হাওর -বাওর দুর্গম এলাকায় এগিয়ে চলছে টেলিটকের ৪শ বিটিএস বসানোর কাজ
Monday, 12th October , 2020, 09:31 pm,BDST
Print Friendly, PDF & Email

হাওর -বাওর দুর্গম এলাকায় এগিয়ে চলছে টেলিটকের ৪শ বিটিএস বসানোর কাজ



আলীমুজ্জামান হারুন:-সরকারি খাতের একমাত্র মোবাইল কোম্পানী টেলিটকের হাওর -বাওর এলাকায় ৪শ বিটিএস বসানোর কাজ দ্রুততার সাথে এগিয়ে চলছে । দুর্গম এলাকার লোকদের সাশ্রই মূল্যে কথা বলার জন্য এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের নাম দেয়া হয়েছে ‘ হাওর এন্ড আইল্যান্ড” । এই প্রকল্পের অধীনে ৪শ বিটিএস বসানো হবে । এতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৩৮০ কোটি টাকা।

আগামী বছরের জুনের মধ্যে এই কাজ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে । করোনার কারনে এই প্রকল্পের কাজের গতি কয়েক মাসের জন্য মন্থর হয়ে পড়লেও এখন পুরোদমে এগিয়ে চলছে বলে প্রকল্পের সূত্রে জানা গেছে ।

এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হাওড়, বাঁওড় ও দুর্গম এলাকায় টেলিটকের নেটওয়ার্ক স্থাপন করা। যাতে দেশের একজন মানুষও মোবাইল ও ইন্টারনেটের বাইরে না থাকেন। নতুনভাবে স্থাপন করা টেলিটকের প্রতিটি টাওয়ার (বিটিএস) রেডিও লিংকের মাধ্যমে সংযুক্ত হবে। তবে কিছু জায়গায় কেবলের মাধ্যমেও টাওয়ারগুলোকে সংযুক্ত রাখা হবে। হাওড় বাঁওড় এলাকায় প্রতিটি টাওয়ারের উচ্চতা হবে ৩২ থেকে ৫০ মিটার পর্যন্ত। যাতে মানুষ অনেক দূর থেকেও নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। প্রকল্পটি আগামী বছরের জুনে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা ৪৯ লাখ। ৪শ’ বিটিএস বেইজ স্টেশন) বা টাওয়ার নির্মাণ হলে আরো ১১ লাখ গ্রাহক বাড়বে। মূলত শুধু ওই ১১ লাখ গ্রাহক বাড়াই বড় কথা না, বরং দুর্গম এলাকার মানুষকে টেলিটকের নেটওয়ার্কের আওতায় আনাই হচ্ছে বড় উদ্দেশ্য। মোবাইল ও ইন্টারনেট কানেক্টিভির মধ্যে না আনতে পারলে দুর্গম এলাকার মানুষ আধুনিক সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। কারণ বর্তমান বিশ্বে ইন্টারনেট সবার অধিকার। টেলিটক টাওয়ার নির্মাণের পর মোবাইল ব্রডব্যান্ড কানেক্টিভি এবং টু-জি, থ্রি-জি ও ফোর-জি কানেক্টিভি দেয়া হবে।

সূত্র জানায়, দেশে মোট ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করা হতো মাত্র সাড়ে ৭ জিবিপিএস (গিগাবাইট পার সেকেন্ড)। দেশের প্রায় ৪ হাজারেরও বেশি ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া হয়েছে। এসওএফ তহবিলের মাধ্যমে দেশের ৪০টি দ্বীপ, চরাঞ্চলসহ দুর্গম এলাকায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেয়ার কাজ শুরু হয়েছে। তাছাড়াও অধুনালুপ্ত ছিটমহলসহ ৭৭২টি দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার কাজ চলছে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ প্রথম স্তর অতিক্রম করবে। কিন্তু এটাই শেষ না, বরং বাংলাদেশকে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম স্তর অতিক্রম করার প্রস্তুতি নিতে হবে। ইতিমধ্যে ফাইভ জি নেটওয়ার্ক তৈরি করার জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে। তাছাড়া সরকার দ্বিতীয় সাবমেরিন ও বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ উৎক্ষেপণেরও কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে দেশে এক হাজার ৮শ’ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হচ্ছে। আগামী বছরে এর পরিমাণ ২ হাজার একশ’ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের প্রয়োজন হবে। কারণ দেশে ডাটার ব্যবহার দিন দিন বেড়েই চলেছে। কুয়াকাটা থেকে ব্যান্ডউইথ বাড়াতে পারবে সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার জানান, ভয়াবহ রূপে আবির্ভূত হবে ইন্টারনেট সভ্যতা। ২০০৮ সালে দেশে মাত্র ৮ লাখ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করতো। বর্তমানে সাড়ে ১১ কোটি মানুষ ব্যবহার করছে। এই সময়ে এসে দুর্গম এলাকার মানুষ মোবাইল ও ইন্টারনেট থেকে বঞ্চিত হতে পারে না। তাদের মোবাইল যোগাযোগ ও ইন্টারনেট সুবিধা দিতে হবে। এ কারণেই সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ) থেকে সারাদেশে সাড়ে ৪শ’ টাওয়ার নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পে টাওয়ারের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। দেশের এমনও অঞ্চল রয়েছে যেখানে কোনো মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্ক পৌঁছেনি। টেলিটক সরকারের একটি প্রতিষ্ঠান। তার দায় রয়েছে মানুষের হাতে নেটওয়ার্ক পৌঁছে দেয়ার। ৩৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে মোবাইল অপারেটর টেলিটক। ২০২১ সালের জুনের মধ্যে টেলিটক সারাদেশে নেটওয়ার্ক বিস্তার করবে। তখন দেশের সব মানুষ নেটওয়ার্কের আওতায় চলে আসবে।

চর ও হাওর অঞ্চলের সাথে ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার কাজ শুরু:মোস্তাফা জব্বার

পাশাপাশি ‘গ্রাম পর্যায়ে টেলিটকের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং ৫জি সেবা প্রদানে নেটওয়ার্ক আধুনিকায়ন’ নামে আরেকটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে টেলিটক । এই প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৮২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। ২০১৯ সালের অক্টোবর থেকে ২০২২ সালের জুন মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির মূল কার্যক্রম হচ্ছে- ৯ হাজার ৪১০ সেট টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম কেনা, তিন হাজার বিটিএস সাইট নির্মাণ, ট্রান্সমিশন হাবের জন্য ১০০ সাইট প্রস্তুত, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি কেনা, কাস্টমার কেয়ার ও আসবাবপত্র কেনা। সরকার ঘোষিত লক্ষ্য অনুযায়ী, আগামী ২০২১-২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশে ফাইভজি প্রযুক্তিনির্ভর মোবাইল সেবা প্রদান নিশ্চিতকরণ।

পরিকল্পনা বিভাগের অক্টোবর-২০১৬ জারিকৃত পরিপত্রের অনুচ্ছেদ-৪ অনুযায়ী ২৫ কোটি টাকার ঊর্ধ্বে প্রাক্কলিত ব্যয় সম্পন্ন সব বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণের আগে আবশ্যিকভাবে সম্ভাব্যতা যাচাই করার শর্ত রয়েছে। টেলিটকের প্রস্তাবিত প্রকল্পের মোট ব্যয় তিন হাজার ২৮২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা প্রাক্কলন করা হলেও কোনো ফিজিবিলিট স্ট্যাডি সম্পন্ন করা হয়নি। প্রকল্পটির কার্যপরিধি দেশব্যাপী হওয়ায় এবং টেলিযোগাযোগ খাতের অন্যান্য বেসরকারি মোবাইল অপারেটর থাকায় এর সম্ভাব্যতা যাচাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওই বেসরকারি অপারেটরদের মার্কেট শেয়ার ৯০ শতাংশের বেশি।

পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প শক্তি উইং বলছে, রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি হওয়া সত্ত্বেও পরিকল্পনা বিভাগের পরিপত্রের অনুচ্ছেদ-৯ ও ১০ এর শর্তানুযায়ী অর্থ বিভাগের মনিটরিং সেল থেকে ছাড়পত্র গ্রহণ করেনি। কোনো ছাড়পত্র ছাড়াই প্রতিষ্ঠানটি তিন হাজার ২৮২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। চায়না এক্সিম ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় দুই হাজার ৮০ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে গত ২০১৫ সালের জুনে একটি প্রকল্প সমাপ্ত করা হয়। ওই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ফলে টেলিটকের সেবার মান ও সক্ষমতা কী পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে, তার বিবরণ সংযুক্ত হয়নি।

সরকারি বিধান থাকলেও টেলিটকের সোয়া তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে সম্ভাব্যতা যাচাই ছাড়াই প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। এই প্রকল্পেই প্রতি মাসে প্রশাসনিক ব্যয় হবে প্রায় ১১ কোটি টাকা। আর প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহারে বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি ব্যয় হবে মাসে ১৬ লাখ টাকা। আর প্রতিটি মোটরযানের দাম ধরা হয়েছে ৬০ লাখ ২২ হাজার টাকার বেশি। তবে এই প্রকল্পের বিভিন্ন ব্যয় নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের আপত্তি রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে।

টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের প্রায় ১০ কোটি মানুষ ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত। আর এই বঞ্চিতদের হার গ্রাম পর্যায়ে বেশি। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ক্রয়ক্ষমতা অনেকাংশে কম। বেসরকারি মালিকানাধীন অন্যান্য মোবাইল অপারেটররা এসব প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ব্যবসায়িক ও মুনাফার বিবেচনায় নেটওয়ার্ক বিস্তারের মাধ্যমে মোবাইল ব্রডব্র্যান্ড সেবা প্রদান করতে অনেকেই অনিচ্ছুক। ফলে গ্রামপর্যায়ে গ্রাহকেরা শহরের মতো অত্যাধুনিক মোবাইল ব্রডব্র্যান্ড সেবা থেকে বঞ্চিত। আর এ কারণে জনসাধারণের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগের অসম বণ্টন সৃষ্টির মাধ্যমে ডিজিটাল বৈষম্য সৃষ্টি হচ্ছে। তাই গ্রামে সবার মাঝে প্রাথমিকভাবে ফোরজি ও পরে ফাইভ-জি পৌঁছে দিতেই এই প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। প্রস্তাবিত প্রকল্পটির মূল কার্যক্রম হচ্ছে ৯ হাজার ৪১০ সেট টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম কেনা, তিন হাজার বিটিএস সাইট নির্মাণ, ট্রান্সমিশন হাবের জন্য ১০০ সাইট প্রস্তুতকরণ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি কেনা, কাস্টমার কেয়ার ৩০ সাইট ও আসবাবপত্র কেনা। সূত্র মতে, বর্তমানে টেলিটকের ভয়েস ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের কাভারেজ অন্যান্য অপারেটরের তুলনায় সীমিত। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে কভারেজ খুবই কম। টেলিটকের মোট টাওয়ার বা সাইট সংখ্যা সাড়ে চার হাজারটি। এর মধ্যে টু-জি বিটিএস যন্ত্রপাতি হলো সাড়ে চার হাজারটি, থ্রি-জি বিটিএস তিন হাজার ৬২টি এবং ফোর-জি বিটিএস এক হাজার ১০০টি। এই টাওয়ার ও টেলিকম যন্ত্রপাতির সংখ্যা অন্যান্য প্রতিযোগীর তুলনায় নিতান্তই কম।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রকল্পটি ৩৬ মাস বা তিন অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা হবে। এই ৩৬ মাসে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য জিওবি খাত থেকে মোট ৩৮৬ কোটি আট লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ফলে প্রতি মাসে শুধু প্রশাসনিক খাতে ব্যয় হবে ১০ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। এই ব্যয়ের যৌক্তিকতা জানতে চেয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। অন্য দিকে পেট্রল, অয়েলসহ জ্বালানি খাতে ৩৬ মাসে ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রতি মাসে এই প্রকল্পে শুধু জ্বালানি খাতেই খরচ করতে হবে ১৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা। ২৭টি মোটরযান কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ কোটি ২৬ লাখ টাকা। মুদ্রণ ও মনিহারিতে ব্যয় ধরা হয়েছে সাত কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এখানে প্রতি মাসে ব্যয় হবে ২১ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। মেরামতে ব্যয় বরাদ্দ ধরা হয়েছে ছয় কোটি ৪৭ লাখ ২১ হাজার টাকা। এখানে মাসে ব্যয় হবে ১৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

এ দিকে টেলিযোগাযোগ সরঞ্জামাদি কেনার জন্য দুই হাজার ৩০৫ কোটি আট লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। অনুমোদিত কোনো শিডিউল অব রেইটস না থাকায় এসব যন্ত্রপাতির স্পেসিফিকেশন ও ব্যয় প্রাক্কলনের ভিত্তি কিভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, তা সুস্পষ্ট নয়।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন, ‘প্রযুক্তি সর্বদা পরিবর্তনশীল। তাই কর্মজীবন ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলতে না পারলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা অসম্ভব। বাংলাদেশ ফাইভ জি’র নেতৃত্ব দিচ্ছে। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ২০২১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ফাইভ জি চালু করার কথা ছিল। কিন্তু আমরা আশা করছি এর আগেই দেশে ফাইভ জি চালু হবে’। মন্ত্রী জানান, আগামী বছর অথবা পরের বছর দেশ ফাইভ জি যুগে প্রবেশ করবে । সে কারণে এখন যে প্রযুক্তিগুলো রয়েছে আগামীতে তার আমূল পরিবর্তন ঘটবে। আপনারা দেখতে পাবেন আমাদের রাষ্ট্রীয় সংস্থা টেলিটক এবং বিটিসিএল-তারাই প্রথম ফাইভ জি দিয়ে যাত্রা শুরু করবে।

ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেন, ‘আমরা ২২ হাজার পর্ন সাইট বন্ধ করেছি। দুই হাজার জুয়ার সাইট বন্ধ করেছি। প্রতিদিন জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে যারা গুজব ছড়ায় তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা প্রকল্প বাস্তবায়নের শেষ পর্যায়ে রয়েছি। আমরা এইটকু বলতে চাই, যেভাবে আমরা প্রতিটি মানুষকে ইন্টারনেটের আওতায় আনতে চাই তেমনি করে আমরা ইন্টারনেটকে নিরাপদ করতে চাই। আমরা এই দায়িত্ব পালন করছি’।

মন্ত্রী বলেন, ‘সামনের দিনগুলো শুধু ইন্টারনেট ও ব্রাউজিং করার দিন নয়, আধুনিক প্রযুক্তির যুগ। আমরাই প্রথম দেশের নামের সঙ্গে ডিজিটাল শব্দ ব্যবহার শুরু করি। বিশ্বে বাংলাদেশই প্রথম, দেশকে ডিজিটাল ঘোষণা করেছে। এক বছর পর ব্রিটেন এবং ছয় বছর পর ভারত একই ঘোষণা দিয়েছে। আট বছর পর বিশ্বজুড়ে বলা হচ্ছে এখন ডিজিটাল বিপ্লবের সময়। তাই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে শুধু গতানুগতিক প্রশিক্ষণ বা শিক্ষাগ্রহণ করলেই হবে না, অর্জিত জ্ঞানকে পেশাগত জীবনে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যাবে’।

বর্তমানে টেলিটকের ভয়েস ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের কভারেজ অন্যান্য অপারেটরের তুলনায় সীমিত। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে কভারেজ খুবই কম। টেলিটকের মোট টাওয়ার বা সাইট সংখ্যা সাড়ে ৪ হাজার। এর মধ্যে টু-জি বিটিএস যন্ত্রপাতি হলো সাড়ে চার হাজার, থ্রি-জি বিটিএস তিন হাজার ৬২টি এবং ফোর-জি বিটিএস এক হাজার ১০০টি। এই টাওয়ার ও টেলিকম যন্ত্রপাতির সংখ্যা অন্যান্য প্রতিযোগীর তুলনায় অত্যন্ত কম।‘

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সূত্র জানায়, দেশের প্রায় ১০ কোটি জনগণ ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এ হার গ্রামে বেশি। শহরের তুলনায় গ্রামে ব্যবহারকারীদের ক্রয়ক্ষমতা অনেকাংশে কম, ব্যক্তিমালিকানাধীন অন্যান্য মোবাইল অপারেটররা এসব প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে ব্যবসায়িক ও মুনাফা বিবেচনায় নেটওয়ার্ক বিস্তারের মাধ্যমে মোবাইল ব্রডব্যান্ড সেবা দিতে চায় না। ফলে গ্রামের মানুষেরা ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

টেলিটক সূত্র জানায়, বর্তমানে শহরাঞ্চলে বিদ্যমান টেলিটকের ‘ফোরজি’ নেটওয়ার্ক ইউনিয়ন, গ্রাম পর্যন্ত প্রসারিত করে গ্রামাঞ্চলের মানুষকে সুলভমূল্যে দ্রুতগতির ফোরজি ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে সরকার ঘোষিত লক্ষ্য অনুসারে, ২০২১-২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটা গ্রামে ফাইভজি প্রযুক্তি নির্ভর মোবাইল সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

টেলিযোগাযোগ খাতে অচীরেই নয়া বিপ্লব আনছে বিটিসিএল

Print Friendly, PDF & Email

মতামত দিন

মতামত দিন

পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >

করোনার বুলেটিন না প্রকাশের সাথে আপনি কি একমত ?

ফলাফল দেখুন

Loading ... Loading ...
আর্কাইভ
মতামত
বাংলাদেশ-মিয়ানমার : সামরিক শক্তিতে কে এগিয়ে?
বাংলাদেশ-মিয়ানমারের মধ্যে কখনো সরাসরি যুদ্ধ না বা...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
সফল হওয়ার গল্প, সাফল্যের পথ
।।আলীমুজ্জামান হারুন।। ১৯৮১ সালে যখন নিটল মটরসের য...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • রংপুরে স্কুলছাত্রীকে গণধর্ষণ: গ্রেফতার আরও ২জন
  • দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রকে বলাৎকার করেছে এক কিশোর
  • প্রেমিকাকে গণধর্ষণ: পুলিশ কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

করোনার বুলেটিন না প্রকাশের সাথে আপনি কি একমত ?

  • মতামত নাই (11%, ১১ Votes)
  • হ্যা (30%, ২৯ Votes)
  • না (59%, ৫৬ Votes)

Total Voters: ৯৬

করেনার বুলেটিন না প্রকাশের সাথে আপনি কি একমত ?

  • মতামত নাই (0%, ০ Votes)
  • হ্যা (0%, ০ Votes)
  • না (100%, ০ Votes)

Total Voters:

ঈদ উদযাপনের চেয়ে বেঁচে থাকার লড়াইটা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আপনি কি একমত ?

  • মতামত নাই (12%, ১৪ Votes)
  • না (16%, ১৯ Votes)
  • হ্যা (72%, ৮৬ Votes)

Total Voters: ১১৯

ত্রাণ নিয়ে সমালোচনা না করে হতদরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর, এই আহবানের সাথে কি আপনি একমত ?

  • মতামত নাই (4%, ২ Votes)
  • না (16%, ৮ Votes)
  • হ্যা (80%, ৪১ Votes)

Total Voters: ৫১

যাদের প্রচুর টাকা-পয়সা, ধন-দৌলতের অভাব নেই তারা কীভাবে আন্দোলন করবে? বিএনপির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদের। আপনি কি এই মন্তব্যের সাথে একমত ?

  • মতামত নাই (15%, ১০ Votes)
  • না (21%, ১৪ Votes)
  • হ্যা (64%, ৪৪ Votes)

Total Voters: ৬৮

বিএনপির কর্মীরা নেতাদের প্রতি আস্থা হারিয়েছেন,জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বক্তব্যের সাথে আপনি কি একমত ?

  • মন্তব্য নেই (21%, ৩ Votes)
  • না (21%, ৩ Votes)
  • হ্যা (58%, ৮ Votes)

Total Voters: ১৪

অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বিএসটিআই‌‌‍‍র এখন গতিশীল ফিরে এসেছে এই কথার সাথে কি আপনি একমত ?

  • হ্যা (14%, ১ Votes)
  • একমত না (29%, ২ Votes)
  • না (57%, ৪ Votes)

Total Voters:

ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠ হবে বলে আপনি কি মনে করেন ?

  • মতামত নেই (13%, ৬ Votes)
  • না (43%, ২০ Votes)
  • হ্যা (44%, ২১ Votes)

Total Voters: ৪৭

দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। এজন্য তার অনেক আত্মীয়-স্বজনকে গণভবনে ঢোকা বন্ধ করে দিয়েছেন। আপনি কি এই পদক্ষেপ সমর্থন করছেন?

  • মন্তব্য নাই (11%, ১১ Votes)
  • না (16%, ১৭ Votes)
  • হ্যা (73%, ৭৬ Votes)

Total Voters: ১০৪

১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, খাদ্যের মতো রাজনীতিতেও ভেজাল ঢুকে পড়েছে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় তাই এখানেও কিছু ভেজাল প্রবেশ করেছে। আপনি কি এই মন্তব্যের সাথে একমত ?

  • মন্তব্য নাই (2%, ৩ Votes)
  • না (8%, ১২ Votes)
  • হ্যা (90%, ১২৮ Votes)

Total Voters: ১৪৩

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেছেন, বিএনপি একটি বট গাছ, এ গাছ থেকে দু’একটি পাতা ঝড়ে পরলে বিএনপির কিছু যাবে আসবে না , এ মন্তব্যের সাথে কি আপনি একমত ?

  • মতামত নেই (7%, ৩ Votes)
  • না (29%, ১২ Votes)
  • হ্যা (64%, ২৭ Votes)

Total Voters: ৪২

অনেক এনজিও অসৎ উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। আপনি কি এই মন্তব্যের সাথে একমত ?

  • মতামত নাই (0%, ০ Votes)
  • না (19%, ৬ Votes)
  • হ্যা (81%, ২৫ Votes)

Total Voters: ৩১

ডাক্তারদের ফি বেধে দেয়ার সরকারের পরিকল্পনার সাথে আপনি কি একমত?

  • না (0%, ০ Votes)
  • মতামত নাই (6%, ২ Votes)
  • হ্যা (94%, ৩০ Votes)

Total Voters: ৩২

দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে মন্ত্রীসভায় প্রধানমন্ত্রী যে চমক এনেছেন তাতে কি আপনি খুশি ?

  • মতামত নাই (15%, ৫ Votes)
  • না (24%, ৮ Votes)
  • হ্যা (61%, ২১ Votes)

Total Voters: ৩৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠ ,নিরপেক্ষ হয়েছে বলে আপনি মনে করেন ?

  • হা (0%, ০ Votes)
  • না (0%, ০ Votes)
  • মতামত নাই (100%, ০ Votes)

Total Voters:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠ ,নিরপেক্ষ হয়েছে বলে আপনি মনে করেন ?

  • মন্তব্য নাই (9%, ২ Votes)
  • হ্যা (18%, ৪ Votes)
  • না (73%, ১৬ Votes)

Total Voters: ২২

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে বলে আপনি মনে করেন ?

  • মতামত নাই (5%, ২ Votes)
  • হ্যা (34%, ১৫ Votes)
  • না (61%, ২৭ Votes)

Total Voters: ৪৪

একবার ভোট বর্জন করায় অনেক খেসারত দিতে হয়েছে মন্তব্য করে আর নির্বাচন বয়কটের আওয়াজ না তুলতে জোট নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন, আপনি কি একমত ?

  • মতামত নাই (3%, ১ Votes)
  • না (6%, ২ Votes)
  • হা (91%, ৩২ Votes)

Total Voters: ৩৫

সংলাপ সফল হবে বলে আপনি মনে করেন ?

  • হা (13%, ২ Votes)
  • মতামত নাই (13%, ২ Votes)
  • না (74%, ১১ Votes)

Total Voters: ১৫

আপনি কি মনে করেন যে কোন পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচন করবে ?

  • মতামত নাই (7%, ৭ Votes)
  • না (23%, ২৩ Votes)
  • হ্যা (70%, ৭১ Votes)

Total Voters: ১০১

অাপনি কি কোটা সংস্কারের পক্ষে ?

  • মতামত নেই (3%, ১ Votes)
  • না (8%, ৩ Votes)
  • হ্যা (89%, ৩৩ Votes)

Total Voters: ৩৭

খালেদা জিয়ার মামলা লড়তে বিদেশি আইনজীবীর কোন প্রয়োজন নেই' বিএনপি নেতা আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের সাথে - আপনিও কি একমত ?

  • মতামত নাই (9%, ১ Votes)
  • না (27%, ৩ Votes)
  • হ্যা (64%, ৭ Votes)

Total Voters: ১১

আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের কোনো উপদেশ বা পরামর্শের প্রয়োজন নেই বলে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্য যৌক্তিক বলে মনে করেন কি?

  • মতামত নাই (7%, ১ Votes)
  • হ্যা (20%, ৩ Votes)
  • না (73%, ১১ Votes)

Total Voters: ১৫

এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব) অলি আহমাদ বলেন, এরশাদকে খুশি করতে বেগম জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের জেলখানায় নেয়া হয়েছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  • মতামত নাই (8%, ৫ Votes)
  • না (27%, ১৬ Votes)
  • হ্যা (65%, ৩৮ Votes)

Total Voters: ৫৯

আপনি কি মনে করেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহন করবে ?

  • না (13%, ৫৪ Votes)
  • হ্যা (87%, ৩৬২ Votes)

Total Voters: ৪১৬

আপনি কি মনে করেন বিএনপির‘র সহায়ক সরকারের রুপরেখা আদায় করা আন্দোলন ছাড়া সম্ভব ?

  • হ্যা (32%, ৪৫ Votes)
  • না (68%, ৯৫ Votes)

Total Voters: ১৪০

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরে নির্ভরশীল, এ বিষয়ে অাপনার মন্তব্য কি ?

  • মন্তব্য নাই (7%, ২ Votes)
  • হ্যা (26%, ৭ Votes)
  • না (67%, ১৮ Votes)

Total Voters: ২৭

আপনি কি মনে করেন নির্ধারিত সময়ের আগে আগাম নির্বাচন হবে?

  • মন্তব্য নাই (7%, ১০ Votes)
  • হ্যা (31%, ৪৬ Votes)
  • না (62%, ৯১ Votes)

Total Voters: ১৪৭

হেফাজতকে বড় রাজনৈতিক দল বানানোর চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। আপনি কি তার সাথে একমত?

  • মতামত নাই (10%, ৩ Votes)
  • না (34%, ১০ Votes)
  • হ্যা (56%, ১৬ Votes)

Total Voters: ২৯

“আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে দেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা কমে যাবে ”সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সাথে কি অাপনি একমত ?

  • মতামত নাই (9%, ৩ Votes)
  • না (32%, ১১ Votes)
  • হ্যা (59%, ২০ Votes)

Total Voters: ৩৪

আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে যারা সংগঠনের নামে দোকান খুলে বসেছে, তাদের ধরে ধরে পুলিশে দিতে হবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের আপনার প্রতিক্রিয়া কি ?

  • মতামত নাই (7%, ৩ Votes)
  • না (10%, ৪ Votes)
  • হ্যা (83%, ৩৫ Votes)

Total Voters: ৪২

ড্রাইভাররা কি আইনের উর্ধে ?

  • মতামত নাই (2%, ১ Votes)
  • হ্যা (14%, ৭ Votes)
  • না (84%, ৪৩ Votes)

Total Voters: ৫১

সার্চ কমিটিতে রাজনৈতিক দলের কেউ নেই- ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?

  • মতামত নাই (5%, ৩ Votes)
  • হ্যা (31%, ১৭ Votes)
  • না (64%, ৩৫ Votes)

Total Voters: ৫৫