তারেকের পায় পর্যন্ত ধরেছিলাম
Thursday, 31st March , 2016, 04:14 pm,BDST
Print Friendly, PDF & Email

তারেকের পায় পর্যন্ত ধরেছিলাম



লাস্টনিউজবিডি, ৩১মার্চ, নারায়ণগঞ্জ: নারায়ণগঞ্জের বহুল আলোচিত সাত খুনের দুটি মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ৪ এপ্রিল নির্ধারণ করেছে আদালত।

বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালত এ আদেশ দেন।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টা হতে দুপুরে ২টা পযর্ন্ত ওই আদালতে নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ও শাহজালাল নামে একজনের সাক্ষ্যগ্রহণ নেওয়া হয়।

সাক্ষ্যগ্রহণে নিহত নজরুলের শ্বশুর শহিদ চেয়ারম্যান আদালতকে জানিয়েছে, নজরুলসহ সাতজনকে যখন অপহরণ করা হয় তখন আমরা নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের কাছে যায়। এ সময় তিনি বলেছেন, নজরুলকে বাঁচাতে হলে র‌্যাবের কাছে যান। নজরুলকে র‌্যাব অপহরণ করেছে।

শামীম ওসমানের কথা মতো র‌্যাব-১১ এর কর্নেল তারেক সাঈদের কাছে গেলে তারেক সাঈদ বলেছে, নজরুলকে শামীম ওসমান অপহরণ করেছে। তাকে শামীম ওসমানই রক্ষা করতে পারবে। তারেক সাঈদকে বলেছিলাম, নজরুলকে খুন করতে আপনাদের যত টাকা দিয়েছে তার চেয়ে বেশি টাকা দিব। তারপরও নজরুলকে ফিরিয়ে দিন। তারেক সাঈদের পায়ে পর্যন্ত ধরেছিলাম।

এসময় সাত খুনের ঘটনায় গ্রেফতার ২৩ জনের উপস্থিতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়।

এর আগে সকালে কঠোর নিরাপত্তায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিমপুর কারাগার থেকে ২৩ আসামিকে নারায়ণগঞ্জ আদালতে হাজির করা হয়।

আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, এ মামলা দুটি পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ৪ এপ্রিল নির্ধারণ করেছেন আদালত।

জানা গেছে, সাত খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার রয়েছেন ২৩ জন। পলাতক ১২ জন। সাত খুনের ঘটনায় দুটি মামলা হয়। একটি মামলার বাদী বিজয় কুমার পাল হলেন নিহত অ্যাডভোকেট চন্দন সরকারের মেয়ে জামাতা। অপর বাদী সেলিনা ইসলাম বিউটি হলেন নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী।

দুটি মামলাতেই অভিন্ন সাক্ষী হলেন ১২৭ জন করে। একারণে উভয় মামলার সাক্ষীদের একইসঙ্গে দুই মামলায় জেরা করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, তার বন্ধু মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম, লিটন ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহীম অপহৃত হন। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের ও ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্ত শেষে ২০১৫ সালে ৮ এপ্রিল নূর হোসেন, র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। কিন্তু অভিযোগপত্র থেকে পাঁচ আসামিকে বাদ দেওয়ায় এবং প্রধান আসামি নূর হোসেনের জবানবন্দি ছাড়া অভিযোগপত্র আদালত আমলে নেওয়ায় ‘নারাজি’ আবেদন করেন সেলিনা ইসলাম বিউটি। আবেদনটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও জজ আদালতে খারিজ হয়ে গেলে বিউটি উচ্চ আদালতে যান।

হাই কোর্টের আদেশে বলা হয়, পুলিশ চাইলে মামলাটির ‘অধিকতর তদন্ত’ করতে পারে এবং ‘হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার’ ধারা যুক্ত করে নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারে।

২০১৬ সালে ৮ ফেব্রুয়ারি সাত খুনের দুটি মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এ মামলায় নূর হোসেন ও র‌্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৩ জন কারাগারে আটক রয়েছেন। আর চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে এখনও ১২ জন পলাতক রয়েছেন।

লাস্টনিউজবিডি, এমবি

Print Friendly, PDF & Email

You must be logged in to post a comment Login

পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >
আর্কাইভ
মতামত
বাংলাদেশে সাংবাদিকতার সঙ্কট ও সম্ভাবনা: বর্তমান প্রেক্ষিত
।।মনজুরুল আহসান বুলবুল।। গণমাধ্যম বা সাংবাদিকত...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
সফল হওয়ার গল্প, সাফল্যের পথ
।।আলীমুজ্জামান হারুন।। ১৯৮১ সালে যখন নিটল মটরসের য...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ সড়ক দাবীতে কুড়িগ্রামে মানববন্ধন
  • কুড়িগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় কৃষক পরিবারের সংবাদ সম্মেলন
  • স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ধর্ষণ: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

[page_polls]