পঞ্চগড়-ঠাকুরগাঁও সীমান্তে পুশইনের শিকার ২১ জনকে ফেরত নিল বিএসএফ
প্রকাশিত: ১২:১৭:০০ অপরাহ্ণ, ৮ জুন, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
লাস্টনিউজবিডি ৮ জুন: পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা ২১ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে কয়েকদিন শূন্যরেখায় রাখার পর ফেরত নিয়ে গেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বিজিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রোববার গভীর রাতে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার মশালগাঁও সীমান্তে অবস্থান করা ১১ জন এবং পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে থাকা ১০ জনকে বিএসএফ ভারতের অভ্যন্তরে সরিয়ে নেয়।
ঠাকুরগাঁওয়ে ৪২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান বলেন, মশালগাঁও সীমান্তে পুশইনের শিকার ১১ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে ৪৮ ঘণ্টা শূন্যরেখায় রাখার পর মধ্যরাতে বিএসএফ নিয়ে গেছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, গত ৫ জুন রাত সাড়ে ৩টার দিকে মশালগাঁও বিওপির সীমান্ত পিলার ৩৪৯/৭-এস সংলগ্ন এলাকা দিয়ে ওই ১১ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল সেখানে পৌঁছে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেয়। এরপর তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছিল।
অন্যদিকে পঞ্চগড়ের বড়বাড়ি সীমান্তে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা করা ১০ জনকে প্রায় ৭০ ঘণ্টা পর ফেরত নেওয়া হয়।
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাতে বিএসএফ বিজিবিকে জানায় যে তারা পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে চায়। পরে বিজিবি সম্মতি দেয় এবং দ্রুত তাদের সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। এরপর বিএসএফ তাদের নিজেদের একটি ক্যাম্পে নিয়ে যায়।
তিনি বলেন, “বিজিবি কখনোই পুশইন মেনে নেবে না বলে বিএসএফকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী বলেন, রাতের দিকে সীমান্তের লাইট বন্ধ করে বিএসএফ সদস্যরা ওই ব্যক্তিদের নিতে আসে। কিছু সময় তাদের সীমান্ত গেটের কাছে নেওয়ার পর আবার শূন্যরেখায় ফিরিয়ে আনা হয়। পরে আবার নিয়ে যাওয়া হয় এবং গাড়িতে করে পাশের একটি ক্যাম্পে স্থানান্তর করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, গত ৫ জুন ভোরে বড়বাড়ি সীমান্ত দিয়ে ওই ১০ জনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা প্রবেশ করতে পারেনি। পরে বিওপি, কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক হলেও বিএসএফ শুরুতে তাদের ফেরত নিতে রাজি হয়নি।
রোববার দুপুরে আবারও শূন্যরেখা থেকে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সীমান্তে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডারদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয় এবং উভয় পক্ষ সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিবি সীমান্ত এলাকায় মাইকিং করে স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে এবং পুশইন প্রতিরোধে সহযোগিতা করার আহ্বান জানায়। পরে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়।
লাস্টনিউজবিডি/জে আই