ধর্ষণ কমাতে মানসিকতার পরিবর্তন কাম্য
Sunday, 18th October , 2020, 08:47 am,BDST
Print Friendly, PDF & Email

ধর্ষণ কমাতে মানসিকতার পরিবর্তন কাম্য



চাচার কাছেই তো ভাতিজী নিরাপদ না আজ! আঁৎকে উঠলেন নাকি! আরে ভাই-বাবার কাছেও মেয়েরা আজ নিরাপদ না।কিছু দিন আগেই তো ঘটলো বাবার হাতে মেয়ে ধারাবাহিক ধর্ষণের ঘটনা।বিদেশ ফেরত বাবার হাতে যুবতী মেয়ে ধর্ষণের বাংলাদেশে একেবারেই নতুন কিছু না। ধর্ষণ নিয়ে বাংলাদেশে বহু লেখা-লেখি হয়েছে। আমিও টুকটাক কিছুটা লিখেছি।তো, কি হয়েছে! আরো জন্ম নিচ্ছে অসভ্যদের বংশ।

ধর্ষণ হওয়ার প্রধান কারণ অনেকগুলো থাকলেও তার মধ্যে আমার কাছে অন্যতম কারণ মনে হয় পুরুষের দর্শন আর চিন্তা। পুরুষের চিন্তা থেকেই অধিকাংশ ধর্ষণ হয়ে থাকে আর এই ধর্ষণের পিছনে প্রথমেই কাজ করে আমাদের পুরুষের দর্শন। কুকুর যখন গোস্ত দেখে সাথে সাথে তার মুখে লালা আসে এবং জিহ্বা বের করে গোস্তের চারপাশে ঘুর ঘুর করে।কারণ কুকুর চিনে কোনটা গোস্তের টুকরা। তাই কুকুর তার স্বভাববশত সেই গোস্তের টুকরার পিছনে ঘুরে। ঠিক আমাদের সমাজেও আমাদের মাঝ থেকে কিছু কুকুর সামঞ্জস্য পুরুষ আছে, যারা স্রেফ মহিলাদের আর যুবতী মেয়েদের দেখলেই কেবল গোস্তের টুকরা মনে করে।আর সেই সুবাদে তাদের লালা বের করে পিছনে ছুটতে থাকে। সর্বশেষ কুত্তার মত ঝাঁপিয়ে পড়ে। যাকে বলি আমরা ধর্ষণ আর গণধর্ষণ।

বর্তমানে বেশির ভাগ এরকম ধর্ষণকারীরা কিন্তু আমাদের অপরিচিতদের মাঝ থেকে উঠে আসা না। এসব ধর্ষণকারীরাই আমাদের প্রতিবেশী আর সহপাঠি। স্কুল-কলেজ আর ভার্সিটিতে তাদের বসবাস। তারা এখন শিক্ষিত ধর্ষক।তাদের ধর্ষণ করার স্টাইল এখন অন্যরকম। তারা সব সময় ছত্র-ছায়ায় থেকেই চলতে ভালো জানে। তাই এমসি কলেজে ধর্ষণের পর স্থানীয় রাজনৈতিক দলের একটা অংশ তা চাপা দেয়ার চেষ্টা করেছে। সিলেটের সেই ধর্ষিতা বোনের কপাল ভালো যে, তাকে হত্যা করেনি এই শিক্ষিত ধর্ষকরা।

শিক্ষিত ধর্ষকদের হাত থেকে মুক্ত না আজ ক্যাম্পাস থেকে শুরু করে অজয়পাড়া এলাকাও। যেখানে মেয়ে দেখে তারা কুকুরের মত গোস্তের টুকরা মনে করে ঝাঁপিয়ে পড়ে। আমার মনে হয় তারা তাদের ঘরের খুব কাছের লোকদেরও কেবল গোস্তের টুকরা মনে করে। শুধু লোক লজ্জ্বার ভয়ে হয়তো কাছে ঘেঁষে না।

বাসের হেলপার আর কন্ট্রাকটর দ্বারা ধর্ষণ না হয় ধরে নিলাম মূর্খতা আর অজ্ঞতার কারণবশত হয়।তবে ক্ষমতাসীন কিংবা এলাকার প্রভাবশালীদের কিংবা প্রভাবশালী সন্তানদের দ্বারা হওয়া ধর্ষণের নেপত্ত্বে তবে কারা জড়িত। আমি কি এই কথা বলতে পারি-এসব ধর্ষকদের সাথে স্রেফ রাষ্ট্র নিজেই জড়িত।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)এর তথ্যমতে, এই বছরের প্রথম নয় মাসে(জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৭৫ জন নারী। এছাড়া গণধর্ষণের শিকার ২০৮ জন এবং ধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিয়েছেন আরো ১২ জন নারী।

আসক এর তথ্য থেকে আরো জানা যায়, গত ৯ মাসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১৬১ নারী। এর মধ্যে যৌন হয়রানির কারণে ১২ নারী আত্মহত্যা করেছেন। আর যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে ৩ নারী এবং ৯ পুরুষ নিহত হয়েছেন। এ সময়কালে দেশে যৌন হয়রানি ও সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যা, পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, গৃহকর্মী নির্যাতন, অ্যাসিড নিক্ষেপসহ নারী নির্যাতনের অনেক ঘটনা ঘটেছে।

আসোকের তথ্যমতে যে ৯৭৫ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন তাদের কতজনের বিচার হয়েছে তা আমাদের অজানা। কারণ তাদের মাঝে তো সবাই এতটা ভাইরাল হননি! এদেশে তো ভাইরাল না হলে আবার কোন বিচারের আশা করা যায় না। আসোকের তথ্যের পরের মাসেই অক্টোবরে ফাঁস হয়েছে ৩২ দিনে আগে সংঘটিত হওয়া নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের একলাশপুরে নারীকে ধর্ষণ চেষ্টার ভিড়িও। ৩২ দিন পর ভিড়িও ভাইরাল করলেন স্বয়ং ধর্ষক! অথচ ৩২ দিন পর! এই ৩২ দিন দেলোয়ারদের আশ্রয় আর সাহস দিলো কে!! ৩২ কেন তাদের কোন হদিস বের করতে পারলো না রাষ্ট্র! কারণ এই ৩২ দিন সেই মহিলার ভিড়িও ভাইরাল হইনি। তাহলে কি রাষ্ট্র কোন ধর্ষণের বিচার করার জন্য ভাইরাল অবধি অপেক্ষা করে!!

এরকম প্রশ্ন যখন রাষ্ট্রকে ঘিরে হাজারো মানুষের ঠিক তখন আবার আসছে আশার বাণী। জনগণের জন দাবির প্রতি সরকারের আসছে সু-নজর।ধর্ষণের শাস্তির ব্যাপারে বলা আছে ‘ধর্ষণের শাস্তি সম্পর্কে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ৯ মতে, যদি কোন পুরুষ কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন৷আইনমন্ত্রী। গত ১৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়। এরপরেই টাঙ্গাইলে প্রথম ধর্ষণের বিচার মৃত্যদণ্ড করা হয়।

মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করার পরও কমছে না ধর্ষণের মহড়া। সারাদেশে ধর্ষণ লেগেই আছে। অতএব, ধর্ষণ কমাতে লাগবে আমাদের দার্শনিক মানসিকতার পরিবর্তন।

এবার আসুন, মূল একটা কথায়। আমার মতে ধর্ষণ কখণও সরকার চাইলেই বন্ধ করতে পারবে না। কারণ ধর্ষণ তো আর সরকার করে না।যদিও ধর্ষণের দ্বায়ভার কখনও সরকার এড়াতে পারবে না। তবে- এই ধর্ষণের নেপথ্যে আমাদের নারী-পুরুষকে উভয়কে দায়ি করা একেবারে বেঠিক নয়।কারণ ধর্ষণের চিন্তা প্রথম আসে আমাদের মানসিকতা থেকে। আমরা ধর্ষণ করবো বলেই তো ধর্ষণ করি।আর ধর্ষণ করার মন মানসিকতা আসে নারীদের কেবল মাংসপিণ্ড ভাবার আস্তাবল থেকে। আমরা নারী দেখলেই মাংস ভাবি আর ঝাঁপিয়ে পড়ি কুকুরের মত।এই কুকুর মার্কা সভ্য ধর্ষক সাজার মানসিকতা থেকে বের হতে হবে। অতএব, রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগের সাথে সাথে নিজের চিন্তা-চেতনারও পরিবর্তন করতে হবে। তাতেই কমবে ধর্ষণের হার।

সর্বোপরি সরকারকে সাধুবাদ ধর্ষণ কমাতে মৃত্যুদণ্ডের মত রায় প্রদান করা। ধন্যবাদের সাথে সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ এই রায় আরো যথাযোগ্যভাবে পর্যালোচনার মাধ্যমে কার্যকর করা। ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করাতে যেন আবার এমনটি না হয় যে ধর্ষণকারী তার ধর্ষণের আলামত গোপন করার জন্য মেয়েটিকে হত্যা করে।

সুলতান মাহমুদ আরিফ
শিক্ষার্থী এবং গণ্যমাধ্যম কর্মী
sultanmahmudariftc4@gmail.com
*প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। লাস্টনিউজবিডি‌’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে মিল নেই। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য লাস্টনিউজবিডি‌ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।
Print Friendly, PDF & Email

You must be logged in to post a comment Login

পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >

জার্মানির বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, নাক দিয়েও মস্তিস্কে করোনা হানা দেয়। আপনি কি মনে করেন মস্তিস্কে করোনার আক্রমণ রক্ষার্থে মাস্ক ই যথেষ্ট?

View Results

Loading ... Loading ...
আর্কাইভ
মতামত
যুবলীগের নতুন নেতৃত্বঃ পরশের পরশ ছোঁয়ায় জেগে উঠুক কোটি তরুণ
।।মানিক লাল ঘোষ।।"আমার চেষ্টা থাকবে যুব সমাজ যেনো...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
সফল হওয়ার গল্প, সাফল্যের পথ
।।আলীমুজ্জামান হারুন।। ১৯৮১ সালে যখন নিটল মটরসের য...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • হয়নি সীমান্ত মেলা: দেখা না করেই ফিরলেন স্বজনরা
  • বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য উচ্ছেদের হুমকি প্রদানকারীদের বিচারের দাবি
  • দিবালোকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জমি দখলের অভিযোগ

জার্মানির বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, নাক দিয়েও মস্তিস্কে করোনা হানা দেয়। আপনি কি মনে করেন মস্তিস্কে করোনার আক্রমণ রক্ষার্থে মাস্ক ই যথেষ্ট?

  • হ্যা (67%, ৪ Votes)
  • না (17%, ১ Votes)
  • মতামত নাই (16%, ১ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ২, ২০২০ @ ৩:১৯ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

মডার্নার, ফাইজারের করোনা ভাইরাসের টিকার মধ্যে মডার্নার টিকার উপর কি আপনার আস্থা বেশি ?

  • মতামত নাই (100%, ১ Votes)
  • হ্যা (0%, ০ Votes)
  • না (0%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ২, ২০২০ @ ৯:১৯ পূর্বাহ্ন
End Date: No Expiry

মার্কিন টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্নার দাবি করেছেন অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর ওপর এ টিকা ১০০ শতাংশ কাজ করেছে। আপনি কি শতভাগ ফলপ্রসু মনে করেন?

  • হ্যা (100%, ১ Votes)
  • না (0%, ০ Votes)
  • মতামত নাই (0%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ১, ২০২০ @ ১২:৫১ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

ফাইজার, অক্সফোর্ড, রাশিয়ান, চায়নার ভ্যাকসিনগুলোকে আপনি কি করোনা প্রতিরোধক কার্যকর টিকা বলে মনে করেন?

  • না (67%, ২ Votes)
  • মতামত নাই (33%, ১ Votes)
  • হ্যা (0%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: নভেম্বর ২৯, ২০২০ @ ৫:২৮ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

ফাইজার, অক্সফোর্ড, রাশিয়ান ইন, চায়না ভ্যাকসিনগুলোকে আপনি কি করোনা প্রতিরোধক কার্যকর টিকা বলে মনে করেন?

  • হ্যা (0%, ০ Votes)
  • না (0%, ০ Votes)
  • মতামত নাই (100%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: নভেম্বর ২৯, ২০২০ @ ৪:৫৭ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

 Page ১ of ২  ১  ২  »