যেখানে মৌ-দুধ, সেখানেই মওদুদ
Friday, 9th June , 2017, 06:20 am,BDST
Print Friendly, PDF & Email

যেখানে মৌ-দুধ, সেখানেই মওদুদ



।।প্রভাষ আমিন ।।

সাবেক আইনমন্ত্রী, উপ-প্রধানমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, উপ-রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদকে নাকি ফুটপাতে রাত কাটাতে হবে। গত বুধবার সন্ধ্যায় ৪৫ বছর ধরে অবৈধভাবে দখল করে রাখা বাড়ি থেকে উচ্ছেদ হওয়ার পর সাংবাদিকদের কাছে আক্ষেপ করে এমন কথা বলেছেন তিনি। শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল। আহারে দেশে কোনো আইনের শাসন নেই। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফুটপাতে থাকতে হবে, এটা কোনো কথা হলো।
মন চাইছিল, ছুটে যাই, পথের ফকির বনে যাওয়া ব্যারিস্টার মওদুদের পাশে ফুটপাতে বসে থাকি। আমি না গেলেও বেগম খালেদা জিয়াসহ অনেকেই ছুটে গিয়েছিলেন। আমিও হয়তো যেতাম, কিন্তু পরে শুনলাম, যে ফুটপাতে উনি রাত কাটাবেন, সেটার দামও কয়েক কোটি টাকা, তখন যাওয়ার আগ্রহটা মরে যায়। ব্যারিস্টার মওদুদ শত কোটি টাকার বাগান বাড়ি থেকে কোটি টাকার ফ্ল্যাটে উঠেছেন, এই যা পার্থক্য। আমাদের সহানুভূতি তার না হলেও চলবে।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, দেশে কোনো আইনের শাসন নেই। তাই তাকে বিনা নোটিশে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তার মুখেই আইনের শাসনের কথাটা দারুণ মানায়। তিনিই আইন বানান। আবার বাংলাদেশের আইনকে দুমড়ে-মুচড়ে দেয়ার কৃতিত্ব এই ব্যারিস্টার সাহেবেরই। সর্বোচ্চ আদালতে রিভিউ খারিজ হওয়ার পরই কিন্তু রাজউক তাকে উচ্ছেদ করেছে।
গত রোববার সর্বোচ্চ আদালত তার রিভিউ খারিজ করার পর ব্যারিস্টার মওদুদ বলেছিলেন, তিনি বাড়ি ছাড়বেন না। সর্বোচ্চ আদালতে হেরে যাওয়ার পর কেন তিনি বাড়ি ছাড়বেন না, আইনের আর কোন ফাঁক আছে জানি না। তবে মওদুদ বুধবারই নিজেকে বাড়িটির ভাড়াটে দাবি করে মামলা করেছিলেন। দুদিন আগে মালিক হিসেবে মামলায় হেরে যাওয়ার পর, কিভাবে তিনি একই বাড়ির ভাড়াটে বনে গেলেন; আল্লাহ মালুম। মওদুদদের জন্য আইনের কত ফাঁক যে আছে, কে জানে।
যে বাড়ি নিয়ে এত হইচই, সে বাড়ির প্রকৃত মালিক কিন্তু মওদুদ নন। ১৯৬০ সালে তখনকার ডিআইটি এই বাড়িটি পাকিস্তানি নাগরিক মো. এহসানের নামে বরাদ্দ দেয়। ১৯৬৫ সালে বাড়ির মালিকানার কাগজপত্র এহসানের স্ত্রী অস্ট্রিয়ার নাগরিক ইনজে মারিয়া প্লাজের নামে নিবন্ধন করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে এহসান স্ত্রীসহ ঢাকা ছাড়েন। তারা আর ফিরে না আসায় ১৯৭২ সালে এটি পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকাভুক্ত হয়। সে বছরই মওদুদ বাড়িটির দখল নেন।
তখন তিনি পোস্ট মাস্টার জেনারেল ছিলেন। ইনজে মারিয়া প্লাজের মৃত্যুর পর ভুয়া আমমোক্তারনামা তৈরি করে মওদুদের ভাই মনজুর আহমদের নামে ওই বাড়ির দখল নেওয়া হয়। ২০১৩ সালে দুদক মামলা করার পর শুরু হয় আইনি লড়াই। যা চূড়ান্তভাবে শেষ হয়েছে গত রোববার, মওদুদের পরাজয়ের মধ্য দিয়ে।
মামলায় মওদুদ দেখিয়েছেন ১৯৮৫ সালের আগস্টে ইনজে প্লাজ তার ভাইয়ের নামে আম মোক্তারনামা দিয়েছেন। কিন্তু ১৯৮৫ সালের মার্চ মাসেই ইনজে প্লাজ মারা গেছেন। মৃত্যুর ৫ মাস পর ইনজে প্লাজ কিভাবে আম মোক্তারনামা দিলেন, কে জানে। জালিয়াতির ইতিহাসে নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। বাড়ি নিয়ে মওদুদের এই জালিয়াতি আর নাটুকেপণা দেখে মনে পড়ছে একটা গানের কয়েকটা লাইন, ‘পরের জায়গা পরের জমিন, ঘর বানায়া আমি রই, আমি তো সেই ঘরের মালিক নই।’
বাড়িটির কথা একটু শুনুন। গুলশান ২ নম্বরে মূল সড়কের ওপরে এক বিঘা ১৩ কাঠা, মানে ৩৩ কাঠার এক তলা বাড়ি। ইদানিং বড় লোকেরা সাভার-গাজীপুরে বাগানবাড়ি বানায়, ঢাকায় বড় জায়গা পাওয়া যায় না বলে। কিন্তু ব্যারিস্টার মওদুদ বাগানবাড়ি বানিয়েছিলেন গুলশানেই।
গুলশান মূল সড়কে ৩৩ কাঠা জমির দাম কত? আমার কোনো ধারণা নেই। অনেকেই বলছেন, কাঠাপ্রতি ১০ কোটি টাকা হিসেবে কমপক্ষে ৩৩০ কোটি টাকা। এই বাড়িটি মওদুদ কিনেছিলেন মাত্র ১০১ টাকায়! জালিয়াতি করে ৪৫ বছর থাকার জন্য তার কাছে রাষ্ট্র ইচ্ছা করলে ৪৫ কোটি টাকা ভাড়া দাবি করতে পারে।
স্পষ্ট এই জালিয়াতির পরও অনেকেই মওদুদকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদের ঘটনায় শোকাহত। অনেকে বলছেন, তাকে নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে, তিনি বিরোধী দল করেন বলে। অনেকে বলছেন, মওদুদের মত গুলশানে অনেকেই এমন জালিয়াতি করে বাড়ি দখল করে রেখেছে। আমি তাদের সাথে একমত।
সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর মওদুদকে বাড়ি ছাড়তেই হতো। তবে রাজউক নোটিশ দিয়ে, মালামাল সরানোর সময় দিয়ে উচ্ছেদ করলে ভালো হতো। কেউ কোনো অভিযোগ করতে পারতো না। গুলশানে এমন আরো অবৈধ দখল আছে কিনা জানি না। থাকলে, দাবি জানাচ্ছি, সব দখল আইনী প্রক্রিয়ায় উচ্ছেদ করা হোক। দখলদার যত প্রভাবশালীই হোক, যে দলেরই হোক।
তবে মওদুদের দুঃখে যাদের প্রাণ কাঁদছে, মওদুদ রাস্তায় শুয়ে থাকবেন শুনে আমার মত যারা ছুটে যেতে চেয়েছেন বা যারা ছুটে গেছেন; তাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, ১০ বছর আগে তারই দেয়া হিসেবে তার নিজ নামে দুটি বাড়ি, আর স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাট রয়েছে। নিজের নামে ৪টি আর স্ত্রীর নামে একটি গাড়ি আছে। এছাড়া কন্যার নামে ওয়াশিংটনে একটি ফ্ল্যাট নিজেই কিনেছেন।
শুধু গুলশানের ৬৫ নং রোডের ২১ নং বাড়িটি ভাড়া দিয়ে বছরে পান ৫৫ লাখ টাকা। এরপরও যদি তাকে রাস্তায় ঘুমাতে হয়, আমি অবশ্যই তার সাথে রাস্তায় থাকবো। তার যতই থাক, তিনি লোক যেমনই হোন; গুলশানের বাড়িটি যদি তার হতো; আমি ন্যায়ের প্রশ্নে তার পাশেই থাকতাম। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর সে সুযোগ আর নেই।
আচ্ছা বাড়িঘরের হিসাব বাদ। এবার ব্যারিস্টার মওদুদের ক্যারিয়ারটা একটু দেখে আসি। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ১৯৬৯ সাল থেকে আওয়ামী লীগের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় বঙ্গবন্ধুর আইনজীবী প্যানেলেও ছিলেন তরুণ ব্যারিস্টার মওদুদ। অস্ত্র হাতে সরাসরি না হলেও ১৯৭১-এ মুজিবগর সরকারের বিভিন্ন তৎপরতায় জড়িত ছিলেন।
তবে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বিরুদ্ধে ৫ লাখ ডলার আত্মসাতের অভিযোগ তোলেন অনেকে, যদিও সেটি প্রমাণিত নয়। সম্ভবত চমৎকার অ্যাকাডেমিক ক্যারিয়ার এবং শ্বশুর পল্লীকবি জসীমউদদীনের পরিচিতি কাজে লাগিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে যাওয়ার সুযোগ পান তিনি।
আজ ১২ কোটি মানুষ যার স্বরূপ চেনে, বঙ্গবন্ধুও সেদিন তাকে চিনতে ভুল করেননি। তাই মওদুদের উচ্চাভিলাস চরিতার্থের কোনো সুযোগই দেননি বঙ্গবন্ধু; মনোনয়ন দেননি ১৯৭০ বা ১৯৭৩-এর নির্বাচনে। স্বাধীনতার পর দেশের প্রথম পোস্ট মাস্টার জেনারেল পদ নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল ব্যারিস্টার মওদুদকে।
এতে হয়তো মন খারাপ হয়ে থাকবে তার। ১৯৭৪ সালে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শ্বশুর পল্লীকবি জসিমউদ্দীনের সুপারিশে সে দফা ছাড়া পান।
১৯৭৫-এর পট পরিবর্তনের পর বিভিন্ন ঘটনা প্রবাহের মাধ্যমে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে রাজনীতির প্রধান চরিত্রে পরিণত হন। এক পর্যায়ে সামরিক শাসনের বৈধতা দেয়ার জন্য তার কিছু বেসামরিক স্বৈরশাসক প্রয়োজন ছিল। মৌ ও দুধের গন্ধে ছুটে আসেন মওদুদ আহমদ। ৭৮ সালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি।
জিয়ার মন্ত্রিসভায় উপ-প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত হয়েছিলেন তিনি। একবার তাকে মন্ত্রিসভা ছাড়তেও হয়েছিল অবশ্য। জিয়ার মৃত্যুর পর বিচারপতি সাত্তারের বিএনপিতে তিনি বিদ্রোহ করেন। পরে অবশ্য খালেদা জিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে বিএনপিতে সক্রিয় হন। যে মওদুদ এরশাদ শাসনামলের শেষ মুহূর্তটি পর্যন্ত এরশাদের পাশে ছিলেন, সেই মওদুদকে তিনি ৮২ সালে তার শাসনামলের শুরুতে দুর্নীতির দায়ে কারাগারে নিক্ষেপ করেছিলেন।
আবার সেই দুর্নীতিবাজ মওদুদকেই এরশাদ মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী ও উপ-রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত বানিয়েছিলেন। সম্ভবত জেলে বসেই সন্ধি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। জেল থেকে বেরুনোর কয়েকদিন পরই তিনি এরশাদ সরকারের সড়ক পরিবহন ও রেলওয়ে মন্ত্রী হন। বিএনপির মত জাতীয় পার্টিরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ।
এরশাদ পতনের পর তিনি জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নেন। ৯৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনেও সামনের সারিতে ছিলেন তিনি। আন্দোলনের অংশ হিসেবে সংসদ থেকে পদত্যাগ করেন। আন্দোলনের সময় বিএনপি সরকার তাকে গ্রেফতার করেছিল।
৯৬ সালের ১২ জুন তিনি জাতীয় পার্টির মনোনয়নে নির্বাচনে অংশ নেন এবং জনগণ তাকে প্রত্যাখ্যান করে। জনগণের সঙ্গে রাগ করেই হয়তো তিনি ৩০ জুন জাতীয় পার্টি ত্যাগ করেন এবং ১ জুলাই যোগ দেন বিএনপিতে। ৯৬ সালের নির্বাচনে মওদুদ আহমেদ একটি রেকর্ড স্থাপন করেছিলেন।
প্রথমে তো জাতীয় পার্টির হয়ে ডাব্বা মারলেন। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে বিএনপির মনোনয়নে উপনির্বাচনে অংশ নেন। কিন্তু খালেদা জিয়ার ছেড়ে দেয়া আসনটিও ধরে রাখতে ব্যর্থ হন তিনি। এক সংসদের নির্বাচনে দুবার ফেল। রেকর্ডই বটে!
৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দেয়ার সময় মওদুদ বলেছিলেন, আমি নিজের ঘরে ফিরে এসেছি। সত্যি তো! মওদুদ আহমেদ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। বিএনপি তো তার নিজেরই ঘর। কিন্তু মওদুদের যে ঘরের অভাব নেই, আজ যদি তিনি জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন একই কথা বলতে পারবেন।
একই কথা খাটবে আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও। আমার ধারণা বাড়ি বাঁচাতে তিনি হয়তো তলে তলে আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ারও চেষ্টা করেছিলেন। এখন বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত সবার জন্য আওয়ামী লীগের দরজা খোলা হলেও বিপদজনক মওদুদকে নেয়ার ঝুঁকি হয়তো নিতে চায়নি তার প্রথম দল।
চলুন দেখে আসি, জাতীয় পার্টির হয়ে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার সময় কী বলেছিলেন মওদুদ। ৯৫-র ৬ নভেম্বর অবরোধ চলাকালে মওদুদ বলেছিলেন, ‘সরকার (বিএনপি) দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেয়ার চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। এর পরিণতি হবে ভয়াবহ।’ একই বছর ৯ নভেম্বর নোয়াখালীতে মওদুদ বলেন, ‘বিএনপি সরকারের অযোগ্যতা, ব্যর্থতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে সংবিধান আজ হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।’
এক সভায় তিনি বলেছিলেন, ‘বিএনপি দেশের বাজার ভারতীয়দের হাতে তুলে দিয়েছে।’ ৯৫-র ১১ নভেম্বর হরতাল পরবর্তী সমাবেশে মওদুদ বলেছিলেন, ‘বিএনপি সরকার ইতিমধ্যেই দেশকে যেখানে নিয়ে এসেছে, সেখান থেকে দেশকে ফিরিয়ে নিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় আনতে অনেক সময় লাগবে।’
৯৬-র ৭ মার্চ যশোর কারাগার থেকে মুক্তিলাভের পর মওদুদ বলেছিলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নির্বুদ্ধিতা, অপরিপক্কতা ও দূরদৃষ্টিহীনতা দেশকে সংঘাত-সংঘর্ষের দিকে ঠেলে দিয়েছে।’ বেগম জিয়া সম্পর্কে এই মন্তব্য করার ৪ মাস পর ব্যারিস্টার মওদুদ বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিভাবে সম্ভব?
মওদুদ কেন বিপদজনক? বাংলাদেশে দুই জন সামরিক শাসককে বৈধতা দিতে কুবুদ্ধি নিয়ে তাদের পাশে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ। ধর্মনিরপেক্ষতা বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম মূল নীতি। সেই সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ঢোকানোর বিলটি এনেছিলেন মওদুদ।
আওয়ামী লীগের সাথে মিলে বিএনপির বিরুদ্ধে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলন করলেও বাংলাদেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে চিরতরে অপাংক্তেয় করার দায় এই মওদুদের। তিনিই প্রধান বিচারপতির অবসরের বয়স বাড়িয়ে নিজেদের পছন্দের লোককে প্রধান উপদেষ্টা বানানো আয়োজন করে, পুরো ব্যবস্থাটিকেই বিতর্তিক করে তুলেছিলেন তিনি। তার এই অপকর্মের ধারাবাহিকতায়ই জাতিকে পোহাতে হয়েছে দুই বছরের ওয়ান-ইলেভেনের অত্যাচার।
ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এখন যার আদর্শে বিশ্বাসী, সেই জিয়াউর রহমান সম্পর্কে তার মনোভাব কি?
মওদুদ তার বইয়ে লিখেছেন লিখেছেন- ‘তাঁর (জিয়া) বিরোধিতা ছিল সেনাবাহিনীর ভেতরেই। অভিযোগ রয়েছে যে, সেনাবাহিনীর ৮০০ সদস্যের ফাঁসির জন্য তিনি দায়ী ছিলেন। এছাড়া তিনি আরো শত শত অফিসার ও জওয়ানদের চাকরি খেয়েছিলেন। যাকে তিনি তার প্রতি হুমকি হিসেবে গণ্য করতেন তাকে তিনি খাতির করতেন না। তিনি বিপ্লবী মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল তাহেরকেও ফাঁসিতে ঝোলাতে দ্বিধা করেননি।
অথচ এই তাহেরই ছিলেন তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। যিনি তার প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন এবং ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন। রাজনীতি থেকে বিদায় করার জন্য অতি তুচ্ছ কারণে তিনি খন্দকার মুশতাক আহমেদকে শাস্তি দিয়েছিলেন। যখনই তার মনে হলো, বিমান বাহিনী প্রধান এমজি তোয়াব তার ক্ষমতার জন্য হুমকি হতে পারে তখনই তাকে সরিয়ে দেন তিনি।
প্রশাসক হিসেবে জিয়া ছিলেন ঠাণ্ডা, নিষ্ঠুর ও একনায়কসুলভ। তিনি ছিলেন একজন হিসেবী অফিসার, যিনি পাকিস্তানের গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেছিলেন। বাংলাদেশের পরিস্থিতিকে তিনি তার অনুকূলে কাজে লাগিয়েছিলেন। দল আসলে তার ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার একটি হাতিয়ার মাত্র।’
১৯৯৫ সালে প্রকাশিত তার লেখা ডেমোক্রেসি অ্যান্ড দ্য চ্যালেঞ্জ অফ ডেভেলপমেন্ট বইয়ের ১৪৫ ও ১৪৬ পৃষ্ঠায় আছে উদ্ধৃতাংশটুকু। এখনো তিনি বইটি সংশোধন করেননি। শুধু এই বই নয়, একাধিক বইয়ে তিনি এমনকি বেগম খালেদা জিয়ারও তীব্র সমালোচনা করেছেন।
অনেকেই বলেন, রাজনীতিবিদ হিসেবে পতিতা শ্রেণির হলেও লেখক হিসেবে নাকি তিনি সৎ। এ পর্যন্ত বাংলাদেশের দুজন সামরিক শাসকের ডানহাত হিসাবে পরিচিত ব্যক্তিটি ডেমোক্রেসি বিষয়ে গ্রন্থ রচনা করেন। মওদুদ আহমেদ রসিক বটে।
সেই রসিক ব্যারিস্টার আজ রাস্তায় ঘুমানোর অবস্থায় চলে এসেছেন। তার জন্য আমাদের বিপুল সমবেদনা।
প্রভাষ আমিন : সাংবাদিক, কলাম লেখক; বার্তা প্রধান, এটিএন নিউজ।
probhash2000@gmail.com

 

* প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। লাস্টনিউজবিডি‌’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে
মিল নেই। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য লাস্টনিউজবিডি‌ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed

পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >

জার্মানির বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, নাক দিয়েও মস্তিস্কে করোনা হানা দেয়। আপনি কি মনে করেন মস্তিস্কে করোনার আক্রমণ রক্ষার্থে মাস্ক ই যথেষ্ট?

View Results

Loading ... Loading ...
আর্কাইভ
মতামত
যুবলীগের নতুন নেতৃত্বঃ পরশের পরশ ছোঁয়ায় জেগে উঠুক কোটি তরুণ
।।মানিক লাল ঘোষ।।"আমার চেষ্টা থাকবে যুব সমাজ যেনো...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
সফল হওয়ার গল্প, সাফল্যের পথ
।।আলীমুজ্জামান হারুন।। ১৯৮১ সালে যখন নিটল মটরসের য...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • হয়নি সীমান্ত মেলা: দেখা না করেই ফিরলেন স্বজনরা
  • বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য উচ্ছেদের হুমকি প্রদানকারীদের বিচারের দাবি
  • দিবালোকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জমি দখলের অভিযোগ

জার্মানির বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, নাক দিয়েও মস্তিস্কে করোনা হানা দেয়। আপনি কি মনে করেন মস্তিস্কে করোনার আক্রমণ রক্ষার্থে মাস্ক ই যথেষ্ট?

  • হ্যা (60%, ৩ Votes)
  • না (20%, ১ Votes)
  • মতামত নাই (20%, ১ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ২, ২০২০ @ ৩:১৯ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

মডার্নার, ফাইজারের করোনা ভাইরাসের টিকার মধ্যে মডার্নার টিকার উপর কি আপনার আস্থা বেশি ?

  • মতামত নাই (100%, ১ Votes)
  • হ্যা (0%, ০ Votes)
  • না (0%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ২, ২০২০ @ ৯:১৯ পূর্বাহ্ন
End Date: No Expiry

মার্কিন টিকা প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্নার দাবি করেছেন অত্যধিক ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর ওপর এ টিকা ১০০ শতাংশ কাজ করেছে। আপনি কি শতভাগ ফলপ্রসু মনে করেন?

  • হ্যা (100%, ১ Votes)
  • না (0%, ০ Votes)
  • মতামত নাই (0%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: ডিসেম্বর ১, ২০২০ @ ১২:৫১ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

ফাইজার, অক্সফোর্ড, রাশিয়ান, চায়নার ভ্যাকসিনগুলোকে আপনি কি করোনা প্রতিরোধক কার্যকর টিকা বলে মনে করেন?

  • না (67%, ২ Votes)
  • মতামত নাই (33%, ১ Votes)
  • হ্যা (0%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: নভেম্বর ২৯, ২০২০ @ ৫:২৮ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

ফাইজার, অক্সফোর্ড, রাশিয়ান ইন, চায়না ভ্যাকসিনগুলোকে আপনি কি করোনা প্রতিরোধক কার্যকর টিকা বলে মনে করেন?

  • হ্যা (0%, ০ Votes)
  • না (0%, ০ Votes)
  • মতামত নাই (100%, ০ Votes)

Total Voters:

Start Date: নভেম্বর ২৯, ২০২০ @ ৪:৫৭ অপরাহ্ন
End Date: No Expiry

 Page ১ of ২  ১  ২  »