যে ১০ দেশে পাচারের অর্থ খুঁজছে সরকার
প্রকাশিত: ৭:৩৯:০০ অপরাহ্ণ, ১ এপ্রিল, ২০২৬

লাস্টনিউজবিডি, ১ এপ্রিল: দেশ থেকে বিগত সময়ের অর্থপাচার নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, পূর্ববর্তী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার করে দেশ থেকে অবৈধভাবে অর্থ পাচার হয়েছে। তিনি বলেন, পাচার হওয়া এসব অর্থ ফেরত এনে দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আদালতের নির্দেশে দেশে মোট প্রায় ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। বিদেশে জব্দ করা হয়েছে আরও প্রায় ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে মোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কর্তৃক গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বছরে গড় ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকা)। পাচার হওয়া এ অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।
তারেক রহমান জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশকে (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন) চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি দেশের (মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত) সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। অপর সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ লক্ষে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
মামলার হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ছয়টি মামলার রায় প্রদান করা হয়েছে।
লাস্টনিউজবিডি/কেএম