শিক্ষা আইনের মাধ্যমে মুসলমানিত্ব ধ্বংসের চক্রান্ত চলছে:পীর চরমোনাই
Friday, 6th May , 2016, 07:13 pm,BDST
Print Friendly, PDF & Email

শিক্ষা আইনের মাধ্যমে মুসলমানিত্ব ধ্বংসের চক্রান্ত চলছে:পীর চরমোনাই



লাস্টনিউজবিডি, ০৬ মে, ঢাকা : ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, বর্তমান সিলেবাস থেকে নবী রাসূল সা. ও সাহাবায়ে কেরামগণের জীবনরচিত বাদ দিয়ে রামকৃঞ্চ ও রামায়ণের ইতিহাস সংযোজন করা হয়েছে যা ৯৫% মুসলমানের ঈমান ও আমলে চরম আঘাত।

তিনি বলেন, গরুকে মা সম্বোধন করে কোমলমতি শিশুদের হিন্দুত্বাদ শিখানো হচ্ছে। দেব-দেবির নামে বলি দেয়া গরু বা পাঠা হালাল বলে শিখানো হচ্ছে।

এভাবে সরকারের ছত্রছায়ায় মুসলমানিত্ব ধ্বংস করে হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র চলছে।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রায় সময়ই বলে থাকেন আমি মুসলমান। আমি নামাজ পড়ি, কুরআন তেলাওয়াত করি এবং নাস্তিকদের ব্যাপারে বলেছেন ধর্মের উপর আঘাত করলে আমারও গায়ে লাগে। কাজেই ধর্ম ও ইসলাম নিয়ে কটুক্তি করলে ছাড় দেয়া হবে না।

অফরদিকে শিক্ষা আইন, শিক্ষানীতির মাধ্যমে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হিন্দুত্ববাদের দিকে নিয়ে যাওয়া কার স্বার্থে। এসব অবিলম্বে বাতিল না করলে কঠোর আন্দোলন গড়ে উঠলে সরকারের আখের রক্ষা হবে না।

তিনি ১০-২৬ মার্চ জনমত গঠনের লক্ষ্যে উল্লেখিত বিষয়ে খোলা চিঠি বিতরণ, ১২ মে দেশব্যাপী জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান, ১৬ মে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপি, ২০ মে শিক্ষক সমাবেশ, ২১ মে উলামা-মাশায়েখ সম্মেলন এবং ২৭ মে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় মহাসমাবেশের কর্মসুচী ঘোষণা করেন।

আজ শুক্রবার বাদ জুমআ রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে আয়োজিত বিশাল গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

নাস্তিক্যবাদী শিক্ষানীতি ও শিক্ষা আইন বাতিলের দাবিতে নগর সভাপতি অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিনের সভাপতিত্বে নগর সেক্রেটারী আহমদ আবদুল কাইয়ূম ও এইচ এম সাইফল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ। বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান,মাওলানা ইমতিয়াজ আলম, আলহাজ্ব আমিনুল ইসলাম, নগর সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন, শিক্ষক নেতা এবিএম জাকারিয়া, ছাত্রনেতা জিএম রুহুল আমীন, শ্রমিকনেতা মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, অধ্যাপক ফজলুল হক মৃধা, সৈয়দ ওমর ফারুক প্রমুখ।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ক্ষমতাসীন ধর্মনিরপেক্ষ মতাদর্শ বাস্তবায়নে ইসলাম ও ইসলামই একমাত্র বাধা। তাই তারা সিলেবাসের মাধ্যমে কোমলমতি শিশুদেরকে ঈমান ধ্বংস করে হিন্দুত্ববাদে ধাবিত করতেই নাস্তিক্যবাদী শিক্ষানীতি প্রণয়ন করেছে। তিনি বলেন, কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের যৌনাচার শিক্ষার নামে অবাধ যৌনাচারে উদ্ধুদ্ধ করছে।
সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী বলেন, শিক্ষামন্ত্রী নাস্তিক হওয়ায় তিনি কৌশলে হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠার জন্য।ি সিলেবাসে নাস্তিক্যবাদ ও হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তিনি শিক্ষামন্ত্রীর অফসারণ দাবি করেন।

অধ্যক্ষ মাওলানা ই্উনুছ আহমাদ বলেন, মুসলমানিত্ব ধ্বংসের চক্রান্ত বন্ধ এবং হিন্দুত্ববাদ প্রতিষ্ঠার ষড়যন্ত্র বন্ধ না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। মুসলমানিত্ব ধ্বংস করতে দিতে পারি না। কাজেই অবিলম্বে ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বন্ধ না করলে ঈমানদার জনতা মুসলমানিত্ব রক্ষায় রাজপথে নেমে আসবে। সরকারের মদদে এবার নাস্তিক্যবাদীরা পাঠ্যসিলেবাসে হাত দিয়েছে। তারা কৌশলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বেঈমান বানাতে চেষ্টা করছে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, স্কুল-কলেজ, মাদরাসার বিভিন্ন শ্রেণীর সিলেবাস থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ধর্ম ইসলাম ও মুসলমানদের ঐতিহ্য ও চেতনা সমৃদ্ধ বিভিন্ন প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা ইত্যাদি বাদ দিয়ে তদস্থলে নাস্তিক ও অন্য ধর্মাবলম্বীদের ভাবধারা সমৃদ্ধ বিভিন্ন প্রবন্ধ, গল্প, কবিতা সংযুক্ত করার গভীর ষড়যন্ত্র এদেশের মুসলমানরা মেনে নিবে না।

সিলেবাসে যে সমস্ত অবাঞ্চিত বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে তা পঁচাব্বই ভাগ মুসলমানের দেশে অপ্রয়োজনীয়। তিনি বলেন, সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থা বাদ দিয়ে ৯৫% মুসলিম অধ্যুষিত বাংলাদেশে শিক্ষার সকল স্তরে ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে। নাস্তিক্যবাদীদের চক্রান্তে ইসলামী শিক্ষা, মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস তাহযীব, তামাদ্দুন বাদ দেয়া বা সংকোচন করা চলবে না। শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইসলামী ও মুসলিম ঐতিহ্য বাদ দেয়ার চক্রান্ত দেশ প্রেমিক তাওহীদি জনতা বরদাশত করবে না। জীবনের বিনিময়ে হলেও নাস্তিক্যবাদী শিক্ষানীতি বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না।

গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেন, আধুনিক শিক্ষার সাথে ইসলামী শিক্ষা না থাকায় ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবন এক ভয়াবহ চারিত্রিক দূর্যোগ ও নৈতিক অবক্ষয়ের কবলে পড়েছে। দেশে খুন-ধর্ষণ, জুলুম-নির্যাতন, সুদ-ঘুষ, দূর্নীতিসহ সব অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, বর্তমানে দেশে ৩২০৩১টি কলেজ-স্কুল মাদকের ঝুঁকিতে রয়েছে।

আলোচনা বক্তারা আরো বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নাস্তিক বানাতে আধুনিক ও প্রগতিশীলতার নামে পরিকল্পিতভাবে পাঠ্যবইয়ে, নাস্তিক্যবাদী ও হিন্দুত্ববাদী লেখা সংস্কৃতি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে কৌশলে ইসলামের প্রতি অবজ্ঞা এবং পীর-মাশায়েখদের চরিত্র হননের চেস্টা করে মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে ঈমানদার জনতাকে সোচ্চার হতে হবে। তারা ধর্মীহীন সেক্যুলার শিক্ষানীতি অবিলম্বে বাতিল করার আহ্বান জানান।

বক্তারা বলেন, প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্য বইয়ে কবিতা, প্রবন্ধ, নিবন্ধ ও গল্প মোট ১৯৩টির মধ্যে ১৩৭টিই মুসলমানদের কৃষ্টিকালচারের বাইরে, নাস্তিক ও হিন্দুত্ববাদীদের লেখা। আলিয়া মাদরাসায়ও যাদের গদ্য ও কবিতা পাঠ্য তালিকা করা হয়েছে তাদের অধিকাংশই নাস্তিক ও হিন্দু লেখকদের লেখা। তিনি বলেন, বিদ্যমান এই পাঠ্যসূচি পশু স্বভাবের শিক্ষিত অপদার্থ, দুর্নীতিবাজ, লম্পট এবং রক্ষকের বেশে ভক্ষক ছাড়া আর কিছুই তৈরি করবে না।

Print Friendly, PDF & Email

মতামত দিন

মতামত দিন

পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >
আর্কাইভ
মতামত
বাংলাদেশে সাংবাদিকতার সঙ্কট ও সম্ভাবনা: বর্তমান প্রেক্ষিত
।।মনজুরুল আহসান বুলবুল।। গণমাধ্যম বা সাংবাদিকত...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
সফল হওয়ার গল্প, সাফল্যের পথ
।।আলীমুজ্জামান হারুন।। ১৯৮১ সালে যখন নিটল মটরসের য...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক দাবীতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন
  • কুড়িগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় কৃষক পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
  • স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ধর্ষণ: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

[page_polls]