Tuesday, 10th January , 2017, 01:48 pm,BDST
Print Friendly

জিয়া নগরের নাম পরিবর্তন আগ্রাসী প্রতিহিংসা: রিজভী



লাস্টনিউজবিডি, ১০ জানুয়ারি, ঢাকা: পিরোজপুর জেলাধীন জিয়ানগর উপজেলার নাম পরিবর্তন করা আগ্রাসী প্রতিহিংসা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

মঙ্গলবার নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জিয়ানগর উপজেলা থেকে জিয়ানগর নামটি বাদ দেয়া আমাদের গৌরবোজ্জল মুক্তিযুদ্ধ ও সকল মুক্তিযোদ্ধাদেরকে অপমান করা। শুধুমাত্র সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম থাকার কারণেই এটি সরকারের আক্রমণের শিকার হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রিজভীর লিখিত বক্তব্য নিচে হুবহু দেয়া হলো –

সুপ্রিয় সাংবাদিক ভাই ও বোনেরা,
আসসালামু আলাইকুম। আজকের প্রেসব্রিফিংয়ে উপস্থিতির জন্য সবাইকে আমার আন্তরিক প্রীতি ও অভিনন্দন।

পিরোজপুর জেলাধীন জিয়ানগর উপজেলার নাম পরিবর্তন করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটি সরকারের আগ্রাসী প্রতিহিংসার আরেকটি শিকারের ঘটনা। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেসমস্ত বীর সন্তানরা মাতৃভূমির জন্য লড়াই করেছেন তাদের নামে সড়ক-মহাসড়ক-স্থান-ভবন ইত্যাদির নামকরণ করা হয়েছে। কোলকাতার অনেক রাস্তাঘাটের নাম ইংরেজ সিভিলিয়ানদের নামে ছিল, স্বাধীনতার পর সেটি পরিবর্তন করে সেখানে কীর্তিমান স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নাম দেয়া হয়েছে। এভাবে আমরা সেখানে দেখতে পাই-চিত্তরঞ্জন এ্যভিনিউ থেকে শুরু করে বিধাননগরসহ নানা স্থানে স্বজাতির বরেণ্য দেশনায়ক, কবি-সাহিত্যিক-বিজ্ঞানী অথবা সমাজ সংস্কারকদের নাম। শুধুমাত্র বর্তমান বাংলাদেশ হচ্ছে পৃথিবীতে একটি ব্যতিক্রমী দেশ, যেখানে সরকারের দিন-রাত্রি কাটে হিংসা-বিদ্বেষ-আক্রোশ আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দমনে। পিরোজপুর জেলাধীন জিয়ানগর উপজেলা থেকে জিয়ানগর নামটি বাদ দেয়া আমাদের গৌরবোজ্জল মুক্তিযুদ্ধ ও সকল মুক্তিযোদ্ধাদেরকেই অপমান করা। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর আমলে জিয়ানগরে জলথানা প্রতিষ্ঠিত করেন এবং পরবর্তীতে এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ থানায় উন্নীত করেন।

২০০২ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলে এটিকে উপজেলায় উন্নীত করেন, তখন এটির জিয়ানগর নামকরণ করা হয়। শুধুমাত্র সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম থাকার কারনেই এটি সরকারী আক্রমণের শিকার হলো। প্রতিহিংসা কত ভয়াবহ রুপ নিলে এধরনের সভ্যতা বিবর্জিত আক্রোশমূলক সিদ্ধান্ত নিতে পারে সরকার। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে আমি সরকারের এই প্রতিহিংসামূলক সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে জিয়ানগর নাম বদলের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের জন্য আহবান জানাচ্ছি। আমি সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই-জনগণের শাসন যদি কখনো কায়েম হয়, তখন যদি বর্তমান বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম, বঙ্গবন্ধু সেতু, বঙ্গবন্ধ্রু নভোথিয়েটার এসবের নাম পরিবর্তন করে পূর্বের যে নাম ছিল তা যদি বহাল করা হয় তাহলে তখন আপনাদের বক্তব্য কী হবে? আপনারা কি দেশটাকে চিরদিনের জন্য মৌরুসিপাট্টা করে নিয়েছেন যে, ভাবছেন ক্ষমতা আর কোনদিনই ছাড়তে হবে না ?

সাংবাদিক বন্ধুরা,
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন যে, রাজধানীতে সমাবেশ করতে দেয়ার ক্ষমতা ডিএমপি’র। আওয়ামী লীগ নেতারা কী জনগণকে কাঁচকলার রাজনীতি শেখাচ্ছেন ? জনগণ মনে হয় কিছুই বোঝেন না? ডিএমপি’র কাজ হচ্ছে অপরাধ দমন, গণতন্ত্রে বিরোধী দলের অধিকার দমন নয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য যদি সঠিক হয় তাহলে বুঝতে হবে গণতন্ত্রের পায়ে পুলিশ বেড়ি দিয়ে রেখেছে। যখন দেশব্যাপী অপরাধীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তখন সরকার ডিএমপিকে জনগণের রাজনৈতিক অধিকার দমনে ব্যবহার করছে। আওয়ামী লীগের ইচ্ছা বাস্তবায়নের যন্ত্রে পরিণত করা হয়েছে ডিএমপি তথা পুলিশ বাহিনীকে, যাদের বেতন দেয়া হয় জনগণের ট্যাক্স থেকে, আওয়ামী লীগের তহবীল থেকে নয়। কাদের ইঙ্গিতে ডিএমপি বিএনপিকে ৭ জানুয়ারী সমাবেশ করতে দেয়নি সেটি আওয়ামী নেতারা না বুঝলেও জনগণ ঠিকই বোঝে। কিন্তু মনরক্ষা ও চাকুরী রক্ষার জন্য তাদেরকে উল্টাপাল্টা অনেক কিছুই বলতে হয়। অথচ কয়েক দিন আগে এরশাদের জাতীয় পার্টি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হাতি-ঘোড়া নিয়ে সমাবেশ করেছে।

আওয়ামী লীগ রাজধানীতে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অহরহ সমাবেশ করছে, আজকেও পুলিশের পক্ষ থেকে ঘোষনা দিয়ে ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথ-ঘাট বন্ধ করে দেয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের সমাবেশের জন্য। বাংলাদেশের পুলিশ এখন আওয়ামীল লীগের পার্সনাল সিকিউরিটিতে পরিণত হয়েছে। তবে আমি আওয়ামী নেতাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, ৭২-৭৫ সালেও আপনারা জনগণকে বেকুব মনে করেছিলেন, এখনও তাই ভাবছেন। কিন্তু বাংলাদেশের সচেতন জনগণ বেকুব নয়,্ এটি যথাসময়ে আপনাদেরকে বুঝিয়ে দেবে জনগণ।

বন্ধুরা,
আপনারা দেখেছেন-সারাদেশের জেলা উপজেলায় সরকারের দলবাজ কর্মকর্তা ও প্রশাসনের লোকদের বাধ্য করে পালন করা হচ্ছে উন্নয়নের গণতন্ত্র মেলা। গণতন্ত্রকে পদদলিত করে আয়োজিত এসব মেলায় সাধারণ মানুষের কোন সম্পৃক্ততা নেই। এমনকি এসব মেলায় সরকারী দলের লোকজনদেরও দেখা মেলেনি। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারিদের বাধ্য করে লোক দেখানো এসব মেলা কিছু কিছু গণমাধ্যমের বদৌলতে প্রচার হলেও সাধারন মানুষ মনে করে এটি ভোটারবিহীন সরকারের একটি ডিজিটাল তামাশা। অসত্য জোর করে প্রচার করতে গেলে মানুষের আনন্দ হওয়ার চেয়ে হতাশার রুপটিই ফুটে উঠে।

কারণ মানুষের মনে শান্তি নেই, পকেটে টাকা নেই, পেটে ভাত নেই, ঘরে বাইরে কোথাও মানুষের নিরাপত্তা নেই, আজ দেশে বাক-ব্যক্তি স্বাধীনতা বলতে কিছু নেই, বিরোধী দলের সভা-সমাবেশের অধিকারকে হরণ করা হয়েছে, লুটে নেয়া হচ্ছে মা বোনদের ইজ্জত, স্কুল কলেজের মেয়েরা ভয়ে স্কুলে যেতে পারছেনা ছাত্রলীগ-যুবলীগের চাপাতির আক্রমনে, মায়ের কাছে চাঁদা না পেয়ে মেয়েকে ধরে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন করা হচ্ছে, শিশুরাও নিষ্ঠুর নিপীড়ণের শিকার হচ্ছে, রাজকোষসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো লুটে ফোকলা করে দেয়া হয়েছে, কিছু কিছু গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়ে বাকিগুলোকে হুমকি ধামকি দিয়ে সরকারী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ ক্ষমতাসীন দলের সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের ঝনঝনানীতে প্রকম্পিত, বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে লুটের কারখানা বানানো হচ্ছে, যুবকদেরকে ঘর থেকে ধরে নিয়ে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হচ্ছে, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে গ্রেফতার করে কারাগারগুলো ভরে ফেলা হয়েছে, ঘুষের দাবিতে সাধারণ মানুষদের ধরে নিয়ে থানায় লটকানো হচ্ছে, দেশে বেকারত্ব এখন মহামারী রুপ নিয়েছে, শিক্ষিত বেকাররা কাজ না পেয়ে অপরাধের দিকে ঝুঁকছে। চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী ও মানুষের জমি-সহায় সম্পদ দখলের হিড়িক চলছে দেশজুড়ে।

পুরো দেশ এখন লুটেরা রাজ্যে পরিণত হয়েছে। এমতাবস্থায় উন্নয়নের নামে মেলা শুধুই জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়। সামরিক শাসক আইয়ুব খানও ১৯৬৮ সালে এধরণের উন্নয়নের দশক উৎসব করেছিলেন। তাতে তার শেষ রক্ষা হয়নি। গণঅভ্যূত্থানের স্্েরাতে ভেসে যেতে হয়েছে। শেখ হাসিনা স্বৈরশাসক আইয়ুব খানসহ বিভিন্ন দেশের স্বৈরশাসকদের মডেলকেই বেছে নিয়েছেন। সেজন্য বাংলাদেশের সবুজে এখন শুধুই রক্তের আল্পনা। দেশে দেশে নিষ্ঠুর শাসকরা গণতন্ত্রকে পদদলিত করে নিজেদের উন্নয়নের ফিরিস্তি গেয়ে মানুষকে ভোলানোর চেষ্টা করে, কিন্তু জনসাধারণ কিছুই ভোলে না।

কারন উন্নয়নের নামে নাটকই বেশী হয়। যার কারনে উন্নয়নের কোন ছিঁটেফোটাও মানুষের চেহারার মধ্যে প্রতিফলিত হয়না। আজও হাজার হাজার মানুষ তাদের ভিটে মাটি ছেড়ে কাজের সন্ধানে শহরের দিকে ছুটে আসছে, কাজ না পেয়ে নিজের সন্তানকে বিক্রি করছে, ঢাকা শহরে কোথাও আশ্রয় না পেয়ে ফুটপাতের ওপর রাত্রি যাপন করছে। দেশের উন্নয়ন শুধু প্রধানমন্ত্রীর মুখে, সারাদেশে শুধু লবডঙ্কা।
ধন্যবাদ সবাইকে। আল্লাহ হাফেজ।

লাস্টনিউজবিডি/এমএইচ

Print Friendly

Comments are closed

diamond world
Rupali bank ltd
exim bank
Lastnewsbd.com
পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >

আপনি কি মনে করেন নির্ধারিত সময়ের আগে আগাম নির্বাচন হবে?

ফলাফল দেখুন

Loading ... Loading ...
আর্কাইভ
জানুয়ারী ২০১৭
শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি
« ডিসে.   ফেব্রু. »
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
মতামত
বাবা আমরা তোমার কেমন সন্তান!
।।সাহাদাত সাঈদ।। স্যোসাল মিডিয়ায় একটা খবর দেখে ...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
সফল হওয়ার গল্প, সাফল্যের পথ
।।আলীমুজ্জামান হারুন।। ১৯৮১ সালে যখন নিটল মটরসে...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • ১৪৪ ধারা থাকা সত্বেও জমি চাষ, কোটের আদেশ মানছেন না বিবাদী
  • ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশের বিশেষ অভিযানে আটক ৪০
  • নীলফামারীতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ১০৫
  • জলঢাকায় কাল্ব এর মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
  • লাইন মেরামত করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই শ্রমিকের মৃত্যু

আপনি কি মনে করেন নির্ধারিত সময়ের আগে আগাম নির্বাচন হবে?

  • মন্তব্য নাই (7%, ১ Votes)
  • হ্যা (20%, ৩ Votes)
  • না (73%, ১১ Votes)

Total Voters: ১৫

হেফাজতকে বড় রাজনৈতিক দল বানানোর চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন নাট্যব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার। আপনি কি তার সাথে একমত?

  • মতামত নাই (10%, ৩ Votes)
  • না (34%, ১০ Votes)
  • হ্যা (56%, ১৬ Votes)

Total Voters: ২৯

“আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে দেশে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা কমে যাবে ”সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সাথে কি অাপনি একমত ?

  • মতামত নাই (9%, ৩ Votes)
  • না (32%, ১১ Votes)
  • হ্যা (59%, ২০ Votes)

Total Voters: ৩৪

আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর নাম ব্যবহার করে যারা সংগঠনের নামে দোকান খুলে বসেছে, তাদের ধরে ধরে পুলিশে দিতে হবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের আপনার প্রতিক্রিয়া কি ?

  • মতামত নাই (7%, ৩ Votes)
  • না (10%, ৪ Votes)
  • হ্যা (83%, ৩৫ Votes)

Total Voters: ৪২

ড্রাইভাররা কি আইনের উর্ধে ?

  • মতামত নাই (2%, ১ Votes)
  • হ্যা (14%, ৭ Votes)
  • না (84%, ৪৩ Votes)

Total Voters: ৫১

সার্চ কমিটিতে রাজনৈতিক দলের কেউ নেই- ওবায়দুল কাদেরের এ বক্তব্য সমর্থন করেন কি?

  • মতামত নাই (5%, ৩ Votes)
  • হ্যা (31%, ১৭ Votes)
  • না (64%, ৩৫ Votes)

Total Voters: ৫৫

ইসি গঠন নিয়ে রস্ট্রপতির সংলাপ রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক মাত্রা আসবে বলে কি আপনি মনে করেন ?

  • মতামত নাই (8%, ৭ Votes)
  • না (34%, ৩২ Votes)
  • হ্যা (58%, ৫৪ Votes)

Total Voters: ৯৩

Do you support DD?

  • yes (0%, ০ Votes)
  • no (100%, ০ Votes)

Total Voters:

How Is My Site?

  • Excellent (0%, ০ Votes)
  • Bad (0%, ০ Votes)
  • Can Be Improved (0%, ০ Votes)
  • No Comments (0%, ০ Votes)
  • Good (100%, ০ Votes)

Total Voters: