একজন সাংবাদিকেও বেকার করেননি বঙ্গবন্ধু
Saturday, 15th June , 2019, 05:41 pm,BDST
Print Friendly, PDF & Email

একজন সাংবাদিকেও বেকার করেননি বঙ্গবন্ধু



।। আজিজুল ইসলাম ভুইয়া ।।

একটি স্বার্থান্বেশী মহল ১৬ জুনকে সংবাদপত্রের কালো দিবস হিসাবে পালন করে আসছে। তাদের মতে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর মাত্র ৪টি সংবাদপত্র রেখে আর বাকিগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু সাংবাদিকদের বেকার করে পথে বসিয়েছিলেন। না। বিষয়টি এমন সরলীকরণের মাধ্যমে প্রকাশ করা যাবে না। এটা কোনো মতেই তৎকালীন সময় যা ঘটেছিলো তার বস্তুনিষ্ঠ বিবরণ নয়। এটা ডাহা মিথ্যাচার। এটা ¯্রফে তথ্য সন্ত্রাস। জাতির জনককে ছোট করতে গিয়ে যার এই নির্লজ্জ মিথ্যাচারের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। একদিন সত্যের খাতিরে ওই কুচক্রী-মহলকে ইতিহাসের কাঠগড়ায় আসামি হয়ে দাঁড়াতে হবে।
বঙ্গবন্ধুর সময়কার যে সব সাংবাদিক এখনো বেঁচে আছেন কিংবা বহুদিন বেঁচেছিলেন তাদের স্নেহেছায়ায় বসে যখন বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণ শুনতাম তখস চোখ অশ্রুসজল হয়ে উঠতো। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধায়, ভালোবাসায়, কৃতজ্ঞতায় হৃদয় আবেগাপ্লত হয়ে উঠতো। কোনো কোনো সিনিয়র রিপোর্টারের মুখে শুনেছি বঙ্গবন্ধু নিজের প্লেট থেকে নিজ হাতে মেখে সাংবাদিকদের খাইয়ে দিতেন। কারণ কোনো কোনো রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে ভোজপর্বে এমন বিশৃঙ্খলা হতো যে, কর্মরত সাংবাদিকদের ভিড় অতিক্রম করতে কষ্ট হতো এবং অনেক সময় পেটে নিদারুণ ক্ষুধার আগুন নিয়া সংবাদ সংগ্রহ ও প্রেরণ করার দায়িত্ব পালন করতে হতো। বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ট্যুরে গেলে সাংবাদিকদের ঘুমানের উপযুক্ত স্থান নিধৃারণের আগে নিজে ঘুমাতে যেতেন না। একজন সিনিয়র সাংবাদিক আমাকে বলেছিলেন, ৭০-এর নির্বাচনী সফরের সময় এক জাহাজে ভ্রমণকালে অনেক রাতে নিজের কেবিন থেকে বের হয়ে বঙ্গবন্ধু দেখেন দুই সাংবাদিক ডেকে ঘোরাফেরা করছেন। বঙ্গবন্ধু বুঝতে কষ্ট হয়নি তারা শোবার মতো যুৎসই কমার পাননি। এরপর ড. কামাল হোসেন ও মিজানুর রহমান চৌধুরীকে আলোচনার কথা বলে তার কামরায় ডেকে আনেন। এ ফাঁকে তিনি সাংবাদিক দু’জনকে এ দুই রুমে ঠেলে ঢুকিয়ে দিয়ে ঘুমাতে বলে নিজের কামরায় ফিরে যান এবং বাকি রাতটা সহযোদ্ধাদের সঙ্গে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে কাটিয়ে দেন। এমনকি স্বাধীনতার পর বিপন্ন বাংলাদেশে যখন ব্যাংকে একটি কানাকড়িও নেই, সেই সময় তৎকালীন অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদকে ডেকে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে যে দুটি প্রতিষ্ঠানকে বিশাল অংকের ঋণ দেয়ার জন্য লিখিত নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই প্রতিষ্ঠান দুটির একটি হলো ‘ইত্তেফাক’ অন্যটি ‘সংবাদ’। এতএব বঙ্গবন্ধু সংবাদপত্র বন্ধ করে সাংবাদিকদের পথে বসিয়েছিলেন এমন বক্তব্য কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। তবে যে ঘটনাটি ঘটেছিল তা সত্যনিষ্ঠভাবে বিশ্লেষণ করলেই প্রমাণিত হবে তিনি সংবাদপত্র বন্ধ করেননি এবং একজন সাংবাদিককেও বেকার করেননি।
১৯৭৫ সালের ১৬ জুন বঙ্গবন্ধুর সরকার নিউজপেপার ডিক্লারেশন এনালমেন্ট অর্ডিন্যান্স নামে যে আইন পাস করে তা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না। এটা ছিল তৎকালীন জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে ইতিহাসের এক অবশ্যম্ভাবী পরিণতি। অনেকেই বলে বেড়াচ্ছেন বঙ্গবন্ধু সরকার একদলীয় বাকশাল (বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ) শাসন কায়েম করেছিল। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ রেখে অন্য সব দলের রাজনীতি বন্ধ করে দিলে একদলীয় শাসন বলা যেতো। কিন্তু বঙ্গবন্ধু মূলত বাকশাল নামের একটি জাতীয় প্লাটফর্ম তৈরি করে তার মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতির মেরুকরণ করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেছিলেন এই একেবারেই একটি সাময়িক ব্যবস্থা। এর অন্যতম লক্ষ্য ছিল লুটেরা ও ধনিক-বণিক নিয়ন্ত্রিত পুঁজিবাদী অর্থনীতি থেকে সাধারণ মানুষের জন্য কল্যাণমুখী সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির প্রবর্তন। এ জাতীয় লক্ষ্য অর্জনের প্রত্যাশিত পদক্ষেপ ছিল একটি অর্থবহ গণমাধ্যম গড়ে তোলা, যা সাধারণ শোষিত-বঞ্চিত মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হবে।
এবার সংবাদপত্র বাতিলের বিষয়টিতে আসা যাক।
দৈনিক দিনকালের উপ-সম্পাদকীয় পাতায় জাতীয়তাবাদী ধ্যান-ধারণায় নিবেদিত সাঙবাদিকদের নেতা এবং বিএনপি চেয়ারপর্সনের এককালীন প্রেস উপদেষ্টা রিয়াজউদ্দিন আহমদ একটি দীর্ঘ প্রবন্ধ লিখেছিলেন। ‘সংবাদপত্রের কালো দিবস পটভ‚মি ও ঘটনাপঞ্জী’ শীর্ষক প্রবন্ধটি রেখার জন্য রিয়াজ সাহেবকে অসংখ্য ধন্যবাদ। যতদূর সম্ভব লেখক তার নিবন্ধে কোনো প্রকার মিথ্যাচার করেননি। তবে ‘চতুর বণিকে’র মতো তিনি যা করেছেন তা হলো সত্য প্রকাশ না করা। ক্ষেত্র বিশেষে তিনি প্রায় সত্যের কাছাকাছি এসেও শেষ পর্যন্ত এরিয়ে গেছেন। অথচ সত্য লিখলে তার ব্যক্তিগত কোনো ক্ষতি হতো বলে মনে করি না। বরং একজন সাংবাদিক হিসেবে জাতির কাছে তার দায়বদ্ধতা আছে তা কিছুটা হলেও পুরন হতো। ঐ প্রবন্ধের এক জায়গায় জনাব রিয়াজউদ্দিন লিখেছেন, এই সময় আমরা সংবাদপত্রের সমস্যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাই। তিনি আমাদের দেশের দুরবস্থার কথা বলেন। এরপর রিয়াজউদ্দিন তার নিবন্ধে বঙ্গবন্ধু সেদিন জাতিসংঘ ও ইরাকসহ বিভিন্ন বিষয়ে যেসব কথা বলেন, তার ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন। কিন্তু সুচতুরভাবে এড়িয়ে গেছেন সেদিন সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর কী কথা হয়েছিল, সাংবাদিকদের জন্য বঙ্গবন্ধুর ভবিষ্যৎ চিন্তাভাবনা এবং সংবাদপত্র শিল্প বিকাশের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পুরোপুরি চেপে গেলেন রিয়াজ সাহেব তার নিবন্ধে। তবে আমরা অনেকেই জানি সেদিন কী কী বিষয়ে সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। রিয়াজউদ্দিন সাহেব ছাড়াও সেদিন বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতাদের মধ্যে নির্মল সেন, বঙ্গবনধুর সেদিনের অতি ঘনিষ্ঠজনরা গিয়াস কামাল চৌধুরী, কামাল লোহানীসহ অন্য নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু নেতৃবৃন্দকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, সারাদেশে তোদের (আদর করে বঙ্গবন্ধু এভাবেই সম্বোধন করতেন) মোট সাংবাদিক সংখ্যা কত? নেতৃবৃন্দ বলেছিলেন ৭-৮শ’র মতো। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, আমাদের তো কমপক্ষে সারাদেশে ৮-১০ হাজার সাংবাদিক দরকার হবে এবং প্রতিটি সাংবাদিককে হতে হবে চিত্তবিত্তে, জ্ঞান গরিমায় উদ্ভাসিত। শিক্ষিত, মার্জিত মননশীল ও সুকুমর বৃত্তিতে যারা শ্রেষ্ঠ তারাই থাকবে এ মহান পেশায়। এ কথা শুনে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ আবেগ আপ্লুত চিত্তে বঙ্গবন্ধুর দিকে চেয়ে থাকেন। বঙ্গবন্ধু বিষয়টিকে আরো পরিষ্কার করে বললেন, আমি চাই দেশে থাকবে প্রচুর সংখ্যক অর্থবহ সংবাদপত্র। উদাহরণ দিয়ে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘ইত্তেফাকে প্রকাশিত দেশ-বিদেশের সংবাদ পড়ে আমার দেশের সাধারণ মানুষের কোনো উপকার হয় না। তোমাদের ঢাকা থেকে প্রকাশিত খবরের কাগজে আমার বিশাল বাংলার গাঁও-গেরামের কোনো খবর থাকে না। শোন, আমি ইতোমধ্যেই তোদের পেশার সিনিয়র লোকদের সঙ্গে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে একটি আমূল বিপ্লব সাধনা করতে চাচ্ছি। সেই লক্ষ্যে আমার সরকারের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো হবে-
এক. দেশে নির্দিষ্টসংখ্যক জাতীয় দৈনিক থাকবে বাংলা ও ইংরেজিতে। এখানে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ, যাদের লেখনীর মাধ্যমে জাতি পাবে সঠিক পথনির্দেশক। দেশের সব পেশা ও সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এ সব জাতীয় পত্রিকায় কর্মরত সাংবাদিকরাই হবে সবচেয়ে বেশি বেতনের পেশাজীবী, জাতীয় জীবনের সর্বক্ষেত্রে থাকবে তাদের অবারিত প্রবেশাধিকার।
দুই. প্রতিটি পেশার জন্য থাকবে ভিন্ন ভিন্ন জাতীয় দৈনিক। যেমন শ্রমিকদের জন্য শ্রমবার্তা, কৃষকদের জন্য কৃষিবার্তা, মহিলাদের জন্য মহিলাবার্তা, যুবকদের জন্য যুববার্তা, ছাত্রদের জন্য ছাত্রবার্তা, শিশুদের জন্য শিশুবার্তা প্রভৃতি। এ সব পত্রিকায় সংক্ষেপে জাতীয় বিশ্ব সংবাদ ছাপার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পেশার সব প্রকার সমস্যা ও সম্ভাবনার আলোচনা থাকবে এসব পত্রিকায়।
তিন. তোরা জানিস সংবাদ হলো পচনশীল দ্রব্য। গ্রাম বাংলার আনাচে-কানাচে সংঘঠিত সংবাদ শহর-বন্দর পেরিয়ে রাজধানী ঢাকায় আসতে আসতে পচন ধরে যায়, খবরের পাঁপড়ি ঝরে যায়, কলি যায় শুকিয়ে। তারপর পত্রিকা অফিসে যখন পৌঁছে তখন এডিটর সাহেব পাঠিয়ে দেন সংবাদ ডেস্কে। পান চিবাতে চিবাতে মফস্বল এডিটর সাহেব সেই শুকনো কলি ফেলে দেন ওয়েস্ট পেপার বাস্কেটে। আর যদি কখনো ছাপা হয় বড় জোর দু’তিন লাইন। গত আগস্টে শৈলক‚পায় স্বামীর প্রহারে স্ত্রীর মৃত্যু অথবা ভান্ডারিয়ায় স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গৃহবধূর আত্মহত্যা। কিন্তু আর কোনো সংবাদ নেই। আমি চাই দেশের ৬২টি জেলার সবকটিতে দৈনিক পত্রিকা থাকবে। বরিশাল বার্তা, চট্টগ্রাম বার্তা, রাজশাহী বার্তা, বগুড়া বার্তা, দিনাজপুর বার্তা প্রভৃতি।
চার. প্রতিটি জেলার নিজস্ব দৈনিক পত্রিকা ছাড়াও থাকবে জাতীয় আদলে প্রত্যেক শ্রেণী ও পেশার জন্য ভিন্ন ভিন্ন পত্রিকা এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে থাকবে আকর্ষণীয় বেতন-ভাতা ও চাকরির অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা।
পাঁচ. তাদের সঙ্গে এবং সিনিয়র সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে কোন কোন বাংলা এবং ইংরেজি পত্রিকা জাতীয় দৈনিক হিসেবে থাকবে। একই সঙ্গে সংবাদ সংস্থা সম্পর্কেও অনুরূপ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
ছয়. নির্বাচিত পত্রিকা এবং সংবাদ সংস্থা ছাড়া অন্য সব পত্রিকা ও সংবাদ সংস্থা আপাতত বন্ধ থাকবে। তবে সেখানে কর্মরত সব সাংবাদিক ও অন্য কর্মচারী নিয়মিত বেতন পাবেন। এ জন্য সাংবাদিক-কর্মচারীরা সংশ্লিষ্ট জেলার ট্রেজারি থেকে মাসের প্রথম দিন বেতন-ভাতা নিয়ে আসবেন।
সাত. চাকরিহীন সংবাদিকদের নাম তালিকাভুক্ত এবং তাদের বেতন-ভাতা নির্ধারণ করার জন্য তোদের প্রতিনিধি নিয়ে কমিটি করা হবে।
উল্লেখ্য, রিয়াজ উদ্দিনের প্রবন্ধের ভাষায়, ‘আমরা শেখ মুজিবের সঙ্গে দেখা করলাম। তিনি বললেন, ভয় নেই, যেসব কাগজ থাকবে না সেসব কাগজের সাংবাদিকরা সরকারি চাকরি পাবে। চাকরি না হওয়া পর্যন্ত সরকারি ট্রেজারি থেকে ভাতা দেয়া হবে।’ একই নিবন্ধের অন্যত্র রিয়াজ ভাই লিখেছেন, ১৬ জুন চ‚ড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হলো। ঘোষণার নাম ‘নিউজ পেপার ডিক্লারেশন এনালমেন্ট অর্ডিনেন্স।’ এর আওতায় দেশে মাত্র ৪টি পত্রিকা থাকলো সরকারি নিয়ন্ত্রণে ইত্তেফাক, অবজারভার, দৈনিক বাংলা আর বাংলাদেশ টাইমস। যেসব কাগজ বন্ধ হলো সেগুরোর সব সাংবাদিক-কর্মচারীদের চাকরি সরকারের হতে ন্যস্ত হলো। চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত ভাতা দেয়ার বিধান রাখা হয়। সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধা দেয়ার জন্য গিয়াস কামাল চৌধুরী, চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদীর সম্পাদক অধ্যাপক মো. খালেদ এবং আরো কয়েকজনকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটির প্রধান ছিলেন নুরুল ইসলাম পাটওয়ারী। এবার আবার বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সাংবাদিক নেতাদের আলোচনায় ফিরে আসি। এখানে রিয়াজ ভাই লিখলেন আমার আর লেখার দরকার হতো না। কারণ সাংবাদিকদের বাঁচা-মরার প্রশ্নে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে যে বৈঠক হয়েছিল তার কথা বলতে গিয়ে রিয়াজ সাহেব শুধু ফিদেল ক্যাস্ট্রো, সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু যা বলেছিলেন সে কথা বলেই প্রসঙ্গটির ইতি টানেন। তবে তিনি বেমালুম চেপে যান বঙ্গবন্ধুর ঈপ্সিত পরিকল্পনার কথা। সংবাদপতের সঙ্গে সঙ্গে রেডিও টেলিভিশনেও যে বিপুলসংখ্যাক মেধাবী সাংবাদিকের প্রয়োজন হবে সে সম্পর্কে বঙ্গবন্দুকে ইউনিয়ন নেতারা আশ্বস্ত করেছিলেন এবং এই বলে যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমানে যে সাংবাদিকতায় ডিপ্লোমা কোর্স রয়েছে সেখানে পূর্ণাঙ্গ স্নাতক ডিগ্রি ও মাস্টার্স ডিগ্রি কোর্স এবং প্রেস ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্স চালু, বিদেশে বিশেষ করে সিভিয়েত ইউনিয়ন, রুমানিয়া, বুলগেরিয়াসহ বিভিন্ন সমাজতান্ত্রিক দেশে বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকের প্রশিক্ষণ ও উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সাংবাদিক সৃষ্টি করা সম্ভব। বঙ্গবন্ধু নেতাদের এ সব সুপারিশ ত্বরিৎ বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। বিশেষ করে সাংবাদিক নেতারা তৎকালীন সংবাদপত্র শিল্পে বিরাজমান করুণ অবস্থা বর্ণনা করে বঙ্গবন্ধুকে জানান যে, হাতেগোনা ২/৪টি সংবাদপত্র ছাড়া কোথাও নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদান করা হয় না। আলু-পটলের ব্যবসায়ী বিভিন্ন ধান্ধায় সংবাদপত্র প্রকাশ করে বøাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিচ্ছে। অথচ সাংবাদিকদের একটি আইডি কার্ড ছাড়া আর কিছুই দেয়া হয় না। অনেক গ্রামীণ সাংবাদিক কেবল কলাটা-মুলাটা নিয়ে এ মহান পেশায় টিকে থাকার সংগ্রাম করছেন।’
এ পরিস্থতিতে বঙ্গবন্ধু দেশের সব শ্রেণীর সংবাদপত্র সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আনার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা এক বিরাট বিপ্লব সাধন করবে বলে সাংবাদিক নেতারা মত প্রকাশ করেন। এত দেশের মেধাবী মুখের সন্ধান পাওয়া যাবে পত্রিকা অফিসগুলোতে। এ পরিকল্পনার জন্য তার বঙ্গবন্ধুকে ধন্যবাদ জানালেন। তার এ প্রাক্রিয়া বাস্তবায়নে দৃঢ় সমর্থন ব্যক্ত করেন এবং একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধ ঘোষিত বাকশালে যোগদানের আকাক্সক্ষাও বঙ্গবন্ধুকে জানানো হয়। পরবর্তী সময়ে গিয়াস কামাল চৌধুরী, রিয়াজ উদ্দিনসহ দেশের ৯০ শতাংশের বেশি সাংবাদিক বাকশালে যোগদানের জন্য আবেদন করেন।
আমি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি থাকার সুবাদে আজাদী সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ খালেদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ পাই। অন্য সাংবাদিকদের অনুসরণ করে আমিও তাকে স্যার বলে স¤েআধন করতাম। একদিন স্যার তার বাসায় নৈশভোজের দাওয়াত দিলেন বলেছিলেন ঢাকা থেকে দু’জন মেহমান এসেছেন তাদের সৌজন্যে এ খানাপিনার আয়োজন। বাসায় গিয়ে দেখি আমাদের প্রিয় ফয়েজ ভাই (ফয়েজ আহমদ) ও বঙ্গবন্ধুর সরকারের এককালীন তথ্যমন্ত্রী তাহের উদ্দিন ঠাকুর। কথায় কথায় সেদিন বন্ধ হওয়া পত্রিকার সাংবাদিক-কর্মচারীদের তালিকাসহ প্রভৃতি বিষয় আলোচনায় আসে। অধ্যাপক খালেদ স্বতঃপ্রবৃত্ত হয়ে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, আমরা এ তালিকা প্রস্তুতির প্রশ্নে কোনো প্রকার মত পার্থক্যের বিষয়টি বিবেচনায় আনিনি। তদুপরি যারা মাত্র ৮০ থেকে ১১০ টাকা মাইনে পেতেন (অনিয়মিত)। তালিকা প্রস্তুতকালে তাদের বেতন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা লেখা হয়েছিল। গিয়াস কামালসহ আমরা সাবই একমত হলাম যে, টাকটা যখন বঙ্গবন্ধুর উদারতায় ট্রেজারি থেকে দেয়া হবে তখন থাক না একটু বেশি অংকের হিসাব। যাই হোক সেই প্রস্তুত করা তালিকা হিসেবে দেশের সব সংবাদপত্রের সাংবাদিক ও কর্মচারী সংশ্লিষ্ট জেলার ট্রেজারি থেকে বেতন নিয়ে আসতেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কাল রাতের দিন পর্যন্ত দেশের সব সংবাদপত্রসেবী এ বেতন-ভাতা ভোগ করছেন।
তবে ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তৎকালীন বিএফইউজের একজন পক্ষপাতদুষ্ট নেতার কারসাজিতে ১৬ জুনকে তথাকথিত কালোদিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু যে সিদ্ধান্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের হৃদয়স্পন্দন ও আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন থাকে না তা একদিন নিজেই মৃত্যুবরণ করে। যার জন্য আজ হাতে গোনা কিছুসংখ্যক জাতীয়তাবাদী ক্যাডার ছাড়া সাধারণ সাংবাদিকরা ওই কালো দিবস পালন করেন না। বরং বৃহত্তর সাংবাদিক সমাজ সারাদেশে ২১ জুন সাংবাদিক নির্যাতন দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। এ দিনে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মতিন চৌধুরীর ইঙ্গিতে পুলিশ প্রেসক্লাবের পবিত্র অঙ্গনে ঢুকে দেড় শতাধিক সাংবাদিককে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছিল। এমনকি মুমূর্ষুদের হাসপাতালে নেয়ার পথেও পুলিশি বাধার সম্মখীন হতে হয়। রৌদ্রোজ্জ্বল বিকেলে সংঘটিত এ বর্বর হামলার সাফাই গাইতে গিয়ে মতিন চৌধুরী মহান জাতীয় সংসদে বিবৃতি দিয়ে বলেছিলেন, রাতের আঁধারে পুলিশ সাংবাদিক চিনতে পারেননি, তাই ওভাবেই পিটিয়েছে।
সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধা নির্ধারণের জন্য গঠিত কমিটির অন্যতম সদস্য গিয়াস কামাল চৌধুরীর মুখে শুনেছিলাম যে, তার একদিন বঙ্গবন্ধুর কাছে গিয়ে বলেছিলেন, বঙ্গবন্ধুর দেশ সদ্য স্বাধীন, অর্থনৈতিক সঙ্কটে, অভাব অনটনে আপনার সরকার জর্জরিত, এ সময় কাজ না করে প্রতি মাসে ট্রেজারি থেকে বেতন আনতে অনেক সাংবাদিকের মনে হোঁচট লাগে, আপনি আমাদের জন্য উপযুক্ত চাকরির ব্যবস্থা করুন।
বঙ্গবন্ধু সেদিন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের ডেকে তাদের সামনেই নির্দেশ দিয়ে দিলেন সব অফিসের শূন্যপদে সাংবাদিক নিয়োগ ডেকে তাদের সামনেই নির্দেশ দিয়ে দিলেন সব অফিসের শূন্যপদে সাংবাদিক নিয়োগ দাও। তাই হয়েছিলও। সদ্য স্বাধীন দেশে খাদ্য, শিপিং, ওয়াপদা, কাস্টমসহ বিভিন্ন অফিসে চাকরিতে সাংবাদিকদের আত্মীকরণ করা হয়েছিল। তবে সবচেয়ে হৃদয়স্পর্শী কাহিনীটি শুনেছি নির্মলদার কাছে।
প্রেসক্লাবে বসে একদিন এক সাবেক সাংবাদিককে দেখিয়ে বরেছিলেন, ওই ভদ্রলোককে চেনেন? তা না চেনার কারণ ছিল না, হ্যাঁ বলতেই নির্মলদা আবার বলতে শুরূ করলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সময় একদিন তিনি আমাকে বিশেষভাবে একটি চাকরির তদবির করার জন্য বঙ্গবন্ধুর কাছে নিয়ে যেতে অনুরোধ করেছিলে। চাকরির কথা শুনে আমি বিব্রত হই। কারণ ওই চাকরিটা ছিল সর্বজ্ঞাত একটি ঘুষের চাকরি। কাস্টমস বিভাগের লোভনীয় পদে নিয়োগের দাবি। ইউনিয়নের নেতা হিসেবে তাকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে যেতে বাধ্য হই। বঙ্গবন্ধু তাঃক্ষণিক তাকে চাকরিটা দিলেন। তিনি রাতারাতি ‘ফকির’ থেকে ‘আমির’ বনে গেলেন চাকরিটার বদৌলতে। কিন্তু দুঃখের বিষয় কি জানেন, একদিন সে এসে ক্লাবে আমার পাশে বসে। সৌজন্যতার খাতিরে জিজ্ঞাসা করলাম, ভাই কেমন আছেন? তিনি উত্তর দেন, কেমন আর থাকবো। পেশায় তো থাকতে দিলেন না, তাড়িয়ে দিলেন কোনো মতে বেঁচে আছি।
তার এ উত্তরে নির্মলদা শুধু হতবাকই হননি তার হৃদয়ে যে বর্শা বিঁধেছিল তা তার চেহারা দেখেই বুঝা গেল। তাকে বললাম, ‘দাদা, আপনি আমাদের পেশার বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। আপনার মনোবেদনা বুঝতে পারি। কেবলমাত্র বঙ্গবন্ধুর মতো একজন রাষ্ট্রপ্রধান বলতে পেরেছিলেন, ‘একজন সাংবাদিকও বেকার থাকবে না। যতদিন চাকরি না হয় ট্রেজারি থেকে বেতন নিয়ে আসবে।’ পৃথিবীর কোনো ধনতান্ত্রিক, সমাজতান্ত্রিক কিংবা অন্য কোনো কল্যাণ রাষ্ট্রের কোন রাষ্ট্রপ্রধান দেশের একটি গোটা পেশাজীবী সম্প্রদায়কে এভাবেই ট্রেজারি থেকে বিনা কাজে বিনা চাকরিতে বেতন নিয়ে আসতে বলতে পরেননি। এই দুঃসাহস কেবল বঙ্গবন্ধু দেখাতে পেড়েছিলেন। আর আজ কতিপয় ধান্ধাবাজ এ বলে মেকি ইতিহাস তৈরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন যে বঙ্গবন্ধু সব সংবাদপত্র বন্ধ করে সব সাংবাদিককে বেকার করেছিলেন। ধিক তাদের চতুর মনোবৃত্তির। তবে মিথ্যা রচনার অভিযোগে একদিন ইতিহাসের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড়াতেই হবে এবং সেদিন খুবই নিকটবর্তী।

লেখক : সম্পাদক, বাংলাদেশ নিউজ ও
বাংলাদেশের খবর, উপদেস্টা সম্পাদক অনলাইন দৈনিক lastnewsbd.com.সহ-সভাপতি জাতীয় প্রেসক্লাব
ই-মেইল : aibdhaka@yahoo.com.

  • প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব। লাস্টনিউজবিডি‌’র সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে মিল নেই। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য লাস্টনিউজবিডি‌ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না।

সর্বশেষ সংবাদ

Print Friendly, PDF & Email

মতামত দিন

 

মতামত দিন

bsti
exim bank
পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >

১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, খাদ্যের মতো রাজনীতিতেও ভেজাল ঢুকে পড়েছে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় তাই এখানেও কিছু ভেজাল প্রবেশ করেছে। আপনি কি এই মন্তব্যের সাথে একমত ?

ফলাফল দেখুন

Loading ... Loading ...
আর্কাইভ
মতামত
ধর্ষণের কারণ ও সমাধানের পথ
।।মোহাম্মদ ইমাদ উদ্দীন।। ধর্ষণ একটি...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
সফল হওয়ার গল্প, সাফল্যের পথ
।।আলীমুজ্জামান হারুন।। ১৯৮১ সালে যখন নিটল মটরসের য...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • বোড়াগাড়ী হাটে নৌকা প্রার্থীর বিশাল মিছিল
  • বাসা ভাড়া নিয়ে দেহ ব্যবসা, খদ্দেরসহ হাতেনাতে ধরা দুই নারী
  • কুড়িগ্রামে বন্যায় খাবার ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট

১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, খাদ্যের মতো রাজনীতিতেও ভেজাল ঢুকে পড়েছে। আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় তাই এখানেও কিছু ভেজাল প্রবেশ করেছে। আপনি কি এই মন্তব্যের সাথে একমত ?

  • মন্তব্য নাই (2%, ১ Votes)
  • না (6%, ৩ Votes)
  • হ্যা (92%, ৪৩ Votes)

Total Voters: ৪৭

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশারফ হোসেন বলেছেন, বিএনপি একটি বট গাছ, এ গাছ থেকে দু’একটি পাতা ঝড়ে পরলে বিএনপির কিছু যাবে আসবে না , এ মন্তব্যের সাথে কি আপনি একমত ?

  • মতামত নেই (7%, ৩ Votes)
  • না (29%, ১২ Votes)
  • হ্যা (64%, ২৭ Votes)

Total Voters: ৪২

অনেক এনজিও অসৎ উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। আপনি কি এই মন্তব্যের সাথে একমত ?

  • মতামত নাই (0%, ০ Votes)
  • না (19%, ৬ Votes)
  • হ্যা (81%, ২৫ Votes)

Total Voters: ৩১

ডাক্তারদের ফি বেধে দেয়ার সরকারের পরিকল্পনার সাথে আপনি কি একমত?

  • না (0%, ০ Votes)
  • মতামত নাই (6%, ২ Votes)
  • হ্যা (94%, ৩০ Votes)

Total Voters: ৩২

দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে মন্ত্রীসভায় প্রধানমন্ত্রী যে চমক এনেছেন তাতে কি আপনি খুশি ?

  • মতামত নাই (15%, ৫ Votes)
  • না (24%, ৮ Votes)
  • হ্যা (61%, ২১ Votes)

Total Voters: ৩৪

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠ ,নিরপেক্ষ হয়েছে বলে আপনি মনে করেন ?

  • মতামত নাই (0%, ০ Votes)
  • না (0%, ০ Votes)
  • হা (100%, ০ Votes)

Total Voters:

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠ ,নিরপেক্ষ হয়েছে বলে আপনি মনে করেন ?

  • মন্তব্য নাই (9%, ২ Votes)
  • হ্যা (18%, ৪ Votes)
  • না (73%, ১৬ Votes)

Total Voters: ২২

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে বলে আপনি মনে করেন ?

  • মতামত নাই (5%, ২ Votes)
  • হ্যা (34%, ১৫ Votes)
  • না (61%, ২৭ Votes)

Total Voters: ৪৪

একবার ভোট বর্জন করায় অনেক খেসারত দিতে হয়েছে মন্তব্য করে আর নির্বাচন বয়কটের আওয়াজ না তুলতে জোট নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেন, আপনি কি একমত ?

  • মতামত নাই (3%, ১ Votes)
  • না (6%, ২ Votes)
  • হা (91%, ৩২ Votes)

Total Voters: ৩৫

সংলাপ সফল হবে বলে আপনি মনে করেন ?

  • হা (13%, ২ Votes)
  • মতামত নাই (13%, ২ Votes)
  • না (74%, ১১ Votes)

Total Voters: ১৫

আপনি কি মনে করেন যে কোন পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচন করবে ?

  • মতামত নাই (7%, ৭ Votes)
  • না (23%, ২৩ Votes)
  • হ্যা (70%, ৭১ Votes)

Total Voters: ১০১

অাপনি কি কোটা সংস্কারের পক্ষে ?

  • মতামত নেই (3%, ১ Votes)
  • না (8%, ৩ Votes)
  • হ্যা (89%, ৩৩ Votes)

Total Voters: ৩৭

খালেদা জিয়ার মামলা লড়তে বিদেশি আইনজীবীর কোন প্রয়োজন নেই' বিএনপি নেতা আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের সাথে - আপনিও কি একমত ?

  • মতামত নাই (9%, ১ Votes)
  • না (27%, ৩ Votes)
  • হ্যা (64%, ৭ Votes)

Total Voters: ১১

আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের কোনো উপদেশ বা পরামর্শের প্রয়োজন নেই বলে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্য যৌক্তিক বলে মনে করেন কি?

  • মতামত নাই (7%, ১ Votes)
  • হ্যা (20%, ৩ Votes)
  • না (73%, ১১ Votes)

Total Voters: ১৫

এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব) অলি আহমাদ বলেন, এরশাদকে খুশি করতে বেগম জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের জেলখানায় নেয়া হয়েছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  • মতামত নাই (8%, ৫ Votes)
  • না (27%, ১৬ Votes)
  • হ্যা (65%, ৩৮ Votes)

Total Voters: ৫৯

আপনি কি মনে করেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহন করবে ?

  • না (13%, ৫৪ Votes)
  • হ্যা (87%, ৩৬২ Votes)

Total Voters: ৪১৬

আপনি কি মনে করেন বিএনপির‘র সহায়ক সরকারের রুপরেখা আদায় করা আন্দোলন ছাড়া সম্ভব ?

  • হ্যা (32%, ৪৫ Votes)
  • না (68%, ৯৫ Votes)

Total Voters: ১৪০

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরে নির্ভরশীল, এ বিষয়ে অাপনার মন্তব্য কি ?

  • মন্তব্য নাই (7%, ২ Votes)
  • হ্যা (26%, ৭ Votes)
  • না (67%, ১৮ Votes)

Total Voters: ২৭

আপনি কি মনে করেন নির্ধারিত সময়ের আগে আগাম নির্বাচন হবে?

  • মন্তব্য নাই (7%, ১০ Votes)
  • হ্যা (31%, ৪৬ Votes)
  • না (62%, ৯১ Votes)

Total Voters: ১৪৭

হেফাজতকে বড় রাজনৈতিক দল বানানোর চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। আপনি কি তার সাথে একমত?

  • মতামত নাই (10%, ৩ Votes)
  • না (34%, ১০ Votes)
  • হ্যা (56%, ১৬ Votes)

Total Voters: ২৯

“আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে দেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা কমে যাবে ”সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সাথে কি অাপনি একমত ?

  • মতামত নাই (9%, ৩ Votes)
  • না (32%, ১১ Votes)
  • হ্যা (59%, ২০ Votes)

Total Voters: ৩৪

আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে যারা সংগঠনের নামে দোকান খুলে বসেছে, তাদের ধরে ধরে পুলিশে দিতে হবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের আপনার প্রতিক্রিয়া কি ?

  • মতামত নাই (7%, ৩ Votes)
  • না (10%, ৪ Votes)
  • হ্যা (83%, ৩৫ Votes)

Total Voters: ৪২

ড্রাইভাররা কি আইনের উর্ধে ?

  • মতামত নাই (2%, ১ Votes)
  • হ্যা (14%, ৭ Votes)
  • না (84%, ৪৩ Votes)

Total Voters: ৫১

সার্চ কমিটিতে রাজনৈতিক দলের কেউ নেই- ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?

  • মতামত নাই (5%, ৩ Votes)
  • হ্যা (31%, ১৭ Votes)
  • না (64%, ৩৫ Votes)

Total Voters: ৫৫