শিক্ষকদের টাইমস্কেল ও ফিক্সিশনের নামে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ
Saturday, 7th May , 2016, 05:59 pm,BDST
Print Friendly, PDF & Email

শিক্ষকদের টাইমস্কেল ও ফিক্সিশনের নামে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ



উত্তম গোলদার,
লাস্টনিউজবিডি, ০৭ মে, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) : মির্জাগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষকদের এরিয়া বিল,টাইমস্কেল ও ফিক্সিশনের নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।

প্রাথমিক শিক্ষকদের বিল তৈরীসহ নানা প্রকারের কাজ করতে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে এক সেন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে শিক্ষকরা। সেন্ডিকেট ভেঙ্গে কেউ শিক্ষা অফিসের কাজ করতে পারছেনা।

আর এসব কাজে সহযোগীতা করছেন কয়েকজন শিক্ষক। ওই শিক্ষকরা তাদের কর্মস্থলে না গিয়ে প্রতিদিনই শিক্ষা অফিসের কাজ করছেন। এসব কাজ শিক্ষা অফিসের অফিস সহকারীর কথা কিন্তু এখানে ঘটছে তা ব্যতিক্রম।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার প্রতিদিন বরগুনা থেকে তাঁর কর্মস্থল মির্জাগঞ্জে আসা-যাওয়া করায় সকাল সাড়ে এগারোটার ছাড়া সঠিক সময়ে তিনি মির্জাগঞ্জে আসতে পারেন না।

শিক্ষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মির্জাগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে টাকা ছাড়া কোন কাজ হয় না। যে কাজ শিক্ষা অফিসের ক্লার্ক এর করার কথা তা তিনি না করে শিক্ষকদের দিয়ে করাচ্ছেন টাকা বিনিময়ে।

প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মির্জাগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৬২ টি,নব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭২টি ও কমিউনিটি বিদ্যালয় ৭টিসহ মোট ১৪১টি বিদ্যালয় রয়েছে।

মির্জাগঞ্জে কতজন প্রাথমিক শিক্ষক রয়েছেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার এর কোন সঠিক তথ্য দিতে পারেননি। তবে তিনি আনুমানিক ভাবে ৫শত থেকে ৬শত শিক্ষকের মতো হবে বলে জানান।

নিয়ম অনুযায়ী শিক্ষা অফিসে প্রাথমিক শিক্ষকদের তালিকা থাকার কথা। অথচ সে তালিকাটা পর্যন্ত নেই। এতেই বোঝা যায় মির্জাগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার হাল-চাল। তবে সব মিলিয়ে মির্জাগঞ্জে প্রায় ৭শত প্রাথমিক শিক্ষক রয়েছে বলে নির্ভরযোগ্যে সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যেক শিক্ষকের কাজ থেকে গত মাসে ফিক্সিশন বাবদ ৪০০টাকা,এরিয়া বিল বাবদ ১ হাজার টাকা ও টাইমস্কেল বাবদ ১ হাজার টাকাসহ মোট ২৪০০ টাকা নেয়া হয়েছে।

এ টাকা ছাড়া কোন শিক্ষকের কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। আর সম্পর্ন না হলে শিক্ষকরা বেতন-ভাতা উত্তোলন করতে পারেবেন না বিধায় শিক্ষকরা টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন।

এছাড়াও অফিস সহকারী মোঃ শহিদুলের নামে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। তিনি শিক্ষকদের সার্ভিস বই গোপন করে শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করছেন।

সম্প্রতি এরকম একটি ঘটনায় ওই অফিস সহকারির উপর এক শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ আবদুর রাজ্জাক বলেন,মির্জাগঞ্জের প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের জনবলের অভাবে এ সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। টাকা-পয়সার ব্যাপারে তিনি বলেন, টুকি-টাকি তো খরচ আছে।

শিক্ষা অফিসের কাজ বাহিরের লোকজন দিয়ে কাজ করাতে হচ্ছে। মির্জাগঞ্জে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৬৮৭ জন।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষকদের এরিয়া বিল,টাইমস্কেল ও ফিক্সিশনের নামে আমার কোন টাকা নিচ্ছি না।

এরকম কোন সু-নিদিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ অফিসে জনবল কম থাকায় শিক্ষকদের দিয়ে এসব কাজ করানো হচ্ছে।

Print Friendly, PDF & Email

You must be logged in to post a comment Login

পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >
আর্কাইভ
মতামত
বাংলাদেশে সাংবাদিকতার সঙ্কট ও সম্ভাবনা: বর্তমান প্রেক্ষিত
।।মনজুরুল আহসান বুলবুল।। গণমাধ্যম বা সাংবাদিকত...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
সফল হওয়ার গল্প, সাফল্যের পথ
।।আলীমুজ্জামান হারুন।। ১৯৮১ সালে যখন নিটল মটরসের য...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • কুড়িগ্রামে বাংলাদেশ রেলওয়ে ফ্যানস ফোরামের বৃক্ষরোপন
  • বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক দাবীতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন
  • কুড়িগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় কৃষক পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

[page_polls]