Sunday, 9th September , 2018, 07:50 pm,BDST
Print Friendly, PDF & Email

বাংলাদেশের আগামী সংসদ নির্বাচন ঘিরে ‘সাইবার যুদ্ধের’ সম্ভাবনা



লাস্টনিউজবিডি,০৯ সেপ্টেম্বর,নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণার ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম,বিশেষ করে ফেসবুক এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

আসছে সাধারন নির্বাচনেও ইন্টারনেট-ভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম একটি বড় প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। বড় রাজনৈতিক দলগুলো এ বিষয়টি নিয়ে বেশ মনোযোগীও হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম শনিবার যশোরে দলের নেতা-কর্মীদের বলেছেন, আসছে নির্বাচনে সাইবার যুদ্ধ হবে।

এমন প্রেক্ষাপটে দলটির কর্মী-সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশি সক্রিয় হতে পরামর্শ দিয়েছেন মি: ইমাম।

মি: ইমামকে উদ্ধৃত করে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকা লিখেছে, “তারা যদি মিথ্যা একটি লেখে, আপনার দশটি জবাব লিখুন। আপনারা কেন পিছিয়ে থাকবেন। আগামী নির্বাচনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংঘাতিক লড়াই হবে। আপনাদেরকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ যথেষ্ট গুরুত্বের সাথে নিয়েছে তার প্রমাণ মিলেছে গত বেশকয়েক বছর যাবত। ক্ষমতাসীন দল মনে করে তাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ফেসবুকে অনেক সক্রিয় এবং সরকারবিরোধী নানা ‘অপপ্রচারে’ লিপ্ত।

কিন্তু এর বিপরীতে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা ফেসবুকে ততটা সোচ্চার নয় বলেই দলের শীর্ষ পর্যায়ে ধারণা রয়েছে। সম্প্রতি আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ সাইবার ব্রিগেড গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে।

তারা বলছে, এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘গুজব ছড়ানো প্রতিহত’ করা। এছাড়া আগামী নির্বাচনের জন্য ‘সরকারের উন্নয়ন’ প্রচার করা।

বাংলাদেশ রাজনৈতিক অঙ্গনে ‘সাইবার যুদ্ধ’ প্রথমবারের মতো ব্যাপক আকার ধারণ করে ২০১২ সালে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময়।

গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনকারীরা যেভাবে অনলাইন ব্লগ এবং সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় ছিলেন তেমনি ফেসবুকসহ ইন্টারনেট-ভিত্তিক বিভিন্ন মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে উঠে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা।

‘বাঁশের কেল্লা’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে বিচারের সমালোচনা করা হয় ক্রমাগত। বাঁশের কেল্লা’ ফেসবুক পেজটিকে জামায়াতে ইসলামীর মদদ-পুষ্ট বলে মনে করা হয়।

এর পর থেকে ফেসবুকে নানা ধরণের গ্রুপ তৈরি করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কর্মী-সমর্থকরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক আসিফ নজরুল মনে করেন, আসছে নির্বাচনে অনলাইন-বিশেষ করে করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বর্তমান সময়ে সারা পৃথিবীতে নির্বাচনী প্রচারণা এবং খবর আদান-প্রদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিসরে অনলাইনে প্রচারণা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠার দুটো কারণ রয়েছে বলে মনে করেন অধ্যাপক নজরুল।

তাঁর মতে প্রথম কারণ হচ্ছে বাংলাদেশের মূলধারার গণমাধ্যমে একাংশ বিশ্বাসযোগ্যতা হারিয়েছে। আরেকটি অংশ সরকারের বিভিন্ন কালাকানুনের ভয়ে স্বাধীন মতো সাংবাদিকতা করতে পারছে না।

এ দুটো পরিস্থিতির কারণে যে শুন্যতা দেখা দিয়েছে সেটি পূরণের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে অধ্যাপক নজরুল মনে করেন।

তাঁর মতে বাংলাদেশে বর্তমানে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রতিবাদ করার জায়গা চরমভাবে সংকুচিত হওয়ার কারণে বিকল্প মাধ্যম হিসেবে মানুষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বেছে নিয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক বিএম মইনুল হোসেন, এবারের নির্বাচনকে সামনে রেখে ফেসবুকে রাজনৈতিক দলের প্রার্থিরা নিজেদের প্রচারণা জোরেশোরে শুরু করেছেন।

“কোন পোস্টে কয়টি লাইক পড়ছে, কতগুলো শেয়ার হচ্ছে- এটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এর মাধ্যমে একটি ইমপ্যাক্ট (প্রভাব) তৈরি হয়, ” বলছিলেন মি: হোসেন।

তিনি বলেন, ফেসবুক এমন একটি মাধ্যম যার সাহায্যে কম সময়ে অনেক মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেয়া যায়।

মি: হোসেনের বলেন, “সাইবার যুদ্ধ বলতে তো আর প্রথাগত যুদ্ধ বোঝায় না। ইন্টারনেট ব্যবহার করে নিজেদের প্রচার-প্রচারনা করা এবং প্রতিপক্ষের ভুল চিহ্নিত করাটাই হবে এর উদ্দেশ্য।”

সম্প্রতি কোটা সংস্কার এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বহুল ব্যবহার যেমন লক্ষ্য করা গেছে। আর তা নিয়ে সরকারের বিভিন্ন পর্যায় থেকে খোলাখুলি বিরক্তিপ্রকাশ এবং নেতিবাচক মন্তব্যও করা হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক নিয়ে সরকার বাড়তি সতর্ক হয়ে উঠেছে।

মাস খানেক আগে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার বলেছেন, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর হলে ফেসবুকসহ যে কোন কিছু বন্ধ করতে হবে।

ফেসবুকে অনেক গ্রুপ এবং পেজ আছে যেখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডের সমর্থন করা কিংবা প্রতিপক্ষের সমালোচনা করা হয়। নিজেদের কর্মকাণ্ডের প্রচার-প্রচারণার সাথে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নানা প্রচারণার বিষয়ও লক্ষণীয় এসব পেজে।

আওয়ামীলীগ এবং বিএনপি’র মতো বড় রাজনৈতিক দলগুলোর ফেসবুক পেজের পাশাপাশি টুইটার এবং ইউটিউবেও সক্রিয়। এছাড়া তাদের কর্মী-সমর্থকরা ফেসবুকে অসংখ্য পেজ খুলেছেন যেগুলো দলের প্রচার-প্রচারণার কাজ করছে।

‘বিএনপি সমর্থক গোষ্ঠী’, ‘বিএনপি-দেশনায়ক তারেক রহমান’ কিংবা ‘শেখ হাসিনা-মাদার অব হিউম্যানিটি’, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অনলাইন ফোরাম’- এ ধরণের বহু ফেসবুক পেজ দেখা যায়।

বিএনপি এবং আওয়ামীলীগের মতো বড় রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে নেতা-কর্মীদের ফেসবুকের মাধ্যমে নিজদের প্রচারণার পাশপাশি প্রতিপক্ষের ত্রুটি এবং নিজেদের কর্মকাণ্ড তুলে ধরার নির্দেশনা রয়েছে।

আওয়ামী লীগের কোন কোন নেতা মনে করেন, মানবতা-বিরোধী অপরাধের বিচারের সময় তাদের প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা প্রচারণা’ চালিয়েছে।

কিন্তু এর বিপরীতে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকরা ততটা সক্রিয় ছিলনা বলেই তাদের ধারণা।

জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারো সে ধরণের পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে বলে ক্ষমতাসীনরা মনে করছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রভাব তৈরি করে।

অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ” যখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটা জিনিস প্রচণ্ড আলোচিত হয়, এমনকি মূল গণমাধ্যমও সেটা দ্বারা প্রভাবিত হয়। সূত্র-বিবিসি

লাস্টনিউজবিডি/তাওহীদ

Print Friendly, PDF & Email
Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed

diamond world
Rupali bank ltd
exim bank
Lastnewsbd.com
পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >

আপনি কি মনে করেন যে কোন পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচন করবে ?

ফলাফল দেখুন

Loading ... Loading ...
আর্কাইভ
মতামত
সাক্ষাৎকার
দিল্লীর খাদ্যজাত পন্য মেলায় ভারত-বাংলাদেশ চেম্বারকে অামন্ত্রন
লাস্টনিউজবিডি,৩রা সেপ্টেম্বর,নিউজ ডেস্ক: ট্রেড কাউ...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • রানীশংকৈলে বেহাল সড়কে জনদূর্ভোগ
  • রংপুরে দুই আওয়ামী লীগ নেত্রীর হাতাহাতি (ভিডিও)
  • বাঁশমালি সম্প্রদায়ের জন্য বসত ঘর নির্মাণ প্রকল্পে এক রডের পিলারে অসন্তোষ

আপনি কি মনে করেন যে কোন পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচন করবে ?

  • মতামত নাই (2%, ১ Votes)
  • না (27%, ১৩ Votes)
  • হ্যা (71%, ৩৫ Votes)

Total Voters: ৪৯

অাপনি কি কোটা সংস্কারের পক্ষে ?

  • মতামত নেই (3%, ১ Votes)
  • না (8%, ৩ Votes)
  • হ্যা (89%, ৩৩ Votes)

Total Voters: ৩৭

খালেদা জিয়ার মামলা লড়তে বিদেশি আইনজীবীর কোন প্রয়োজন নেই' বিএনপি নেতা আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের সাথে - আপনিও কি একমত ?

  • মতামত নাই (9%, ১ Votes)
  • না (27%, ৩ Votes)
  • হ্যা (64%, ৭ Votes)

Total Voters: ১১

আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের কোনো উপদেশ বা পরামর্শের প্রয়োজন নেই বলে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্য যৌক্তিক বলে মনে করেন কি?

  • মতামত নাই (7%, ১ Votes)
  • হ্যা (20%, ৩ Votes)
  • না (73%, ১১ Votes)

Total Voters: ১৫

এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব) অলি আহমাদ বলেন, এরশাদকে খুশি করতে বেগম জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের জেলখানায় নেয়া হয়েছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  • মতামত নাই (8%, ৫ Votes)
  • না (27%, ১৬ Votes)
  • হ্যা (65%, ৩৮ Votes)

Total Voters: ৫৯

আপনি কি মনে করেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহন করবে ?

  • না (13%, ৫৪ Votes)
  • হ্যা (87%, ৩৬২ Votes)

Total Voters: ৪১৬

আপনি কি মনে করেন বিএনপির‘র সহায়ক সরকারের রুপরেখা আদায় করা আন্দোলন ছাড়া সম্ভব ?

  • হ্যা (32%, ৪৫ Votes)
  • না (68%, ৯৫ Votes)

Total Voters: ১৪০

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরে নির্ভরশীল, এ বিষয়ে অাপনার মন্তব্য কি ?

  • মন্তব্য নাই (7%, ২ Votes)
  • হ্যা (26%, ৭ Votes)
  • না (67%, ১৮ Votes)

Total Voters: ২৭

আপনি কি মনে করেন নির্ধারিত সময়ের আগে আগাম নির্বাচন হবে?

  • মন্তব্য নাই (7%, ১০ Votes)
  • হ্যা (31%, ৪৬ Votes)
  • না (62%, ৯১ Votes)

Total Voters: ১৪৭

হেফাজতকে বড় রাজনৈতিক দল বানানোর চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। আপনি কি তার সাথে একমত?

  • মতামত নাই (10%, ৩ Votes)
  • না (34%, ১০ Votes)
  • হ্যা (56%, ১৬ Votes)

Total Voters: ২৯

“আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে দেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা কমে যাবে ”সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সাথে কি অাপনি একমত ?

  • মতামত নাই (9%, ৩ Votes)
  • না (32%, ১১ Votes)
  • হ্যা (59%, ২০ Votes)

Total Voters: ৩৪

আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে যারা সংগঠনের নামে দোকান খুলে বসেছে, তাদের ধরে ধরে পুলিশে দিতে হবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের আপনার প্রতিক্রিয়া কি ?

  • মতামত নাই (7%, ৩ Votes)
  • না (10%, ৪ Votes)
  • হ্যা (83%, ৩৫ Votes)

Total Voters: ৪২

ড্রাইভাররা কি আইনের উর্ধে ?

  • মতামত নাই (2%, ১ Votes)
  • হ্যা (14%, ৭ Votes)
  • না (84%, ৪৩ Votes)

Total Voters: ৫১

সার্চ কমিটিতে রাজনৈতিক দলের কেউ নেই- ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?

  • মতামত নাই (5%, ৩ Votes)
  • হ্যা (31%, ১৭ Votes)
  • না (64%, ৩৫ Votes)

Total Voters: ৫৫

ইসি গঠন নিয়ে রস্ট্রপতির সংলাপ রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক মাত্রা আসবে বলে কি আপনি মনে করেন ?

  • মতামত নাই (8%, ৭ Votes)
  • না (34%, ৩২ Votes)
  • হ্যা (58%, ৫৪ Votes)

Total Voters: ৯৩

Do you support DD?

  • yes (0%, ০ Votes)
  • no (100%, ০ Votes)

Total Voters:

How Is My Site?

  • Excellent (0%, ০ Votes)
  • Bad (0%, ০ Votes)
  • Can Be Improved (0%, ০ Votes)
  • No Comments (0%, ০ Votes)
  • Good (100%, ০ Votes)

Total Voters: