ঘিরে আরও কয়েকজন ছিল। চা। প্লেটে বিস্কুট। আরেকটা প্লেটে সিগারেট ও দেশলাই। চা-বিস্কুটের পর সিগারেটের প্লেটটা অচিন্ত্যও দিকে এগিয়ে দিলেন জীবনানন্দ।

-নাও অচিন্ত্য সিগারেট খাও।

-না

-কেন?

-আমি সিগারেট ছেড়ে দিয়েছি।

জীবনানন্দ যেন আকাশ থেকে পড়লেন। যে অচিন্ত্য আজীবন সিগারেট ছাড়া চলতে পারেনি তিনি কি করে সিগারেট না খেয়ে পারে?

-তুমি সিগারেট পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছ?

-হুঁ।

-তুমি সিগারেট পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছ?

-হুঁ

অচিন্ত্য বাবু একটা মাসিক পত্রিকায় মুখ গোজেন। এদিকে একই প্রশ্ন ‘তুমি সিগারেট পর্যন্ত ছেড়ে দিয়েছ?’ বারবার করছিলেন জীবনানন্দ। আর কখনো খুব উচ্চ শব্দে হাঁসছিলেন। অবার হঠাৎ থেমে যান। এভাবে বলতে বলতে প্লেট টেনে একটা সিগারেট ধরিয়ে ঘন ঘন টানছিলেন।

বিএম কলেজে জীবনানন্দের সহকর্মী ছিলেন অধ্যাপক সিরাজুল হক। তার ছেলে সেলিম জাহান জানান, তার বাবা স্বল্প কথার মানুষ ছিলেন। নিজের অধ্যাপনা আর পড়ালেখা নিয়েই থাকতেন। ফলে তাঁর জীবনের গল্পগুলো শুনতে হয়েছে মায়ের কাছ থেকে।

সেলিম জাহান বলেন, ‘‘আমার বাবা যে জীবনানন্দ দাশের সহকর্মী ছিলেন, সে কথা প্রথম জানতে পারি আমাদের কিশোরবেলায় বিএম কলেজের বহু পুরাতন কর্মী কৈলাশ কাকার কাছে। বয়সে আমার বাবার চেয়ে জীবনানন্দ বেশ সিনিয়র ছিলেন। বাবা তাঁকে ‘দাশ বাবু’ বলে ডাকতেন আর তিনি বাবাকে ‘হক সাহেব’ বলতেন। বাবা এবং আরও কয়েকজন তরুণ অধ্যাপক তখন থাকতেন ব্রজমোহন কলেজের মূল ভবন ছাড়িয়ে দিগন্ত বিস্তৃত একটি মাঠের মাঝে একটি একতলা হলুদ বাড়িতে। ওই বাড়িটি আমি ষাটের দশকেও দেখেছি।

মাঝে মাঝে কবি বাবার কাছে আসতেন। নোয়াখালীর আঞ্চলিক ভাষা ও শব্দের প্রতি ঐ সময়ে তাঁর ভীষণ কৌতূহল ছিলো। কিন্তু বাবা এই কৌতূহলের কারণ জিজ্ঞেস করেও স্পষ্ট জবাব পাননি। ধারণা করা হয়, জীবনানন্দ কবিতায় নতুন নতুন শব্দমালা ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন, কিংবা নোয়াখালীর পটভূমিতে হয়তো তার কিছু লেখার পরিকল্পনা ছিল। জীবনানন্দ বলতেন, ‘বরিশাল আর নোয়াখালী সহোদর, মেঘনার এপার-ওপার’।’’

বিএম কলেজে জীবনানন্দ যে চুপচাপ থাকতেন, সে কথা জানিয়েছেন সিরাজুল হকও। তার ছেলে সেলিম জানান বলছেন, জীবনানন্দ দাশ শিক্ষকদের বিশ্রামাগারে একটি কোণায় বসতেন এক কাপ চা নিয়ে। অন্য অধ্যাপকেরা যখন জমিয়ে গল্প করছেন, তখন কবি কেমন যেন আনমনা হয়ে কী একটা ভাবতেন তন্ময় হয়ে। হঠাৎ করে হো হো করে জোরে হেসে উঠতেন। তখন অন্য অধ্যাপকেরা অবাক হলে, কবি কেমন যেন বিব্রত হয়ে পড়তেন।

জীবনানন্দের লাজুক স্বভাবের সাক্ষী এই অধ্যাপক সিরাজুল হক। তার সাথে কবির রাস্তাঘাটে, এমনকি বাজারেও দেখা হয়ে যেতো। কিন্তু জীবনানন্দ দাশ মাছের দর-দাম করতে পারঙ্গম ছিলেন না। তাই চুপিচুপি সিরাজুল হককে বলতেন, ‘হক সাহেব, আমাকে একটা মাঝারি মাছ কিনে দিন না?’

বগুড়া রোডে সর্বানন্দ ভবন থেকে এই কলেজ হাঁটাপথ। ফলে তিনি হেঁটেই আসা-যাওয়া করতেন। সাধারণত পেছনের অর্থাৎ পুবদিকের গেট ব্যবহার করতেন। জীবনানন্দ অনুষ্ঠানাদি এড়িয়ে চলতেন। তবে ব্যতিক্রম ছিল ১৯৪১ সালের যেদিন রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ হলো এবং এই উপলক্ষ্যে শিক্ষার্থীরা যে শোকমিছিল বের করেছিল, তিনি সেই মিছিলে তিনি শামিল হয়েছিলেন।

দখিনের নদীবিধৌত বিভাগীয় শহর বরিশাল এখনও যে রূপেরসে অনন্য, তার একটি বড় কারণ এই শহরের ভেতরে এখনও প্রচুর পুকুর, গাছপালা, পরিচ্ছন্ন রাস্তাঘাট, কম যানজট, নিরিবিলি অলিগলি। কীর্তনখোলা বা জলসিড়ি পাড়ের এই নগরীতে রবীন্দ্রনাথের পরে বাংলা ভাষার সবচেয়ে জনপ্রিয় কবির বেড়ে ওঠা এবং তার কবিতায় যে রূপসী বাংলার চিত্রায়ন, সেটি এই শহরের রাস্তাঘাট আর নদীপাড় ধরে হাঁটলেই টের পাওয়া যাবে। তবে এখানে তার স্মৃতি বড়ই ধূসর।

কবি জীবনানন্দ দাশ ছিলেন ইংরেজির শিক্ষক। কর্মজীবনের সবচেয়ে বেশি সময় ১১ বছর (আগস্ট ১৯৩৫- সেপ্টেম্বর ১৯৪৬) পড়িয়েছেন জন্মস্থান বরিশাল শহরে ব্রজমোহন (বিএম) কলেজে। ১৯১৭ সালে এই কলেজ থেকেই তিনি আইএ পাস করেন। মৃত্যুর পরে দীর্ঘকাল পর্যন্ত এই কলেজে তার কোনো স্মৃতি ছিল না। এমনকি যে ভবনে তিনি পড়াতেন, সংস্কারের নামে ১৯৯১ সালে সেই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়। একটি আবাসিক হল তার নামে নামকরণ করা হলেও সেখানেও ছিল সাম্প্রদায়িক চিন্তা।

১৯৩৫ সালের আগস্টে ব্রজমোহন কলেজে যোগ দেন জীবনানন্দ। তার সহপাঠি ছিলেন মন্মথনাথ ঘোষ। যিনি পরে এই কলেজের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। দিল্লির একটি কলেজে যোগদান করায় এই পদটি খালি হয় এবং শোনা যায় যে জীবনানন্দের ব্রজমোহন কলেজে যোগদানের বিষয়ে মন্মথনাথ সাহায্য করেন। এক বছর পরে তিনি লেকচারার পদে উন্নীত হন। পরবর্তী ১১ বছর জন্মশহরের এই কলেজে তিনি অধ্যাপনা করেন।

বরিশালের মতো মফস্বল শহরে থাকলেও মহানগর কলকাতার প্রতি তার ছিল ভীষণ টান। ছাত্রজীবন থেকেই এই শহরে তার নিয়মিত আসা-যাওয়া। ফলে বিএম কলেজে যোগদানের পরেও ছুটিছাটা পেলেই কলতায় ছুটে যেতেন। ১৯৪৬ সালে ছুটি শেষ করে পুনরায় বরিশালে ফিরে গিয়ে কলেজে যোগ দেন ১৫ সেপ্টেম্বর। কিন্তু ১৫ দিন পর আবার পূজার ছুটি শুরু হয়। পয়লা অক্টোবর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। ফলে আবার কলকাতায় ফিরে যান।

দেশভাগের ডামাডোলসহ নানা কারণেই তিনি বরিশাল ছাড়তে চাচ্ছিলেন। ১০ নভেম্বর ছুটি শেষ হলেও আর বরিশালে ফেরেননি। ছুটির আবেদন পাঠিয়ে দেন। ২৩ ডিসেম্বর কলেজের কাউন্সিল সভায় ১১ নভেম্বর থেকে গ্রীষ্মাবকাশের শেষদিন পর্যন্ত তার ছুটি মঞ্জুর হয়। সেইসাথে পরবর্তী জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে গ্রন্থাগারের যাবতীয় বই ফেরত দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয় জীবনানন্দকে।

ফলে দেখা যাচ্ছে, ১৯৪৬ সালের সেপ্টেম্বরের শেষ অথবা অক্টোবরের শুরুতে তিনি যে কলকাতায় গেলেন, সেটিই শেষ যাওয়া। জন্মভূমিতে আর কোনোকালেই ফেরা হয়নি। সে কারণেই বোধ হয় মৃত্যুর পরে শঙ্খচিল শালিখের বেশে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন ধানসিড়িটির তীরে, এই বাংলায়।

বিএম কলেজ

কবি জীবনানন্দ দাশ এই কলেজের শিক্ষক ছিলেন। ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর পদচারণে মুখরিত বিএম কলেজের রয়েছে বর্ণিল ঐতিহ্য। ঐতিহ্যবাহী তাঁর বিদ্যাপীঠই দেশের অন্যতম সেরা কলেজের স্বীকৃতি পেয়েছে।জাতীয় পর্যায়ে যে পাঁচটি কলেজকে সেরা হিসেবে ঘোষণা করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, তার একটি সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ। হয়েছে বিভাগ-সেরাও। কেবল শিক্ষা কার্যক্রম নয়, সংস্কৃতিচর্চায়ও এগিয়ে শিক্ষার্থীরা। ৪৭ থেকে ৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ৭১-এর মুক্তিসংগ্রামে কলেজের শিক্ষার্থীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।

মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত তাঁর বাবার নামে কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুন বিএম স্কুল কম্পাউন্ডে চালু করা হয় কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম। কয়েক বছর পর এটি স্থানান্তরিত হয়। তখন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল বিএম কলেজ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানটি। ১৯৬৫ সালে এটি সরকারি করা হয়।

৬০ একর সম্পত্তির ওপর নির্মিত এ কলেজে বর্তমানে ২২টি বিষয়ে স্নাতক ও ১৯ বিষয়ে স্নাতকোত্তর পাঠদান চালু আছে। এর সঙ্গে বিএ পাস, বিএসএস ও বিএসসি চালু রয়েছে। বর্তমানে ২৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। শিক্ষক আছেন ১৯৮ জন।

চিরসবুজ এই কলেজ ক্যাম্পাসে মোট আটটি বহুতল একাডেমিক ভবনে পাঠদান চলে। ক্যাম্পাসজুড়ে রয়েছে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, জাম, জারুল, রঙ্গন, মেহগনিগাছ। বোটানিক্যাল গার্ডেনে আছে বিরল প্রজাতির নাগলিঙ্গমসহ নানা প্রজাতির ফুলের গাছ। এসব গাছের ফাঁকে ফাঁকে দাঁড়িয়ে ভবনগুলো। ছাত্রছাত্রীদের জন্য আছে সাতটি ছাত্রাবাস। এর মধ্যে চারটি ছাত্রদের ও তিনটি ছাত্রীদের। আসনসংখ্যা ১ হাজার ৬৩০টি।

কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত প্রয়াস ব্রজমোহন কলেজ। কেবল দেশসেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি পুরো দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অহংকারও।

কলেজের অধ্যক্ষ আরও বলেন, ব্রিটিশবিরোধী স্বদেশি আন্দোলন, অসহযোগ আন্দোলন, ৫২-র ভাষা আন্দোলন, ৬২-র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬-র ছয় দফা, ৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান এবং ৭১-এর মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে বিএম কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ভূমিকা প্রশংসনীয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অনেক শিক্ষার্থী বিশেষ ভূমিকা রেখে চলেছেন।

জীবনানন্দ আছেন এখানে?

দক্ষিণবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসেবে পরিচিত ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের যাত্রা শুরু ১৮৮৯ সালে। পিতার নির্দেশে আধুনিক বরিশালের রূপকার মহাত্মা অশ্বিনী কুমার দত্ত এর প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৬ সালে ‘ধানসিড়ি’ নামে যে কলেজ বার্ষিকী প্রকাশিত হয়, তার নামকরণেও জীবনানন্দের ছোঁয়া। ১৯৭১ থেকে ১৯৭৫ এই চার বছর সময়কালকে ধরা হয়েছে এই বার্ষিকীতে। তখন কলেজের অধ্যক্ষ একেএম ইমদাদুল হক মজুমদার। স্মরণিকাটি প্রকাশের তারিখ লেখা হয়েছে ২৯ আষাঢ় ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ।

ব্রজমোহন কলেজের ইতিহাস বিধৃত হয়েছে এই স্মরণিকায়। এর প্রথম লেখাটিই জীবনানন্দ দাশের। ‘উত্তররৈবিক বাংলা কাব্য’ শিরোনামের এই প্রবন্ধটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল জীবনানন্দের এই কলেজে অধ্যাপনাকালীন ১৯৪৬ সালে; এই কলেজেরই ম্যাগাজিনে (জীবনানন্দ রচনাবলি, ঐতিহ্য, তৃতীয় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৫৬৩)।

বরিশাল শহরের সন্তান, ব্রজমোহন কলেজ শিক্ষক দীপঙ্কর চক্রবর্তী জানান, ১৯৯৮-৯৯ সালের আগ পর্যন্ত কলেজের ইংরেজি বিভাগে জীবনানন্দের একটি ছবিও ছিল না। তিনি এখানে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেয়ার পরে বিভাগে গিয়ে যখন দেখলেন যে এখানে জীবনানন্দের স্মৃতি বলতে কিছুই নেই, তখন তিনি তার এক ছাত্রকে দিয়ে জীবনানন্দের একটা ছবি আঁকান। নিজের পকেটের পয়সা দিয়ে সেগুন কাঠের সুন্দর ফ্রেম বানিয়ে সেই ছবিটি দেয়ালে টানিয়ে দেন। ছবিটি এখনও বিএম কলেজের ইংরেজি বিভাগে শিক্ষকদের রুমে শোভা পাচ্ছে।

এই কলেজের শিক্ষকদের রুমে একটি বুক শেলফের গায়ে লেখা ‘জীবনানন্দ সম্ভার’। বিভাগীয় প্রধান কল্পনা রানী নাথ জানান, তারা এই শেলফে শুধু জীবনানন্দের বই রাখবেন। বই কেনার কাজ চলছে।

এই বিভাগের দেয়ালে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের তৈরি ‘চেতনালোক’ নামে একটি দেয়াল পত্রিকা চোখে পড়লো যেখানে জীবনানন্দের ছবি দেখা যায়। তার দুটি কবিতা দিয়ে তৈরি বড় পোস্টারও চোখ এড়ায় না। ইংরেজি বিভাগের কমনরুমের দরজার পাশে জীবনানন্দের ম্যুরালের মতো একটি পোর্ট্রেট, যেটি এই বিভাগের ৩০ তম ব্যাচের (২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে তৈরি করা হয়।

সেই চেয়ার

কলেজ লাইব্রেরির দোতলায় একটি কক্ষে মিউজিয়াম গড়ে তোলার চেষ্টা আছে। ধুলোবালিতে ঢাকা কিছু চেয়ার-টেবিল। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অশ্বিনী কুমার দত্ত এবং বেশ কয়েকজন সাবেক অধ্যক্ষের ছবি আছে দেয়ালে। কিছু পুরনো মেডেল, কিছুু চেয়ার। এর মধ্যে একইরকম দেখতে কাঠ ও বেতের তৈরি দুটি চেয়ারও আছে। একটি বেত ছিঁড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যটি অক্ষত।

শরীরচর্চার শিক্ষক আফিলউদ্দিন এই মিউজিয়ামের দায়িত্বে আছেন। তার ধারণা এবং তিনিও অনেকের কাছে শুনেছেন যে, এই চেয়ার দুটি জীবনানন্দের সময়কার এবং ইংরেজি বিভাগের। তার মানে এটা ধরে নেয়া যায় যে, শিক্ষক জীবনানন্দ এই চেয়ারেই বসতেন। কিন্তু আসলেই এই চেয়ার দুটি জীবনানন্দের সময়কালের ইংরেজি বিভাগের কি না, সে বিষয়ে নিঃসন্দেহ হওয়া যায়নি। বিএম কলেজের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষক আ খ ম আব্দুর রব (অবসর ১৯৯৯) জানান, তিনিও শুনেছেন এই চেয়ার দুটি জীবনানন্দের আমলের এবং এর কোনো একটিতে হয়তো তিনি বসতেন।

যেভাবে ভাঙা হলো ঐতিহাসিক ভবন

ব্রজমোহন কলেজে জীবনানন্দের স্মৃতি খুঁজতে গিয়ে দেশ-বিদেশের পাঠক ও গবেষকরা প্রথমেই যান কলেজে পূর্বদিকে লাল ভবনটি দেখতে, যেটি এখন পদার্থবিজ্ঞানের ভবন। ১৮৮৯ সালে মহাত্মা অশ্বিনীকুমার দত্ত এই কলেজটি প্রতিষ্ঠান করেন। এর অনেক দেড় যুগ পরে ১৯১৭ সালে ব্রজমোহন স্কুল থেকে আলাদা হয়ে কলেজটি যখন নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়, তখনকার ভবন এটি। এর দক্ষিণে বিশাল মাঠ, তার পাশেই সুবিশাল পুকুর। উত্তর দিকে কলেজের সীমানাপ্রাচীর।

জীবনানন্দের সময়ে এই ভবনেই ছিল ইংরেজি বিভাগ। যতটুকু জানা যায়, এই ভবনের দোতলায় জীবনানন্দ বসতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি, ঐতিহাসিক এই ভবনটি সংস্কারের নামে ভেঙে ফেলা হয় ১৯৯১ সালে।

পুরনো নকশা ঠিক রেখেই ভবনটি নির্মাণ করা হলেও ভেতরের ইট সুরকি কিছুই অবশিষ্ট রাখা হয়নি। অর্থাৎ কোনো গবেষক যদি জীবনানন্দের স্মৃতিবিজড়িত কলেজটি দেখতে এসে এই ভবনের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন অনুসন্ধান করেন, তিনি হতাশ হবেন। কারণ তার সময়কালের একটা ইটও এই ভবনের গায়ে নেই।

অথচ সংস্কারের নামে যখন এই ভবনটি ভেঙে ফেলা হয়, তখন এর বয়স বড়জোর ৭৪ বছর। উন্নত বিশ্ব তো বটেই, প্রতিবেশী কলকাতা শহরেও তিন চারশো বছরের পুরনো ভবন রয়েছে এবং সংস্কারের নামে সেগুলো পুরোপুরি ভেঙে ফেলা হয় না।

মাত্র ৭৪ বছর বয়সে ভবনটি কী এমন জরাজীর্ণ হয়েছিল যে এটাকে পুরোপুরি ধুলিস্যাৎ করে পুনঃনির্মাণ করতে হলো? এই প্রশ্ন করেছিলাম কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. হানিফকে। তিনি বিস্তারিত জবাব না দিয়ে সংক্ষেপে শুধু এটুকুই বললেন যে, পুরো ভবনটি না ভেঙে এটি সংস্কারের সুযোগ ছিল না।

আসলেই কি ছিল না? সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন কলেজের আরেক সাবেক অধ্যক্ষ ইমানুল হাকিম। যিনি ১৯৯১ সালে এই কলেজের শিক্ষক ছিলেন। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম, এই ভবনটি কি এতটাই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছিল যে এটাকে পুরোপুরি ভেঙে নতুন করে নির্মাণ করতে হলো কিংবা এর ইটগুলো কি এতটাই ক্ষয়ে গিয়েছিল যে, সেগুলো আর কাজে লাগানো গেল না?

বোঝা গেলো ইমানুল হাকিমের মনেও এই প্রশ্নগুলো রয়েছে। তিনি বেশ ক্ষোভের সাথেই বললেন, ১৯৯১ সালে ভবনটির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ ছিল শুধু এই যে, এটার ছাদ চুয়ে পানি পড়ে। যে পানি দেয়াল বেয়ে নেমে আসে। সুতরাং আমরা অনায়াসে ছাদটি নতুন করে নির্মাণ করতে পারতাম।

আর ইটগুলো অক্ষত রেখে দেয়ালে নতুন করে প্লাস্টার করলেই চলতো। কিন্তু পুরো ভবনটি ভেঙে তার ইট স্তূপ করে সামনের মাঠে পাহাড় বানানো হলো। সেই ইট দিয়ে পুবদিকের সীমানাপ্রাচীর দেয়া হলো। ভবনের সামনের রাস্তায়ও সেই ইট ব্যবহার করা হলো। অথচ ওই ইটগুলো দিয়েই ভবনটি সংস্কার করা যেতো।

ইমানুল হাকিম এখানেই থামলেন না। জানালেন, এই ভবনে ওঠার জন্য দুপাশ দিয়ে সেগুন কাঠের দৃষ্টিনন্দন দুটি সিঁড়ি ছিলো। প্রচুর আসবাব ছিল। সেগুলো কোথায় গেলো? এই প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি। অধ্যাপক আব্দুর রবও এই সেগুন কাঠের সিঁড়ি দুটির স্মৃতিচারণ করে তার দুঃখবোধের কথা জানিয়েছেন।

কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী রোকনুজ্জামান রোকন বলেন, ‘ভবনটি যখন ভাঙা হয় তখন আমি প্রথম বর্ষে পড়ি। বড় বড় লোহার বিম, কারুকাজ করা লোহার খুঁটি–সব চোখের সামনে ভেসে ওঠে। পরবর্তীতে আরও দুটি ভবন ভাঙা হয়, যা দুঃখজনক। আসলে ভবনগুলো সংস্কার করে ভালোভাবে রাখা যেত এবং নতুন ভবন তৈরি করার যথেষ্ট জায়গা ছিল।

বরিশালের সাংবাদিক ও সংস্কৃতিজন সুশান্ত ঘোষের আক্ষেপ, ‘পুরানো ভবন সংরক্ষণ করা আমাদের মাথায় থাকে না। আমরা শুধু ভাঙতে জানি। আমাদের রাজনীতিও তাই: ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও। এই ভবনটির অনেক লোহার নকশা করা খুঁটি রেলিং দীর্ঘদিন পড়েছিল। এখন দেখিনা। শুধু ব্রজমোহন কলেজ নয়, অশ্বিনী দত্তের বাড়িও আমরা ভেঙে গুঁড়িয়ে দিছি। মাঝে মাঝে অশ্বিনী কুমার হল ভেঙে মার্কেট করার চাপও বাড়ে। কিন্তু ৮০ বছর বয়সী মোশারফ হোসেন নান্নু মামলা না করলে এতদিনে হয়তো টাউন হল ভেঙে বহুতল ভবন তৈরি হয়ে যেতো।’

হলের নামকরণে সাম্প্রদায়িক চিন্তা

জীবনানন্দ দাশ যে ভবনে পড়াতেন, তার দক্ষিণ দিকে পুকুরপাড়ে হিন্দু ছাত্রদের আবাসিক হল হিন্দু হল। পরবর্তীকালে এটির নামকরণ করা হয় কবি জীবনানন্দ দাশ হল। যদিও এখনও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এটিকে হিন্দু হল বলেই চেনেন।

কলেজের এত হল থাকলে হিন্দু হলকেই কেন জীবনানন্দের নামে নামকরণ করতে হবে? জীবনানন্দ হিন্দু ছিলেন বলে? বিএম কলেজে যে জীবনানন্দের নামে সেভাবে কোনো কিছু গড়ে ওঠেনি বা তার স্মৃতিরক্ষায় বড় কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি, তার পেছনেও জীবনানন্দের এই ধর্মপরিচয়টি অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা যায়।

যদিও জীবনানন্দ দাশ ওই অর্থে হিন্দুও ছিলেন না। তার জন্ম একটি ব্রাহ্ম পরিবারে। যারা একসময় হিন্দু ছিলেন। তারা হিন্দুদের দেবদেবীর পূজা করতেন না। তারা একেশ্বরবাদে বিশ্বাস করতেন। জীবনানন্দের দাদা সর্বানন্দ দাশ এবং বাবা সত্যানন্দ দাশ ছিলেন বরিশাল শহরের অত্যন্ত সম্ভ্রান্ত ব্রাহ্ম।

ব্যক্তিজীবনে জীবনানন্দ নিজে ধর্মকর্ম পালন করতেন না। তিনি ঈশ্বরে বিশ্বাস করতেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে বলতেন, তিনি মানুষের নীতিবোধে বিশ্বাস করেন। অথচ সেই মানুষটির নামে একটি হলের নামকরণ করা হলো নিতান্তই সাম্প্রদায়িক চিন্তা থেকে। উল্লেখ্য, এই হলের একটি ভবনের নাম ‘শঙ্খচিল’; যে পাখির নাম জীবনানন্দের বহু কবিতায় ব্যবহৃত হয়েছে।

জীবনানন্দ চত্বর,

জীবনানন্দ যে ভবনে পড়াতেন, সেই ভবনের সামনে পুকুরপাড়ের একটি অংশকে ‘জীবনানন্দ চত্বর’ হিসেবে তৈরি করেছেন জীবনানন্দ অনুরাগী শিক্ষার্থীরা। পুকুরপাড়ে বসার মতো একটি কংক্রিটের বেঞ্চ, তার গায়ে রঙ দিয়ে লেখা জীবনানন্দ চত্বর। এখানে শিক্ষার্থীরা বসে আড্ডা দেন। মাঝেমধ্যে কবিতাপাঠের আসরও হয়। কিন্তু তার সবই অনানুষ্ঠানিক।

এর পূর্ব দিকে ‘উত্তরণ’ নামে কলেজের সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ের সামনের মঞ্চটির নামও জীবনানন্দ দাশের নামে। ২০১৫ সালে এটি পুনঃনির্মাণ করা হয়। ওই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি পুনঃনির্মিত মঞ্চের উদ্বোধন করেন তৎকালীন অধ্যক্ষ ফজলুল হক। মঞ্চটার নামই ‘জীবনানন্দ’। আদতে এখানে জীবনানন্দের কিছু নেই।

বরং টাইলস দিয়ে বাঁধানো মঞ্চের গায়ে সূর্যমুখী ফুল, ঝর্ণা, ঘোড়া ও হরিণের ছবি। নিদেনপক্ষে মঞ্চের গায়ে জীবনানন্দের একটি কবিতা খোদাই করে লেখা থাকলেও কিছুটা সান্ত¦না পাওয়া যেতো। কিন্তু মঞ্চ নির্মাণ, পুনঃনির্মাণ, সংস্কার কিংবা সৌন্দর্যবর্ধন, যাই বলা হোক না কেন, এখানে যতটা না জীবনানন্দ প্রেম, তার চেয়ে বেশি লৌকিকতার ছাপই স্পষ্ট। অনেকের কাছে এও মনে হতে পারে যে, জীবনানন্দের নামে কিছু একটা থাকা দরকার, তাই তার নামটি দিয়ে যেন তাকে ধন্য করা হলো অথবা এটি হয়তো কর্তৃপক্ষের ধন্য হবার বৃথা চেষ্টা।

ক্যাফে জীবনানন্দ

বিএম কলেজে জীবনানন্দকে খুঁজতে এসে তার ভক্ত-অনুরাগী এবং গবেষকরা থতমত খেয়ে যাবেন কলেজের ক্যান্টিনের সামনে এসে। কেননা সম্প্রতি এই ক্যান্টিনের নাম দেয়া হয়েছে ‘ক্যাফে জীবনানন্দ’। বাইরে একটি সাইনবোর্ড এবং ভেতরের দেয়ালে জীবনানন্দের দুয়েকটি কবিতার লাইন আছে বটে, কিন্তু দেয়ালে শোভা পায় রাজনীতিবিদদের ছবি।

সেখানে নিদেনপক্ষে জীবনানন্দের কোনো একটি ছবি রাখার মতো বদান্যতা কর্তৃপক্ষ দেখাননি। এতকিছু থাকতে ক্যান্টিনটি জীবনানন্দের নামে করার ধারণাটি যার মাথা থেকেই আসুক না কেন, এটা যে একধরনের পরিহাস বা অজ্ঞতা, তাতে আর সন্দেহ কী!

এভাবেই থাকবে?

ইমানুল হাকিম জানালেন, অধ্যক্ষ থাকাকালীন তিনি ইংরেজি বিভাগে জীবনানন্দের নামে একটা চেয়ার করতে চেয়েছিলেন, যেখানে প্রতি বছর একজনকে সম্মানিত করা হবে। কিন্তু সেটি পারেননি। ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে জীবনানন্দের একটা ভাস্কর্য করার চিন্তাও তার ছিল বলে জানান। কিন্তু কিছুই করতে পারেননি।

আরও বললেন, ব্রজমোহন কলেজের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়। কারণ কলেজের ইতিহাস লিখতে গেলে প্রথমে যে শিক্ষক কাউন্সিল ও অ্যাকাডমেকি কাউন্সিলের রেজুলেশন বই দরকার, তার কোনো অস্তিত্ব নেই। কোনো কিছুই সংরক্ষণ করা হয়নি। আবার যা কিছু সংরক্ষিত ছিল তা ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় হারিয়ে গেছে।

তবে ইমানুল হাকিম এটা স্বীকার করেছেন যে, জীবনানন্দকে নিয়ে যে কিছু একটা করতে হবে, সেটি তাগিদটি কর্তৃপক্ষ কোনোকালেই সেভাবে বোধ করেনি।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জীবনানন্দের উপরে একটি টেলিভিশন ডকুমেন্টারি বানানোর সময় কথা হয় তৎকালীন সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ স্বপন কুমার পালের সঙ্গে। তিনি তখন বলেছিলেন, এই কলেজে জীবনানন্দের নামে একটি গবেষণা কেন্দ্র করার দাবি তারও, যাতে দেশ-বিদেশের গবেষকরা এসে তার সম্পর্কে জানতে পারে। কিন্তু সেটি এখনও হয়নি বা ভবিষ্যতে কোনোদিন হবে কি না, তাও অনিশ্চিত।

জীবনান্দ তার জীবদ্দশায় বরিশালে কিংবা কলকাতায় সামগ্রিক মানুষের প্রিয় ছিলেন না কখনোই। বরংছ তাকে নিয়ে পিছনে পিছনে অনেক রটনা চলতো। দেশ বিভাগের আগে অনটনকে পুঁজি করে পারি জমাতে হয় কলকাতায়। বরিশালের যে জমি-জিরেত ছিল তার কিছুই বিক্রি করে যাননি তিনি বা তার পরিবার। বাংলাদেশের স্বাধীনতার সময়ে ফেলে যাওয়া সেই জমি পুরোপুরি আইনসিদ্ধ করে নেন একটি পরিবার।

অথচ কলকাতায় ভাড়া বাসায় থাকতেন জীবনানন্দ। মেয়েটা তখন বড় হয়ে গেছে। বিয়ের উপযোগী। জীবনানন্দ বেকার। ওদিকে ঘরে ব্রাক্ষ্মন ঘরের সুন্দরী স্ত্রী লাবন্য দেবী-স্বামীতে ক্ষিপ্ত।

সবমিলিয়ে পারিবারিক কালা পাথর জমে ছিল কবির বুকে। হয়তো সে কারনে ল্যান্সডাউনরোডে চলাচল করা ট্রামের সামনে ১৯৫৪ সালের ১৪ অক্টোবর সেচ্ছায় পা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। হইচই শুনতে পেয়ে সেখানে ছুটে যান রাসবিহারী এভিনিউয়ের ল্যান্সডাউনরোডের চা দোকানি চুনিলাল।

কেউ একজন ট্রামের নিচে পড়ে আটকে আছেন দেখে অতিমানবীয় শক্তি ক্ষয় করে টেনে বার করেন গোলগাল চেহারার, ধুতি ও পাঞ্জাবী পরিহিত জীবনানন্দ দাশকে। তার আট দিন পর নি:শব্দে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান বাংলা সাহিত্যের সর্বাধুনিক কবি জীবনানন্দ দাশ। শোনা যায়, আহত হবার পর থেকে মৃত্যুর পূর্ব মুহুর্তে এক বারের জন্যও হাসপাতালে যাননি লাবন্য দাশ। কিন্তু কেন?

কবি জীবনানন্দ দাশ বিএম কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। কবির অনন্য সৃষ্টি তাকে উচ্চ মর্যাদায় আসীন করেছে। কবি জীবনানন্দ নেই, তবে তার অমর সৃষ্টি বেঁচে আছে যুগের পর যুগ। তিনি একধারে প্রকৃতিক কবি অপরদিকে আধুনিক কবি, নতুন প্রজন্মের মাঝে কবির সৃষ্টিকর্ম ছড়িয়ে দিতে হবে ।

তথ্য সহায়কঃ

১. অনন্য জীবনানন্দ-ক্লিন্টন বি সিলি

২. ধানসিড়ি সাহিত্য পত্রিকা

৩. বিএম কলেজের শতবর্ষ পূর্তি স্মরণিকা (১৮৮৯-১৯৮৯)।

সম্পাদনা : ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল করিম, কলামিষ্ট, সমাজ সেবক, রাজনীতিবিদ ও প্রতিষ্ঠIতা চেয়ারম্যান – জীবনানন্দ দাশ গবেষণা কেন্দ্র I

আপনার মতামত দিন
Print Friendly, PDF & Email
youtube
app
walton
Nitol
পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >

অ্যালার্জি আছে এমন কারো করোনা টিকা নেওয়া উচিত নয় বলেছেন ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমএইচআরএ। আপনি কি এর সাথে একমত?

View Results

Loading ... Loading ...
আর্কাইভ
মতামত
শেখ পরশের ভিশনারি নেতৃত্বে মানবিক যুবলীগের দুই বছর
।।মানিক লাল ঘোষ।। "আমার চেষ্টা থাকবে যুব স...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
সফল হওয়ার গল্প, সাফল্যের পথ
।।আলীমুজ্জামান হারুন।। ১৯৮১ সালে যখন নিটল মটরসের য...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • এক কলাগাছে ১০ মোচা!
  • আকস্মিক বন্যা: হাতীবান্ধায় প্রায় ১২ কোটি টাকার ক্ষতি
  • আকস্মিক বন্যায় বিধ্বস্ত লালমনিরহাট, এখনো বিদ্যুৎ নেই ২ উপজেলায়

অ্যালার্জি আছে এমন কারো করোনা টিকা নেওয়া উচিত নয় বলেছেন ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমএইচআরএ। আপনি কি এর সাথে একমত?

  • হ্যা (59%, ১০৬ Votes)
  • না (26%, ৪৭ Votes)
  • মতামত নাই (15%, ২৬ Votes)

Total Voters: ১৭৯

Start Date: ডিসেম্বর ৯, ২০২০ @ ৮:২১ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ড. অ্যান্থনি ফাউচি মনে করেন আসন্ন ‘বড় দিন’ মহামারির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। আপনি কি তার এই মন্তব্যকে যথাযোগ্য মনে করেন?

  • হ্যা (0%, ০ Votes)
  • না (0%, ০ Votes)
  • মতামত নাই (100%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ৮, ২০২০ @ ২:০৩ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

জার্মানির বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, নাক দিয়েও মস্তিস্কে করোনা হানা দেয়। আপনি কি মনে করেন মস্তিস্কে করোনার আক্রমণ রক্ষার্থে মাস্ক ই যথেষ্ট?

  • হ্যা (75%, ৬ Votes)
  • না (13%, ১ Votes)
  • মতামত নাই (12%, ১ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ২, ২০২০ @ ৩:১৯ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

মডার্নার, ফাইজারের করোনা ভাইরাসের টিকার মধ্যে মডার্নার টিকার উপর কি আপনার আস্থা বেশি ?

  • মতামত নাই (100%, ১ Votes)
  • হ্যা (0%, ০ Votes)
  • না (0%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ২, ২০২০ @ ৯:১৯ পূর্বাহ্ন
End Date: No Expiry

মার্কিন টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্নার দাবি করেছেন অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর ওপর এ টিকা ১০০ শতাংশ কাজ করেছে। আপনি কি শতভাগ ফলপ্রসু মনে করেন?

  • হ্যা (100%, ১ Votes)
  • না (0%, ০ Votes)
  • মতামত নাই (0%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ১, ২০২০ @ ১২:৫১ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

 Page ১ of ২  ১  ২  »