রেড ক্রিসেন্টে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বৈষম্যের অভিযোগ
প্রকাশিত: ১০:২৩:০০ অপরাহ্ণ, ৪ জুন, ২০২৬

ছবি: সংগৃহীত
লাস্টনিউজবিডি ৪ জুন: বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটিতে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার, দলীয়করণ, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি গণমাধ্যমে পাঠানো একটি বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে মানবিক ও অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত রেড ক্রিসেন্টে আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী প্রশাসনিক কাঠামোর ওপর আধিপত্য বিস্তার করে আসছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পুনর্বহাল এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে ওই গোষ্ঠীর প্রভাব রয়েছে। এর ফলে রাজনৈতিক পরিচয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের কোণঠাসা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও প্রতিষ্ঠানটির ভেতরে পূর্বের ক্ষমতাকাঠামো বহাল রয়েছে। আওয়ামী লীগ-সমর্থক হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের একটি অংশ নতুন প্রশাসনিক নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে বলেও দাবি করা হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৫ মার্চ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে মেজর জেনারেল (অব.) ডা. মো. আজিজুল ইসলাম চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রশাসনিক পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। চেয়ারম্যানকে ঘিরে কয়েকজন বোর্ড সদস্য ও কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী প্রশাসনিক বলয় গড়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, বদলি, নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে ওই বলয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং গভর্নিং বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। একই সঙ্গে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও তোলা হয়েছে।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগ বা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে পরিচিত কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ, পদোন্নতি ও পুনর্বহাল করা হচ্ছে। এমনকি অবসরপ্রাপ্ত কিছু কর্মকর্তাকেও চুক্তিভিত্তিক পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
অন্যদিকে, জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত প্রকাশ কিংবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের কারণে কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলি, সাময়িক বরখাস্ত ও চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
বিবৃতিতে যুব ও স্বেচ্ছাসেবক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা ইমাম জাফর শিকদারকে রাজনৈতিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে।
এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের তৎকালীন যুগ্মসচিব (বেসরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা অধিশাখা) এবং রেড ক্রিসেন্টের ম্যানেজিং বোর্ডের সদস্য মো. মহসিনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে আওয়ামী লীগপন্থী কর্মকর্তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এসব ঘটনার কারণে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট আন্দোলনের ‘নিরপেক্ষতা’ ও ‘মানবিকতা’ নীতিমালা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হওয়ায় স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদার ও দাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
পরিস্থিতি উত্তরণে স্বাধীন ও উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, পুনর্বহাল এবং আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে রেড ক্রিসেন্ট কর্তৃপক্ষ, সংশ্লিষ্ট বোর্ড সদস্য বা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
লাস্টনিউজবিডি/জে আই