বাংলাদেশি পর্ন-তারকা যুগলের চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রকাশিত: ৪:২৯:০০ অপরাহ্ণ, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫

ফাইল ছবি
লাস্টনিউজবিডি, ৩১ অক্টোবর: বিদেশি পর্নোগ্রাফি ওয়েবসাইটের সঙ্গে যুক্ত থেকে অশ্লীল কনটেন্ট তৈরি ও প্রচারের অভিযোগে এক পর্নস্টার দম্পতিকে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে সিআইডি। গ্রেফতারের পর ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এরপর থেকেই নীল দুনিয়ার যুগলের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানালো সিআইডি।
সিআইডি বলছে, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হতে না পারা এ যুগল দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এলেও অনলাইনে রয়েছে তাদের বিলাসবহুল জীবনধারার নানা ছবি ও প্রমাণ। মাত্র এক বছরের মধ্যেই তারা পর্নো তারকাদের আন্তর্জাতিক পারফর্ম্যান্স র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে উঠে আসেন।
বান্দরবানে অশ্লীল কনটেন্ট ক্রিয়েটর দম্পতি গ্রেপ্তারবান্দরবানে অশ্লীল কনটেন্ট ক্রিয়েটর দম্পতি গ্রেপ্তার
সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, ২০২৪ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে তাদের প্রথম ভিডিও প্রকাশিত হয়। শুধু নিজেরাই পর্ন ভিডিও তৈরি করা নয় বরং আরও মানুষদেরকে এ জগতে সম্পৃক্ত করার মতো বেআইনি কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, গত এক বছরে এসব প্ল্যাটফর্মে তাদের ১১২টি ভিডিও প্রকাশিত হয়, যা ২ কোটি ৬৭ লাখের বেশিবার দেখা হয়েছে। মাত্র এক বছরের মধ্যেই তারা পর্নো তারকাদের আন্তর্জাতিক পারফর্ম্যান্স র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষস্থানে উঠে আসেন। ২০২৫ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী তাদের অবস্থান অষ্টম।
পর্ন-তারকা যুগলকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জানান, একাধিক আন্তর্জাতিক পর্নো ওয়েবসাইটে তারা ভিডিও আপলোড করতেন। এভাবে খোলাখুলি প্রচারণার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করেও তারা প্রচারণা চালাতেন। এসব প্রচারণায় ইন্ডাস্ট্রিতে যুক্ত হওয়ার জন্য অন্যদেরকে প্রলুব্ধ করে বিভিন্ন বার্তা প্রকাশ করতো তারা। আগ্রহীরা নতুন ক্রিয়েটর হওয়ার জন্য তাদের সঙ্গে টেলিগ্রামের মাধ্যমে যোগাযোগ করলে নতুনদের নানাভাবে উদ্বুদ্ধ করাও ছিল তাদের কাজ। যেমন: টেলিগ্রাম চ্যানেলে নতুন ক্রিয়েটর এড করলে নগদ টাকা দেওয়া হবে বলে তারা বিজ্ঞাপন দিতো।
অনলাইন জগৎটা সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় সেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। তবে ইতোমধ্যে প্রকাশিত ১১২টি পর্নো ভিডিও যাতে বাংলাদেশ থেকে কেউ দেখতে না পারে, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি এই কাজের মাধ্যমে তারা কী পরিমাণ অর্থ আয় করেছেন, সেই অর্থ কোন মাধ্যমে দেশে এনেছেন, সেসব জানার চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া নতুন করে যাদেরকে যুক্ত করেছেন, তাদের কত টাকা দিতেন, কীভাবে উদ্বুদ্ধ করতেন তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন, অপরাপর সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
বাংলাদেশের পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ অনুযায়ী, পর্নোগ্রাফি উৎপাদন ও বিতরণ একটি ফৌজদারি অপরাধ। এই যুগল শুধু নিজেরাই অপরাধই করছে না বরং অন্যদেরও এই পথে যুক্ত হতে উৎসাহিত করছেন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশে বসে পর্ন ভিডিও বানানো এবং প্রচারের একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠছে। সম্প্রতি ঢাকাভিত্তিক একটি ডিজিটাল অনুসন্ধানমূলক সংবাদমাধ্যম দ্য ডিসেন্ট (The Dissent) এই দুই যুগলের বিষয়টি সামনে আনে।