রমজানে জাকাত দেওয়া সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি
প্রকাশিত: ১০:৪২:০০ পূর্বাহ্ণ, ১৩ মার্চ, ২০২৫

ফাইল ছবি
লাস্টনিউজবিডি ১৩ মার্চ: রমজান মাস হলো বরকত, রহমত ও মাগফিরাতের মাস। এই পবিত্র মাসে মুসলমানদের জন্য ইবাদত-বন্দেগির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রমজান মাসকে অত্যন্ত বরকতময় বলে উল্লেখ করেছেন। এই মাসে ফরজ নামাজ ও তারাবির নামাজ আদায়ের পাশাপাশি কুরআন তিলাওয়াত, দান-খয়রাত এবং সৎকাজে অধিক ব্যয় করার প্রতি বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।
রমজান মাসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—এ মাসে নেক কাজের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। হাদিসে এসেছে, এই মাসে একটি ফরজ ইবাদতের সওয়াব ৭০টি ফরজের সমতুল্য এবং একটি নফল ইবাদতের সওয়াব একটি ফরজ ইবাদতের সমান হয়ে যায়। তাই এই মাসে জাকাত প্রদান করা অধিক ফজিলতপূর্ণ। যদিও জাকাত দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় নির্ধারিত নেই, তবে রমজানে জাকাত দিলে সওয়াব আরও বেশি হয় এবং গরিব-দুঃখীরা এই মাসে বিশেষভাবে উপকৃত হয়।
সুতরাং, রমজানে জাকাত প্রদান করা শুধু আর্থিক সাহায্যই নয়, বরং এটি ইবাদতের অংশ এবং অধিক সওয়াব লাভের সুযোগ। আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এ মাসে বেশি বেশি দান-সদকা ও সৎকাজে অংশগ্রহণ করা উচিত।
নামাজের মধ্যে কুরআনের যে পরিমাণ অংশ তিলাওয়াত করবে, সেই পরিমাণ অংশের ফরজ কেরাতের সওয়াব পাবে, যতটুকু জিকির করবে জিকিরের প্রতিটি শব্দের বিনিময়ে ফরজ ইবাদতের সওয়াব পাবে, যে পরিমাণ দুরূদ শরীফ পড়বে, প্রত্যেকটা দুরূদের বদলায় ফরজ দুরূদ পড়ার সওয়াব পাবে, যে পরিমাণ মাল সদকা করবে সে পরিমাণ মালের বদলায় ফরজ জাকাতের সওয়াব পাবে।
সুতরাং সকলের উচিত হলো, এ রমজানুল মুবারকে সব ধরনের নেকির কাজ বেশি বেশি করার চেষ্টা করা। বিশেষ করে ‘জাকাত’ যা ইসলামের পঞ্চ স্তম্ভের একটি স্তম্ভ এবং বৎসরে তা একবার আদায় করতে হয়।
সারা বৎসরের মধ্যে রমজান মাসেই এ জাকাত আদায়ের চেষ্টা করবে। তবে সারা বৎসরের যে-কোনোসময়ে জাকাত আদায় করলেও চলবে। কিন্তু রমজান মাসে আদায় করলে সত্তরটা জাকাত আদায়ের সওয়াব পাওয়া যাবে।
সুতরাং রমজান মাসেই জাকাত আদায় করা চাই। কেননা, রমজান মাস যেমনিভাবে ফরজ রোজা পালনের মাস, ঠিক তদ্রুপ জাকাত আদায়েরও মাস। তবে পার্থক্য শুধু এতোটুকু যে, ‘জাকাত’ রমজান ছাড়া যে-কোনোমাসে আদায় করা যায়। কিন্তু ‘রোজা’ বিনা ওজরে রমজান ছাড়া অন্য মাসে আদায় করা জায়েজ নেই।
হজরত উসমান রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- হে লোক সকল! রমজান মাস জাকাত আদায়ের মাস। সুতরাং তোমরা নিজেদের সম্পদ হিসাব করে যদি নেসাব পরিমাণ পাও, তাহলে এ মাসেই জাকাত আদায় করো। আর যদি কেউ ঋণগ্রস্ত হও, তাহলে ঋণ পরিশোধ করো এবং জাকাত আদায় করো।
কেউ কেউ রমজানের রোজা তো রাখে বটে, তারাবিও পড়ে থাকে এবং অন্যান্য নেকির কাজও করে থাকে, কিন্তু ফরজ জাকাত আদায় করে না। করলেও গুরুত্বের সঙ্গে করে না। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সবাইকে সঠিক নিয়মে জাকাত প্রদান করার তাওফিক দান করুন, আমীন।
লাস্টনিউজবিডি/জে আই