ভিটামিন ই ক্যাপসুল বেশি খেলে হতে পারে যেসব সমস্যা
প্রকাশিত: ৩:১৩:০০ অপরাহ্ণ, ২৩ জানুয়ারী, ২০২৫

ই ক্যাপসুল
লাস্টনিউজবিডি ২৩ জানুয়ারি: ভিটামিন ই ক্যাপসুল আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বক, চুল এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য উপকারী। তবে অনেকেই ভিটামিন ই ক্যাপসুল বা সাপ্লিমেন্ট সেবন করে ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বাড়ানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু সঠিক পরিমাণ না জানলে তা বিপজ্জনক হতে পারে।
ভিটামিন ই শরীরে ফ্রি র্যাডিক্যাল নিয়ন্ত্রণ করে, অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এটি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখার পাশাপাশি ফুসফুস, মস্তিষ্কের স্নায়ু এবং ঋতুচক্র সম্পর্কিত নানা সমস্যাতেও কার্যকর। তবে, শরীরে ভিটামিন ই-এর ঘাটতি বা প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণ করতে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে সঠিক মাত্রা জানা অত্যন্ত জরুরি।
ডাক্তারদের পরামর্শ অনুসারে, ভিটামিন ই সেবনের আগে রক্ত পরীক্ষা করে সঠিক মাত্রা জানা উচিত এবং সেই অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা সবচেয়ে নিরাপদ। অতিরিক্ত ভিটামিন ই গ্রহণ শরীরে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, যেমন ত্বকের র্যাশ, গ্যাস্ট্রিক সমস্যা এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত জটিলতা। তাই, শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে ভিটামিন ই গ্রহণই সবচেয়ে কার্যকর এবং নিরাপদ।
‘জার্নাল অফ দ্য আমেরিকান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন’-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অতিরিক্ত ভিটামিন ই সেবন করলে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়তে পারে। যদিও এই ঘটনা বিরল, তবে অতিরিক্ত কিছুই ভালো নয়। চিকিৎসকদের মতে, “যেকোনো অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের যেমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে, ভিটামিন ই-এর অতিরিক্ত গ্রহণেও সমস্যা হতে পারে।”
ভিটামিন ই ফ্যাটে দ্রবণীয় হওয়ায় এটি দীর্ঘ সময় ধরে লিভারে জমা থাকে। বাইরে থেকে অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করলে লিভারের উপর বাড়তি চাপ পড়ে, যা বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। যদিও ভিটামিন ডি নিয়ে সচেতনতা বেশি, ভিটামিন ই নিয়েও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
প্রতিদিন শরীরের সঠিক কার্যক্ষমতা বজায় রাখতে প্রায় ১৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন ই প্রয়োজন। সাধারণত রোজকার খাবার থেকেই এই পরিমাণ ভিটামিন ই পাওয়া যায়, তাই আলাদা করে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের দরকার হয় না। পুষ্টিবিদদের মতে, কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, কুমড়ার বীজ, সূর্যমুখীর বীজ, জলপাই, ব্রকলি, বেল পেপার, ডিমের কুসুম এবং সামুদ্রিক মাছ—এই খাবারগুলো নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখলেই ভিটামিন ই-র ঘাটতি সহজেই পূরণ করা সম্ভব। তবুও যদি খাদ্য থেকে যথেষ্ট পরিমাণে ভিটামিন ই না পাওয়া যায়, তখন চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা যেতে পারে।
অনেক চিকিৎসক কার্ডিওভাসকুলার রোগ প্রতিরোধে ভিটামিন ই সাপ্লিমেন্টের উপর ভরসা করেন। তবে আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন সাম্প্রতিক সময়ে এই অভ্যাস থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছে।
ত্বক ও চুলের যত্নে ভিটামিন ই-এর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি গ্রহণের আগে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরের প্রয়োজনীয়তা জেনে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। অতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
লাস্টনিউজবিডি/জে আই