Sunday, 10th June , 2018, 08:04 pm,BDST
Print Friendly, PDF & Email

আল-কুদ্স মুক্তির সংগ্রাম ও অন্তহীন ইহুদিবাদী আগ্রাসন



।।এস এম সাখাওয়াত হুসাইন ।।

সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও আল-কুদস মুক্তির আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী ইসরাইলের রাজধানী হিসাবে জেরুসালেমের স্বীকৃতির বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়েছে মার্কিন দূতাবাস সেখানে সরিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে। গত ১৫ মে যেদিন যুক্তরাষ্ট্র তার দূতবাস জেরুসালেমে সরিয়ে আনে সে দিনটি ছিলো ইসরাইল প্রতিষ্ঠার দিন। ১৯৪৮ সালে লাখ লাখ ফিলিস্তিনীকে নিজেদের হাজার বছরের আবাসভূমি থেকে, নিজেদের ঘরবাড়ি থেকে সীমাহীন অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়ে উচ্ছেদ করে সেখানে অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল প্রতিষ্ঠা করা হয়। তখন থেকেই ফিলিস্তিনীরা ওই দিনটিকে ‘বিপর্যয়’ বা ‘নাকবা’ দিবস হিসাবে পালন করে আসছেন।

ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করেছে এবং জাতিসংঘের ভূমিকা অকার্যকর করে তুলেছে। কারণ ১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের যে প্রস্তাবের মাধ্যমে ইহুদিবাদী রাষ্ট্র গঠন করা হয়েছিল তাতে বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুসালেম শহরকে বাদ রেখে ফিলিস্তিনকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এক ভাগ হয়ে যায় ইসরাইল এবং আরেক ভাগ হয় ফিলিস্তিন। বায়তুল মুকাদ্দাস শহরের ধর্মীয় সংবেদনশীলতার দিক বিবেচনা করে এ শহরের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয় এবং এর নিয়ন্ত্রণ রাখা হয় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হাতে।
কিন্তু পরের বছর আরবদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসরাইল পশ্চিম জেরুসালেম এবং আরও পরে ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের সময় জর্দানের হাত থেকে পূর্ব জেরুসালেম দখল করে নেয়। জেরুসালেমকে দেওয়া জাতিসংঘের বিশেষ মর্যাদার কারণেই বিশ্বের কোনও দেশ সেখানে দূতাবাস স্থাপন করেনি। যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবারের মত জাতিসংঘের নির্দেশনা উপেক্ষা করে, সমস্ত বিশ্ব জনমতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে, আরবদের অধিকার ও সুদীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন গুড়িয়ে দিয়ে আল-কুদস সম্পূর্ণ ইসরাইলের করায়ত্ব করার সুযোগ করে দিলো।

ফিলিস্তিনীদের মহা বিপর্যয়ের দিনে ‘নাকবা’ দিবসে যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনীদের মর্মে আঘাত হেনেছে। তারা সেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকেই ইঙ্গ-মার্কিন পরাশক্তির মিথ্যা আশ্বাস এবং প্রতিশ্রুতিভঙ্গের শিকার হয়েছে এবং এখন আর তাদের কোনও আশ্বাসে বিশ্বাস করে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় ফিলিস্তিন আবার হয়ে উঠেছে বিক্ষুব্ধ ও অগ্নিগর্ভ।

 

তারা জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে আনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। গাজায় বিক্ষোভকালে ইসরাইলী সেনাদের গুলিতে একদিনে ৬০ জন ফিলিস্তিনী শাহাদাত বরণ করেছে। আহত হয়েছে আড়াই হাজারের বেশি। এখনও বিক্ষোভ চলছে। ইসরাইলী বাহিনী এগুলোকে তাদের ভাষায় সন্ত্রাসী গ্রুপ হামাসের কর্মকা- আখ্যা দিয়ে একের পর এক প্রতিবাদী ফিলিস্তিনীদের ওপর হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রতিবাদের যে তীব্রতা তাতে এটি নতুন করে আরও একটি ইসরাইলবিরোধী গণঅভ্যুত্থান বা ‘ইন্তিফাদা’ হয়ে ওঠে কিনা এমন ধারণা করছেন অনেক বিশ্লেষক।
১৯৮৭ সাল থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ফিলিস্তিনীরা ইসরাইলবিরোদী ব্যাপক গণঅভ্যুত্থান বা ইন্তিফাদা চালিয়েছিলো। শুধু পাথর ছুড়ে তারা প্রতিরোধের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। সমগ্র ফিলিস্তিনী জনগণের অংশগ্রহণে ওই ইন্তিফাদা তাদের সংগ্রামের প্রতি বিশ্বজুড়ে মানুষের মনোযোগ আকর্ষণ করে এবং একধরনের শান্তি-প্রক্রিয়া গ্রহণের বিষয়টিকে সম্ভব করে তোলে। এর ফলেই যুক্তরাষ্ট্র পিএলওকে সর্বস্তরের ফিলিস্তিনী জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে স্বীকার করে নেয় এবং ১৯৯৩ সালে ইসরাইল-পিএরও শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর হয়।

 

কিন্তু অচিরেই এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, শান্তিচুক্তি করলেও ফিলিস্তিনী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা বা ফিলিস্তিনীদের প্রকৃত রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে ওই চুক্তি কোনও নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। ফলত এটি ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় এবং যে কোনও মূল্যে স্বাধীনতা অর্জনের অঙ্গীকার নিয়ে ফিলিস্তিনীদের নতুন সংগঠন হামাস গড়ে ওঠে। এরই মধ্যে হামাস বিপুল জনসমর্থন এবং অভূতপূর্ব সামরিক সামর্থ্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে ইরানের ইসলামী বিপ্লবের নৈতিক সমর্থন ও সহযোগিতা।
ইসরাইল-পিএলও শান্তচুক্তির ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী সৈন্য-সামন্ত নিয়ে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করলে তার প্রতিবাদ জানায় ফিলিস্তিনীরা। প্রতিবাদ-বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা জাতি। ২০০০ সালের সেই অভ্যুত্থান দ্বিতীয় ইন্তিফাদা বা ‘আল-আকসা’ ইন্তফাদা হিসাবে পরিচিত হয়ে আছে।

 

ইরানী ইসলামী বিপ্লবের নেতা ইমাম খোমেনী ১৯৭৯ সালে আল-কুদস মুক্তির লক্ষ্যে প্রতি বছর মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার আল-কুদস দিবস পালনের আহ্বান জানান। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুসলিম বিশ্বের দেশে দেশে বিদসটি পালিত হয়ে আসছে। মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদের নগরী জেরুসালেমের মুক্তি এবং ফিলিস্তিনীদের জন্য একটি স্বাধীন আবাসভূমির নিশ্চয়তা বিধান করাই আল-কুদস দিবসের প্রতিপাদ্য। সেই লক্ষ্যে ইমাম খোমেনীর আহবানে বিশ্ব মুসলিম জনমত যে ঐক্যবদ্ধ তারই প্রতিফলন ঘটে আল-কুদস দিবস পালনের মধ্য দিয়ে। দ্বিতীয় ইন্তিফাদার মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনীরা ইসরাইলকে এই বার্তা দিয়েছে যে, আল-আকসা বা আল-কুদস নিয়ে কোনওরকম আপস-মীমাংসা বা ছাড় দিতে তারা প্রস্তুত নয়।

 

জেরুসালেমে মার্কিন দূতাবাস সরিয়ে আনার ফলে সেখানে ফিলিস্তিনীদের ওপর ইসরাইলী নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যাওয়ার আংশকা দেখা দিয়েছে। পূর্ব জেরুসালেমে স্থায়ী বাসিন্দা হিসাবে যেসব ফিলিস্তিনী রয়েছেন তাদেরকে ইসরাইলের কাছ থেকে একটি আইডি কার্ড নিতে হয়। বর্তমানে পূর্ব জেরুসালেমের ৪ লাখ ২০ হাজার ফিলিস্তিনির ‘স্থায়ী বাসিন্দা’ হিসেবে আইডি কার্ড রয়েছে। তারা জাতীয় শনাক্তকরণ নম্বর ছাড়া একটি অস্থায়ী জর্দানি পাসপোর্টও বহন করে। এর মানে হলো, তারা জর্দানের পূর্ণাঙ্গ নাগরিক নয়, তাদের জর্দানে কাজ করার জন্য একটি ওয়ার্ক পারমিট প্রয়োজন হয়। তাদেরকে ইসরাইলের নাগরিকত্ব দেওয়া হয়নি। জেরুসালেমের ফিলিস্তিনিরা মূলত রাষ্ট্রহীন, আইনি সীমার মধ্যে আটকে আছে- তারা ইসরাইলের নাগরিক নয়, জর্দান বা ফিলিস্তিনেরও নাগরিকও নয়। পূর্ব জেরুসালেমে বসবাসকারী ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে ইসরাইল বিদেশী অভিবাসীদের মতো আচরণ করে। সেখানে তারা জন্মগ্রহণ করলেও কোনো অধিকার নেই তাদের, রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত অনুগ্রহের ভিত্তিতে সেখানে বসবাস করেন।

 

এখন মার্কিন সমর্থনের নতুন শক্তিতে উদ্বুদ্ধ হয়ে ইসরাইল নতুন করে সেখানে ইহুদি বসতি স্থাপনের কাজ শুরু করবে। হয়তো ফিলিস্তিনীদের উৎখাতের প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। অজুহাত খুব সোজা। ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করা, মিছিলে সামিল হওয়া বা অবৈধ বসতি স্থাপনের প্রতিবাদ জানালেই রাষ্ট্রদ্রোহিতার দায়ে বাতিল হবে স্থায়ী আবাসনের আইপি কার্ড। আইন-শৃক্সক্ষলা বাহিনী তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে পারবে। জেলে ভরতে পারবে। অনেক সময় যার বাড়ি তাকে দিয়েই সেই বাড়তে আগুন ধরিয়ে দিতে বাধ্য করেছে প্রতিহিংসাপরায়ণ ইহুদি রাষ্ট্রটি এমন অসংখ্য দৃষ্টান্ত আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের রিপোর্ট থেকেই জানা যায়। ফিলিস্তিনী কর্তৃপক্ষের সাবেক মন্ত্রী এবং এমপিসহ অন্তত চারজনকে ইসরাইল তাদের পূর্ব জেরুসালেমের ভিটেমাটি থেকে বহিষ্কার করে নির্বাসনে পাঠিয়েছে এবং তারা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় অমানবিক জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই অবস্থায় সেখানকার সাধারণ ফিলিস্তিনীদের ওপর ইসরাইলী অত্যাচার-নির্যাতনের মাত্রা কতটা ভয়াবহ তা সহজেই অনুমান করা সম্ভব।

 

ট্রাম্প কেন বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন? এ প্রসঙ্গে বেশ কয়েকটি বিষয়ের অবতারণা করা যায়। বলা হচ্ছে যে, ট্রাম্পের নির্বাচনী ইশতেহারে জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল। মূলত তিনি তার কট্টরপন্থী সমর্থকের কাছে জনপ্রিয়তা বাড়ানোর লক্ষ্যে ঘোষণাটি দিয়েছেন। মার্কিন প্রশাসনে নিজের ইচ্ছাশক্তির প্রয়োগ দেখানোর চ্যালেঞ্জ হিসেবে এ ঘোষণা দেওয়া হতে পারে। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের মোকাবিলা করা, বিশেষত ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপ এবং ট্রাম্পকে বিজয়ে রাশিয়ার ভূমিকা, তার নারীঘটিত কেলেঙ্কারি, জামাই জারেদ কুশনারের রুশ-সংশ্লিষ্টতা এসব বিষয় নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভাগ্য ইদানীং অনেক বেশি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সে কারণে তিনি ইহুদিবাদী লবিকে খুশি রাখতেই তড়িঘড়ি করে বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন।

 

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স হচ্ছেন অসম্ভব রকমের ইহুদিবাদী খ্রিষ্টান। তিনিও এ সুযোগ নিয়েছেন এবং পরে তিনি তার এই ভূমিকা কাজে লাগিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে পারেন। ট্রাম্পের জামাই কুশনার ট্রাম্পের সিনিয়র উপদেষ্টার পদে রয়েছেন। তিনি নিজে একজন ইহুদি এবং ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর তিনি ফিলিস্তিন-ইসরাইল সঙ্কটের মতো অনেক বড় একটি ইস্যু নিরসনের দায়িত্ব পান। ইহুদি কুশনারও বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য ট্রাম্পকে প্রভাবিত করেছেন।

এদিকে ট্রাম্পকে এত বড় পদক্ষেপ নেয়ার সাহস যুগিয়েছেন সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমানও। গত বছর তিনি ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে অনেকটা লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরির মতো সৌদি আরবে তলব করেন। মাহমুদ আব্বাস সৌদি আরব পৌঁছলে তাকে যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান জানান, বায়তুল মুকাদ্দাস হবে ইসরাইলের রাজধানী এবং বিষয়টি মেনে নিতে হবে। সালমানের প্রস্তাবে আপত্তি জানালে মাহমুদ আব্বাসকে ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করার কথাও বলেন। মূলত যুবরাজ সালমান, ট্রাম্প ও কুশনারের উত্থান ঘটেছে অনেকটা একই সময়ে এবং এই চক্র একজোট হয়ে কাজ করেছে।

 

এছাড়া সম্প্রতি ইরাকের কুর্দিস্তানকে আলাদা করার একটি ইসরাইলি-মার্কিন পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়েছে। অথচ আলাদা কুর্দিরাষ্ট্র হলে তা হতো মূলত ইসরাইলের বর্ধিত অংশ এবং ইরান সীমান্তে হওয়ায় ইসরাইল ইরানের ভেতরে বহু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তৎপর হওয়ার বেশি সুযোগ পেত। সেইসাথে আপাতত সিরিয়া ইস্যুতে ইসরাইল, সৌদি আরব ও আমেরিকা ব্যর্থ। এসব ব্যর্থতা ঢাকা দওয়া যেমন প্রয়োজন ট্রাম্পের জন্য তেমনি প্রয়োজন নেতানিয়াহুর জন্য, একই রকম প্রয়োজন সৌদি আরবের জন্য। নেতানিয়াহু নিজেও আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত, মামলা চলছে তার বিরুদ্ধে। এ মুহূর্তে বায়তুল মুকাদ্দাসকে যদি তিনি ইসরাইলের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করে নিতে পারেন তাতে তার অবস্থান মজবুত হবে এবং ইসরাইলের লোকজনের কাছে তিনি সঙ্কট কাটিয়ে হিরো বনে যাবেন।
কিন্তু ইসরাইল-মার্কিন বলয় যে ঘৃণ্য তৎপরতায় লিপ্ত হয়েছে তার ফলাফল তাদের জন্যও খুব সুখকর হবে না। কারণ, ফিলিস্তিনিরা ভূমির বিনিময়ে শান্তি চায় না তা খুবই পরিষ্কার। সেজন্যই তো তাদের কাছে হামাস এত জনপ্রিয়। আপস করতে চায় না বলেই গাজার ফিলিস্তিনি জনগণ বছরের পর বছর অবরোধের মধ্যে রয়েছে কিন্তু আত্মসমর্পণ করেনি। টানেল খুঁড়ে তারা গোপনে খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি পণ্য জোগাড় করছে, তবু মাথা নোয়ায়নি। তারা যে তৎপরতা শুরু করেছে এতে একদিকে যেমন ফিলিস্তিনিদের ঐক্য জোরদার হবে তেমনি কথিত শান্তি আলোচনার নামে আপস আলোচনারও মৃত্যু ঘটবে। ফিলিস্তিনের জনগণ আরা বেশি সংগ্রামমুখর হয়ে উঠবে। নতুন করে ইন্তিফাদা বা গণজাগরণ দেখা দেবে। সারা বিশ্বে ফিলিস্তিন ইস্যু আরো জোরদার হবে।

 

মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে বিভিন্ন বিতর্কিত ভূমিকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়েছে। ১৯৬৭ সালের আরবদের সঙ্গে যুদ্ধে ইসরাইলী সেনাবাহিনী যে অপরাজেয় শক্তি হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছিলো সেই খ্যাতি এখন আর নেই। ২০০৬ সালে দক্ষিণ লেবানন দখলের পর ইরানপন্থী প্রতিরোধ আন্দোলন হিযবুল্লাহর দুর্বার প্রতিরোধের মুখে পশ্চাদাপসরণ করতে বাধ্য হয় ইসরাইলী সেনাবাহিনী। এরপরও বেশ কয়েকটি পাল্টা আক্রমণে প্রতিবারই ব্যর্থ হয় পরমাণু শক্তিধর ইসরাইলী বাহিনী।

 

ফিলিস্তনের গাজায় হামাসের শক্তিও বিশ্বের নজর কেড়েছে। একের পর এক যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়েও ইসরাইলী বাহিনী হামাসকে পরাস্ত করতে পারেনি। বরং প্রতিবারই শূন্য হাতে গাজা থেকে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। সুতরাং লেবাননের হিযবুল্লাহ এবং ফিলিস্তিনের হামাসের মত সফল সামরিক শক্তি ভবিষ্যতে বলদর্পী ইসরাইলের দর্প চূর্ণ করতে সক্ষম হবে এমন আশাবাদ জেগে উঠতে শুরু করেছে।
আশা করা যায়, আল-কুদস তথা ফিলিস্তিন মুক্তির ইস্যুতেই অদূর ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব-প্রতিপত্তি আরো ক্ষুন্ন হবে এবং একদিন অবশ্যই ফিলিস্তিনীদের ভাগ্যাকাশে মুক্তির নতুন সূর্য উদিত হবে। লেখক: কলািমষ্ট

Print Friendly, PDF & Email
Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed

diamond world
Rupali bank ltd
exim bank
Lastnewsbd.com
পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >

আপনি কি মনে করেন যে কোন পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচন করবে ?

ফলাফল দেখুন

Loading ... Loading ...
আর্কাইভ
মতামত
‘রাত্রির গভীর বৃন্ত থেকে ছিঁড়ে আনো ফুটন্ত সকাল’
  ।। আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া ।। সত্য স্বয়ম্...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
সফল হওয়ার গল্প, সাফল্যের পথ
।।আলীমুজ্জামান হারুন।। ১৯৮১ সালে যখন নিটল মটরসে...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • রানীশংকৈলে ভাটায় জ্বালানো হবে কাঠ খড়ি করা হচ্ছে মজুদ
  • বোদায় সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ১, আহত ৫
  • অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে নৌকার বিকল্প নেই : টিটো

আপনি কি মনে করেন যে কোন পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচন করবে ?

  • মতামত নাই (4%, ৩ Votes)
  • না (25%, ১৮ Votes)
  • হ্যা (71%, ৫২ Votes)

Total Voters: ৭৩

অাপনি কি কোটা সংস্কারের পক্ষে ?

  • মতামত নেই (3%, ১ Votes)
  • না (8%, ৩ Votes)
  • হ্যা (89%, ৩৩ Votes)

Total Voters: ৩৭

খালেদা জিয়ার মামলা লড়তে বিদেশি আইনজীবীর কোন প্রয়োজন নেই' বিএনপি নেতা আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের সাথে - আপনিও কি একমত ?

  • মতামত নাই (9%, ১ Votes)
  • না (27%, ৩ Votes)
  • হ্যা (64%, ৭ Votes)

Total Voters: ১১

আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের কোনো উপদেশ বা পরামর্শের প্রয়োজন নেই বলে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্য যৌক্তিক বলে মনে করেন কি?

  • মতামত নাই (7%, ১ Votes)
  • হ্যা (20%, ৩ Votes)
  • না (73%, ১১ Votes)

Total Voters: ১৫

এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব) অলি আহমাদ বলেন, এরশাদকে খুশি করতে বেগম জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের জেলখানায় নেয়া হয়েছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  • মতামত নাই (8%, ৫ Votes)
  • না (27%, ১৬ Votes)
  • হ্যা (65%, ৩৮ Votes)

Total Voters: ৫৯

আপনি কি মনে করেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহন করবে ?

  • না (13%, ৫৪ Votes)
  • হ্যা (87%, ৩৬২ Votes)

Total Voters: ৪১৬

আপনি কি মনে করেন বিএনপির‘র সহায়ক সরকারের রুপরেখা আদায় করা আন্দোলন ছাড়া সম্ভব ?

  • হ্যা (32%, ৪৫ Votes)
  • না (68%, ৯৫ Votes)

Total Voters: ১৪০

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরে নির্ভরশীল, এ বিষয়ে অাপনার মন্তব্য কি ?

  • মন্তব্য নাই (7%, ২ Votes)
  • হ্যা (26%, ৭ Votes)
  • না (67%, ১৮ Votes)

Total Voters: ২৭

আপনি কি মনে করেন নির্ধারিত সময়ের আগে আগাম নির্বাচন হবে?

  • মন্তব্য নাই (7%, ১০ Votes)
  • হ্যা (31%, ৪৬ Votes)
  • না (62%, ৯১ Votes)

Total Voters: ১৪৭

হেফাজতকে বড় রাজনৈতিক দল বানানোর চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। আপনি কি তার সাথে একমত?

  • মতামত নাই (10%, ৩ Votes)
  • না (34%, ১০ Votes)
  • হ্যা (56%, ১৬ Votes)

Total Voters: ২৯

“আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে দেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা কমে যাবে ”সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সাথে কি অাপনি একমত ?

  • মতামত নাই (9%, ৩ Votes)
  • না (32%, ১১ Votes)
  • হ্যা (59%, ২০ Votes)

Total Voters: ৩৪

আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে যারা সংগঠনের নামে দোকান খুলে বসেছে, তাদের ধরে ধরে পুলিশে দিতে হবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের আপনার প্রতিক্রিয়া কি ?

  • মতামত নাই (7%, ৩ Votes)
  • না (10%, ৪ Votes)
  • হ্যা (83%, ৩৫ Votes)

Total Voters: ৪২

ড্রাইভাররা কি আইনের উর্ধে ?

  • মতামত নাই (2%, ১ Votes)
  • হ্যা (14%, ৭ Votes)
  • না (84%, ৪৩ Votes)

Total Voters: ৫১

সার্চ কমিটিতে রাজনৈতিক দলের কেউ নেই- ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?

  • মতামত নাই (5%, ৩ Votes)
  • হ্যা (31%, ১৭ Votes)
  • না (64%, ৩৫ Votes)

Total Voters: ৫৫

ইসি গঠন নিয়ে রস্ট্রপতির সংলাপ রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক মাত্রা আসবে বলে কি আপনি মনে করেন ?

  • মতামত নাই (8%, ৭ Votes)
  • না (34%, ৩২ Votes)
  • হ্যা (58%, ৫৪ Votes)

Total Voters: ৯৩

Do you support DD?

  • yes (0%, ০ Votes)
  • no (100%, ০ Votes)

Total Voters:

How Is My Site?

  • Excellent (0%, ০ Votes)
  • Bad (0%, ০ Votes)
  • Can Be Improved (0%, ০ Votes)
  • No Comments (0%, ০ Votes)
  • Good (100%, ০ Votes)

Total Voters: