শ্রীমঙ্গল: সবুজ চা, রঙিন পর্যটন
প্রকাশিত: ৮:৩৪:০০ অপরাহ্ণ, ২৬ আগস্ট, ২০২৫

ছবি: সংগৃহীত
আতাউর রহমান কাজল, লাস্টনিউজবিডি ২৬ আগস্ট: শ্রীমঙ্গল-দেশের চা শিল্প ও পর্যটনের এক অনন্য মিলনস্থল। সবুজ চা-বাগানের মাঝখানে রঙিন আলপনা, সেতু, লেক, পাহাড়-টিলা এবং রিসোর্ট পল্লী পর্যটকদের মনে রেখে যাচ্ছে স্মৃতির অমল ছাপ। দেশের একমাত্র চা জাদুঘর, লাউয়াছড়া জাতীয় পার্ক, নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠী ও মনোরম প্রকৃতি মিলিয়ে শ্রীমঙ্গল হয়ে উঠেছে স্বপ্নময় অভিজ্ঞতার শহর।
শ্রীমঙ্গল দেশের চা উৎপাদনের প্রাণকেন্দ্র চা গবেষণা ইনস্টিটিউট, পুরনো চা যন্ত্রপাতি এবং দেশের একমাত্র চা জাদুঘর চায়ের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করছে। চায়ের পাশাপাশি আনারস, লেবু ও রাবার চাষ এখানকার বৈচিত্র্য বাড়াচ্ছে। পর্যটকরা কেবল চা দেখেন না, চায়ের ইতিহাস, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং শিল্পের সঙ্গে সরাসরি সংযোগও অনুভব করেন।
লাউয়াছড়া জাতীয় পার্ক, বাইক্কা বিল, আঁকাবাঁকা উঁচু-নিচুঁ পথ, পাহাড়-টিলা-প্রতিটি স্থান প্রকৃতির সঙ্গে কাব্যিক মিলন ঘটাচ্ছে। ডিনস্টন সিমেট্রি, রাধানগরের রিসোর্ট পল্লী এবং পাঁচ-তারকা হোটেল গ্র্যান্ড সুলতান পর্যটকদের জন্য স্বপ্নময় অভিজ্ঞতা উপহার দিচ্ছে। লেকের ধারে দাঁড়িয়ে চায়ের সুবাস, বাতাসের ছোঁয়া আর পাহাড়ের দৃশ্য মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে এক অনন্য পরিবেশ।
শ্রীমঙ্গলের নৃ-তাত্বিক জনগোষ্ঠীর জীবনধারা, বিচিত্র সংস্কৃতি ও হস্তশিল্প পর্যটকদের কাছে নতুন দৃষ্টিকোণ তৈরি করছে। পর্যটকেরা শুধু দর্শনই নয়, সংস্কৃতির সঙ্গে সরাসরি সংযোগও অনুভব করছেন।
বিকেলের আলোয় রঙিন আলপনার পথ প্রাণ ফিরে পায়। শিশুদের খেলা, তরুণদের হাসি, দর্শনার্থীদের পদচারণা-সব মিলিয়ে এক জীবন্ত সঙ্গীতের ছন্দ বাজে। ছুটির দিনে ভিড় বেড়ে যায়, আর চা-বাগানের সবুজে রঙের ছোঁয়া, সেতু ও লেক মিলিয়ে সৃষ্টি করে মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান ও পর্যটন কেন্দ্র কেবল দর্শনীয় স্থান নয়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রও। পর্যটকরা চায়ের ইতিহাস, প্রকৃতি ও সংস্কৃতির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করছে। এভাবে শ্রীমঙ্গল ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম পর্যটন ও চা শিল্প কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী হবে।
শ্রীমঙ্গল কেবল সবুজ চায়ের শহর নয়; এটি শিল্প, সংস্কৃতি, প্রকৃতি এবং পর্যটনের এক অনন্য মিলনস্থল। সবুজ চা-বাগান, রঙিন আলপনা, লেক, পাহাড়-টিলা, রিসোর্ট পল্লী-সব মিলিয়ে এই শহর হয়ে উঠেছে স্বপ্নময়।
লাস্টনিউজবিডি/এমএইচ