Monday, 19th March , 2018, 06:45 pm,BDST
Print Friendly, PDF & Email

বঙ্গবন্ধু : মাটি ও মানুষের প্রতি ছিলেন দুর্বল



।। আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া ।।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যে নেতার জন্ম না হলে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদ্বোয় হতো না। হাজার বছরের শাসন-শোষনে নি:শেষিত বাঙ্গালি জাতিকে তিনি শেষবারের মতো রুখে দাঁড়াতে বলেছিলেন। বিনিময়ে জীবন দিয়ে হলেও পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে ফেলার অঙ্গীকার করেন। এই মহান নেতা বাঁচতে পারেননি। তবে এরআগে আমাদের স্বাধীন দেশের নাগরিকের মর্যদা উপহার দিয়ে যান। তিনি স্বাধীন বাংলাদেশের রূপকার। আজ ১৭ মার্চ তাঁর জন্মদিন। বাঙ্গালির আনন্দের দিন, উৎসবের দিন। বঙ্গবন্ধু জন্মগ্রহণ করেন এক মধ্যবিত্ত পরিবারে। যে পরিবারে কায়েক পুরুষ আগেই শিক্ষার আলো প্রবেশ করেছে। এক সময় তারা উচ্চবিত্ত এবং প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এমন এক পরিবারে ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু জন্মগ্রহণ করেন। ¯্রষ্টার ইচ্ছা আর স্বীয় যোগ্যতায় হতে পেরেছিলেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। বঙ্গবন্ধু এ দেশের মাটি ও মানুষের প্রতি দুর্বল ছিলেন। কি করে এ জাতির মুক্তি হবে, উন্নতি হবে, এটা ছিল তার ধ্যান-জ্ঞান। তাই কৈশোর থেকে তার আচরণ ছিল অন্যদের থেকে ভিন্ন, মানুষের বিপদে ঝাপিয়ে পড়া ছিল তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট। এ দেশের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন স্বপ্ন পুরুষ। তিনি যেমন খেটে খাওয়া মানুষের সান্বিধ্য পছন্দ করতেন, তেমনি তাকে এক নজর দেখার জন্য পথে-প্রান্তরে হাজার হাজার মানুষ জড়ো হতো।

ষাটের দশকের অন্তিমক্ষণ। জনতার পদভারে প্রকম্পিত এবং স্লোগানে মুখর রাজপথ। ফিল্ড মার্শাল আইউব খানের পতনের মধ্য দিয়ে রচিত হয়েছে সংগ্রামী জনতার বিজয়ের মাইলফলক। স্বাধিকার আন্দোলন শেষে জনতা স্বাধীনতা আন্দোলনের দিকে ধাবমান। জনরোষের আগুন নেভাতে সামরিক স্বৈরশাসক ঘোষণা দেয় নির্বাচনের। ইয়াহিয়া বললেন, ‘কোই আগার-মাগার নেহি, ইলেকশন হোগা’। শুরু হলো নির্বাচনের তৎপরতা। যুদ্ধে নামলেন সব দল। নির্বাচনের তিন সপ্তাহ আগে ১২ নভেম্বর হঠাৎ প্রকৃতির রুদ্ররোষের শিকার হলো দেশের দক্ষিণাঞ্চল। প্রলয়ংকরি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছাসে ২০ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সরকার দুর্যোগ কবলিত ভাটি অঞ্চলের নির্বাচন স্থগিত করে। সবার আগে যিনি ত্রাণ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ছুটে গিয়েছিলেন, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এর পাশাপাশি তাঁকে নির্বাচনী প্রচারণায়ও ব্যস্ত সময় কাটাতে হয়।

’৭০ সালের নির্বাচনে তৎকালীন ভোলা মহাকুমায় জাতীয় সংসদের দু’টি আসনে প্রতিদ্বন্দিতা করেছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ডা. আজহার উদ্দীন আহমেদ ও ঊনসত্তুরের গণআন্দোলনের মহানায়ক তোফায়েল আহমেদ। আর চারটি প্রাদেশিক পরিষদের আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন মোশাররফ হোসেন শাহজাহান, নজরুল ইসলাম, রেজা-ই-করিম চৌধুরী চুন্নু মিয়া ও মোতাহার হোসেন মাস্টার। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাজসাজ রব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নির্বাচনী সফরে আসছেন ভোলায়। এখান থেকে যাবেন পটুয়াখালী, বরগুনা ও পিরোজপুরসহ ভাটি অঞ্চলে। আমি তখন ছাত্র রাজনীতির সংগে যুক্ত। বঙ্গবন্ধু আসবেন, তাকে দেখব, তাঁর অনলবর্ষী বক্তৃতা শুনবÑ এই আশায় আমরা সবাই উজ্জ্বীবিত, উৎফুল্ল। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের বেদনা বুকে নিয়েও আমরা বঙ্গবন্ধুকে সংবর্ধনা দেয়ার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিতে থাকি। লঞ্চঘাট থেকে নেমে বঙ্গবন্ধু যে পথে যাবেন সেখানে কয়েকটা তোরণ নির্মাণ করা হলো। অবশ্য সামান্য দেবদারু পাতা ও কলাগাছ দিয়ে। এ নিয়ে প্রথম বিবাদ শুরু হলো আওয়ামী লীগের সংগে ছাত্রলীগের। প্রথম তোরণটা হবে আওয়ামী লীগের নামে এই দাবি তুললেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাড. সামসুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক শাহিন দা। কিন্তু আমরা ছাত্রলীগ এ কথা মানতে নারাজ। আমাদের কথা প্রথম তোরণটা হবে ছাত্রলীগের নামে। শেষ পর্যন্ত আমরাই জয়ী হলাম। বঙ্গবন্ধু আইডব্লিউটিএ’র একটি ছোট জাহাজে করে গিয়েছিলেন নির্বাচনী সফরে। জাহাজ থেকে নেমে বঙ্গবন্ধু ছাত্রলীগের তোরণের সামনে এলে আমরা স্লোগানে ফেটে পড়ি। ‘আইয়ুব না মুজিব, মুজিব-মুজিব’, ‘পি-ি না ঢাকা, ঢাকা-ঢাকা’ প্রভৃতি স্লোগানে মুখর হলো নদীর কূল। বঙ্গবন্ধু আমাদেরকে বুকে টেনে নিয়ে বললেন, ‘তোদের স্লোগান হলো না। আমি স্লোগান দেই, তোরা ধর, শিক্ষা-শান্তি-প্রগতি ’। এরপর আমাদের গগণবিদারী স্লোগানে পল্লীপ্রান্তর মুখর হয়ে ওঠে।

বঙ্গবন্ধু খেয়াঘাট থেকে সোজা চলে যান ভোলা শহরে মোল্লাদের ব্যবসা কেন্দ্রে। মরহুম সোলায়মান মোল্লা ছিলেন গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহচর। সেই সুবাদে সেদিন বিকেলে ছিল সরকারি স্কুলের মাঠে নির্বাচনী জনসভা। সকাল থেকেই ভোলা ছাড়াও পাশর্^বর্তী দৌলতখান, লালমোহন, বোরহানুদ্দীন, তজুমুদ্দিন, চরফ্যাশন, রামদাসপুর প্রমুখ এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হতে থাকে জনসভাস্থলে। বঙ্গবন্ধু সেদিন প্রচ- জ¦রে ভুগছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সারা শরীর কাঁপছিল। অনেকেই বঙ্গবন্ধুকে সভাস্থলে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধু ছিলেন অনঢ়। তিনি জনসভায় যাবেনই।

বঙ্গবন্ধুকে সভামঞ্চে যে মালা দিয়ে বরণ করা হবে সে মালাটি গাঁথার দায়িত্ব নিয়েছিলাম আমি। এজন্য ভোলা কলেজের মালি বিনোদের কাছ থেকে কয়েকদিন ধরে মালা গাঁথার কৌশল শিখেছিলাম। বিনোদ বলেছিলেন, ‘শুধুমাত্র কামিনী ফুল দিয়ে এমন একটি মালা গাঁথা শিখিয়ে দেব যা বঙ্গবন্ধু খুব পছন্দ করবেন।’ সারারাত ধরে কলেজ হোস্টেলের আঙ্গিনায় বসে এই কামিনী ফুল দিয়ে একটি মালা বানিয়েছিলাম। শুধু মালার সৌন্দর্য নয়, ঘ্রাণেও আমোদিত হয়েছিল চতুর্দিক। আর শুধু মাল্যদানই নয়, অতবড় বিশাল জনসভা পরিচালনার জন্য আমিও প্রস্তুতি নিয়েছিলাম ভিন্নতর পোশাকে। সাদা জুতা, সাদা মোজা, সাদা প্যান্ট, সাদা বুশ শার্ট এবং সাদা ফৌজি টুপি। মঞ্চে উঠার পর আমি যখন কামিনী ফুলের মালাটি পরাচ্ছিলাম বঙ্গবন্ধু আমাকে আদর করে বলেছিলেন, ‘এ যে একেবারে নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর শিষ্য।’

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পরপরই জামায়াতে ইসলামীর লোকেরা হাজার হাজার লিফলেট এদিক সেদিক ছুঁড়তে থাকে। সভামঞ্চেও কয়েকটি লিফলেট এসে পড়ে। আমি একটি লিফলেট হাতে নিয়ে দেখলাম। শিরোনাম ছিল, ‘শেখ মুজিব জবাব দিবেন কী?’ সেই লিফলেটে মোট ষোলটি প্রশ্ন ছিল। আমি সভা পরিচালনা করতে গিয়ে ঘোষণা দিলাম, এসব প্রশ্নের জবাব বঙ্গবন্ধুকে দিতে হবে না। আমরাই দেব। প্রথম প্রশ্নটি ছিল, ‘আপনি যদি পাকিস্তানের অখ-তায় বিশ^াস করেন, তবে আপনার চেলাচামু-ারা আপনাকে পাকবন্ধু না বলে বঙ্গবন্ধু খেতাব দিলেন কেন?’ আমি মাইকে বললাম, আপনাদের নেতা মাওলানা মওদুদী ও গোলাম আজমতো পশ্চিম পাকিস্তানের রাজনৈতিক হেরেমে আছেন। কাশ্মীরের আপেল, মারির আঙ্গুর প্রভৃতি দেখলে আপনাদের মুখে লালা ঝরে। তাই দরকার মনে করলে, আপনারা আপনাদের নেতাদের পাকবন্ধু খেতাব দিতে পারেন। কিন্তু আমাদের নেতা বঙ্গবন্ধু পদ্মা-মেঘনা-যমুনার কূলে হেঁটে মানুষ হয়েছেন। বাংলার মানুষকে ভালোবেসেছেন। বাংলার আলো-বাতাসে বেড়ে উঠেছেন, বাংলার মানুষের সুখে-দুখে তার হৃদয় উদ্বেলিত হয়, তাই আমরা তাকে যথার্থভাবেই বঙ্গবন্ধু খেতাব দিয়েছি। এতে আপনাদের মনবেদনা কেন? এইভাবে এক একজন বক্তাকে ডাকার আগে আমি এক একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে থাকি।

সেদিন অসুস্থতার জন্য বঙ্গবন্ধু বেশি লম্বা বক্তৃতা দিতে পারেননি। কিন্তু একটি দুটি কথাই চুম্বকের মতো শক্তিশালী ছিল, যা মানুষ মন্ত্রমুগ্ধের মতো শোনেন। ছয় দফায় বঙ্গবন্ধু পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের জন্য পৃথক মুদ্রা প্রচলনের দাবি করেছিলেন, সেটিই ছিল সবচেয়ে বড় সমালোচনার বিষয়। বঙ্গবন্ধু সাবলিল ভাষায় বলেছিলেন, ‘পাকিস্তান একটি একান্নবর্তী সংসার। এর দুই ভাই। একজন পূর্ব পাকিস্তান আরেকজন পশ্চিম পাকিস্তান। কেন্দ্র হলো বাপ-মায়ের মতো। বাপ-মাকে যেমন দুই ছেলে থাকলে সমান হারে ভরণপোষণ দেয়, তেমনি আমরা পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান সমানভাবে কেন্দ্রকে প্রয়োজনীয় ভরণ পোষণ দেবো। এখন মুদ্রা যদি ভিন্ন না হয়, তবে পশ্চিম পাকিস্তান বলবে, আমরা বেশি কামাই করি, আর পূর্ব পাকিস্তানিরা বলবে আমরা বেশি করি। ভিন্ন মুদ্রা থাকলে ধরা পড়বে কাদের আয় কত। তাই আমরা পৃথক মুদ্রার দাবি তুলেছি। বঙ্গবন্ধু এককথায় ছয় দফা বুঝাতে গিয়ে বললেন, ‘ছয় দফার অর্থÑ আমারটা আমার, তোমারটা তোমার।’ সভাস্থলে যাওয়ার আগেই বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিনি যখন ভাষণ দেবেন, তখন আমরা যেন জনগণের মাঝখানে গিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানার চেষ্টা করি। আমাদের এক কর্মী, চালাকি করে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতার একটু বিরূপ সমালোচনা করতে গিয়ে জনরোষে পড়ে। সবাই সমস্বরে বলে ওঠেন, ‘বুঝলেন না বঙ্গবন্ধু ঠিকই বলেছেন, আমাদেরটা আমাদের, তোমাদেরটা তোমাদের। এটাও বুঝলেন না।’ যা হোক, আমাদের সেই কর্মী কোনমতে জনরোষ থেকে ফিরে এসে বঙ্গবন্ধুকে জনগণের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অভিহিত করেন।

আমার গায়ের রঙ যথেষ্ট কালো ছিল। বিশেষ করে, রাত-দিন নির্বাচনী কর্মকা- পরিচালনা ও বঙ্গবন্ধুর আগমন উপলক্ষে নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে কাজ করতে গিয়ে একেবারেই চিড়ে-চ্যাপ্টা হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমার নেতাজির পোশাক এবং জামায়াতিদের ছুঁড়ে দেওয়া প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ভঙ্গি দেখে বঙ্গবন্ধু এতটাই খুশি হয়েছিলেন যে, তোফায়েল আহমেদকে বলেন, ‘এই কালা পোলাটারে আমাদের সংগে নিয়ে চল। সেই সুবাদে আমি দক্ষিণবঙ্গ সফরে বঙ্গবন্ধুর জাহাজে জায়গা পেয়েছিলাম ।’

বঙ্গবন্ধু কত বড় মাপের নেতা ছিলেন, তার জনপ্রিয়তা কত বিশাল ছিল, সে সম্পর্কে একটি ঘটনা উল্লেখ করলেই তার প্রমাণ পাওয়া যাবে।

নির্বাচনী জনসভায় কখনো কোনো নেতা সময়মতো যেতে পারছিলেন না। বিশেষ করে বঙ্গবন্ধু। এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাত্রা করলে পথে অসংখ্যবার তাকে থামতে হয়, কারণ, হাজার হাজার মানুষÑ ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ, সধবা-বিধবা দাঁড়িয়ে থাকে বঙ্গবন্ধুকে একনজর দেখার জন্য, তার কথা শোনার জন্য।

একবার পটুয়াখালী শহর থেকে জাহাজ ছাড়ার পর বঙ্গবন্ধুকে অন্তত বিশটি স্থানে জাহাজ থামাতে হয়। কারণ, হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলেন বঙ্গবন্ধুকে দেখার এবং তার কথা শোনার জন্য। শেষ পর্যন্ত শারীরিক দুর্বলতা এবং একই সংগে আরেকটি বড় নির্ধারিত সভায় দ্রুত পৌঁছার জন্য বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ‘আর কোনো অনির্ধারিত স্থানে জাহাজ থামানো যাবে না।’ কিছুক্ষণ জাহাজ চলার পর দেখা গেল, হাজার দুয়েক মানুষ হাত নেড়ে বঙ্গবন্ধুর জাহাজ থামানোর জন্য চিৎকার করছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু জাহাজ না থামিয়ে চালিয়ে যেতে বলার পর দেখা যায়, মানুষ ঝাঁপ দিয়ে নদীতে পড়ছে এবং সাঁতরিয়ে জাহাজ ধরার চেষ্টা করছে। তাড়াতাড়ি বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘থামা, থামা। জাহাজ থামা। এগুলো তো ডুইব্বা মরবে।’ তখন জাহাজ থামানো হলো এবং বঙ্গবন্ধু সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলেন। তারা খুশিমনে ফিরে যান।

বঙ্গবন্ধুর কথা মনে পড়তেই আমাদের মানষচোখে ভেসে ওঠে সেই সুপুরুষ বাঙালিÑ ব্যাক ব্রাশ করা চুল, পরনে ধ্ববধ্ববে সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি ও কালো মুজিব কোর্ট, কাঁধে জড়ানো কাঠালিচাঁপা রঙের শাল। আজো আমাদের চিত্তে ধমনিতে রক্তকণিকায় ঝড় ওঠে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কথা স্মরণ করলে। বঙ্গবন্ধু ছিলেন বলেই মাত্র নয় মাসে আমরা পাকিস্তানী হানাদারদের পরাস্ত করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনতে পেরেছি। অথচ পচাত্তরের ১৫ আগস্টে কেবল বঙ্গবন্ধু ছিলেন না বলেই আমরা বিনা যুদ্ধে পরাজয় বরণ করি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই আত্মসমর্পণ করি। প্রমাণিত হয়, একটি জাতির জন্য নেতৃত্বের কত প্রয়োজন। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে শুধু আজ বাঙালীদের নেতাই হতেন না, তিনি হতেন বিশ^নেতা।। বিশ^নেতা হওয়ার এই সূর্য সম্ভাবনাকে যারা নস্যাৎ করেছে বাংলার পবিত্র মাটিতে তাদের ঠাঁই হওয়া উচিত নয়। এই সত্যটি আমরা যদি মনে না রাখি, তবে আমাদের রাজনীতি নিয়ত চোরাবালিতে হোঁচট খেতে থাকবে।

লেখক:-

বীর মুক্তিযোদ্বা জাতীয় পেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও কল্যান সমিতির সভাপতি এবং Editor, The Bangladesh News & Bangladesher Khabor Former MD, BSS ,& top online news portal Lastnewsbd.com এর Advisory Editor: আজীজুল ইসলাম ভুইয়া ।

Print Friendly, PDF & Email
Print Friendly, PDF & Email

Comments are closed

diamond world
Rupali bank ltd
exim bank
Lastnewsbd.com
পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >

আপনি কি মনে করেন যে কোন পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচন করবে ?

ফলাফল দেখুন

Loading ... Loading ...
আর্কাইভ
মতামত
সংবাদ সম্মেলনে কেন এত চাটুকারিতা
।।নঈম নিজাম।। সংবাদ সম্মেলনে একজন সংবাদকর্মীর ক...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
দিল্লীর খাদ্যজাত পন্য মেলায় ভারত-বাংলাদেশ চেম্বারকে অামন্ত্রন
লাস্টনিউজবিডি,৩রা সেপ্টেম্বর,নিউজ ডেস্ক: ট্রেড কাউ...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • দিনাজপুর দক্ষিন জেলা জামায়াতের আমীর আটক
  • সাইকেলে ৬৪ জেলা ভ্রমণ করলেন ঠাকুরগাঁওয়ের আহসান হাবিব
  • পত্নীতলায় গ্রাম আদালত বিষয়ক কমিউনিটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

আপনি কি মনে করেন যে কোন পরিস্থিতিতে বিএনপি নির্বাচন করবে ?

  • মতামত নাই (2%, ১ Votes)
  • না (28%, ১৩ Votes)
  • হ্যা (70%, ৩২ Votes)

Total Voters: ৪৬

অাপনি কি কোটা সংস্কারের পক্ষে ?

  • মতামত নেই (3%, ১ Votes)
  • না (8%, ৩ Votes)
  • হ্যা (89%, ৩৩ Votes)

Total Voters: ৩৭

খালেদা জিয়ার মামলা লড়তে বিদেশি আইনজীবীর কোন প্রয়োজন নেই' বিএনপি নেতা আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেনের সাথে - আপনিও কি একমত ?

  • মতামত নাই (9%, ১ Votes)
  • না (27%, ৩ Votes)
  • হ্যা (64%, ৭ Votes)

Total Voters: ১১

আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের কোনো উপদেশ বা পরামর্শের প্রয়োজন নেই বলে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মন্তব্য যৌক্তিক বলে মনে করেন কি?

  • মতামত নাই (7%, ১ Votes)
  • হ্যা (20%, ৩ Votes)
  • না (73%, ১১ Votes)

Total Voters: ১৫

এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব) অলি আহমাদ বলেন, এরশাদকে খুশি করতে বেগম জিয়াকে নাজিমউদ্দিন রোডের জেলখানায় নেয়া হয়েছে। আপনিও কি তা-ই মনে করেন?

  • মতামত নাই (8%, ৫ Votes)
  • না (27%, ১৬ Votes)
  • হ্যা (65%, ৩৮ Votes)

Total Voters: ৫৯

আপনি কি মনে করেন আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহন করবে ?

  • না (13%, ৫৪ Votes)
  • হ্যা (87%, ৩৬২ Votes)

Total Voters: ৪১৬

আপনি কি মনে করেন বিএনপির‘র সহায়ক সরকারের রুপরেখা আদায় করা আন্দোলন ছাড়া সম্ভব ?

  • হ্যা (32%, ৪৫ Votes)
  • না (68%, ৯৫ Votes)

Total Voters: ১৪০

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে গ্রেফতারের বিষয়টি সম্পূর্ণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপরে নির্ভরশীল, এ বিষয়ে অাপনার মন্তব্য কি ?

  • মন্তব্য নাই (7%, ২ Votes)
  • হ্যা (26%, ৭ Votes)
  • না (67%, ১৮ Votes)

Total Voters: ২৭

আপনি কি মনে করেন নির্ধারিত সময়ের আগে আগাম নির্বাচন হবে?

  • মন্তব্য নাই (7%, ১০ Votes)
  • হ্যা (31%, ৪৬ Votes)
  • না (62%, ৯১ Votes)

Total Voters: ১৪৭

হেফাজতকে বড় রাজনৈতিক দল বানানোর চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। আপনি কি তার সাথে একমত?

  • মতামত নাই (10%, ৩ Votes)
  • না (34%, ১০ Votes)
  • হ্যা (56%, ১৬ Votes)

Total Voters: ২৯

“আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে দেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা কমে যাবে ”সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সাথে কি অাপনি একমত ?

  • মতামত নাই (9%, ৩ Votes)
  • না (32%, ১১ Votes)
  • হ্যা (59%, ২০ Votes)

Total Voters: ৩৪

আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে যারা সংগঠনের নামে দোকান খুলে বসেছে, তাদের ধরে ধরে পুলিশে দিতে হবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের আপনার প্রতিক্রিয়া কি ?

  • মতামত নাই (7%, ৩ Votes)
  • না (10%, ৪ Votes)
  • হ্যা (83%, ৩৫ Votes)

Total Voters: ৪২

ড্রাইভাররা কি আইনের উর্ধে ?

  • মতামত নাই (2%, ১ Votes)
  • হ্যা (14%, ৭ Votes)
  • না (84%, ৪৩ Votes)

Total Voters: ৫১

সার্চ কমিটিতে রাজনৈতিক দলের কেউ নেই- ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?

  • মতামত নাই (5%, ৩ Votes)
  • হ্যা (31%, ১৭ Votes)
  • না (64%, ৩৫ Votes)

Total Voters: ৫৫

ইসি গঠন নিয়ে রস্ট্রপতির সংলাপ রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক মাত্রা আসবে বলে কি আপনি মনে করেন ?

  • মতামত নাই (8%, ৭ Votes)
  • না (34%, ৩২ Votes)
  • হ্যা (58%, ৫৪ Votes)

Total Voters: ৯৩

Do you support DD?

  • yes (0%, ০ Votes)
  • no (100%, ০ Votes)

Total Voters:

How Is My Site?

  • Excellent (0%, ০ Votes)
  • Bad (0%, ০ Votes)
  • Can Be Improved (0%, ০ Votes)
  • No Comments (0%, ০ Votes)
  • Good (100%, ০ Votes)

Total Voters: