তরুণদের মধ্যে বাড়ছে এইচআইভি সংক্রমণ, চিকিৎসাধীন সাড়ে ৮ হাজার
প্রকাশিত: ৯:১৫:০০ অপরাহ্ণ, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬

লাস্টনিউজবিডি, ২৭ এপ্রিল: দেশে এইডস (এইচআইভি) সংক্রমণের চিত্রে নতুন উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার ৫০০ জন এইডস রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের একটি বড় অংশ তরুণ ও শিক্ষার্থী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি (এসটিডি) এবং মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসাধীন রোগীদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই সমকামী। এদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী- যা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে মেডিকেল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত। বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সমকামী আক্রান্তদের মধ্যে ২১ শতাংশের বয়স ১০ থেকে ১৯ বছর, ৩১ শতাংশের বয়স ২০ থেকে ২৪ বছর এবং বাকি ৪৮ শতাংশের বয়স ২৫ বছরের বেশি।
রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হচ্ছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ)। গত বছর এখানে ২৯৩ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়। চলতি বছর প্রতি মাসে ২০০ থেকে ২৫০টি পরীক্ষা হচ্ছে, যার মধ্যে ২৮ থেকে ৩০ জনের শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ছে। এদের প্রায় ৭০ শতাংশই সমকামী।
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শনাক্তকরণ কেন্দ্র মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল। এখানে ২৫ শয্যার একটি বিশেষ ইউনিটে বর্তমানে ২২ জন রোগী চিকিৎসাধীন। প্রতিদিন গড়ে ছয় থেকে ১০ জন এইডসজনিত জটিলতা নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসছেন। ২০২৫ সালে এই কেন্দ্রে ২ হাজার ৯২টি পরীক্ষায় ২৭২ জন এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১১৭ জন সমকামী, যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী।
হাসপাতালটির পরামর্শক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. লিটন খান জানান, আগে যৌনকর্মী ও মাদকসেবীদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি থাকলেও বর্তমানে সমকামীদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি দেখা যাচ্ছে, যা বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে আরও উদ্বেগজনক।
ঢাকার বাইরেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল কেন্দ্রে বর্তমানে সাড়ে তিন শতাধিক রোগী নিয়মিত চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ১ হাজার ২৪১টি নমুনা পরীক্ষায় ১৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ১২ জন সমকামী এবং তাদের মধ্যে আটজনই শিক্ষার্থী।
জাতীয় এইডস নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির সিনিয়র ম্যানেজার মো. আখতারুজ্জামান বলেন, অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় বর্তমানে সমকামীদের মধ্যে সংক্রমণের হার বেশি। একসময় যৌনকর্মী ও পরে মাদকসেবীদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি থাকলেও এখন পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে।
ইউএনএইডসের ২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৪ কোটি ৮ লাখ মানুষ এইচআইভি নিয়ে জীবনযাপন করছেন। বাংলাদেশে ১৯৮৯ সালে প্রথম এইচআইভি রোগী শনাক্ত হয়। এর আগেই ১৯৮৫ সালে প্রতিরোধে জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১০ সালে বেসরকারি এবং ২০১৬ সালে সরকারি পর্যায়ে এইডস নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়।
লাস্টনিউজবিডি/কেএম