Monday, 9th January , 2017, 09:31 am,BDST
Print Friendly

মিরকি নদী শুধুই স্মৃতি



রেজাউল করিম বকুল, লাস্টনিউজবিডি, ০৯ জানুয়ারি, শেরপুর: শাঁন বাঁধানো ঘাট। পালতোলা নৌকার চলাচল। মাঝি মাল্লাদের ভাটিয়ালি সুরে গান। তাদের মহানন্দে নৌকা বেয়ে এক স্থান হতে অন্য স্থানে যাওয়া যেন শুধু স্মৃতি।

রুই, কাতলা, চিতল, গজার, শৌল, বোয়াল, শিং, মাগুরসহ নানা জাতের দেশীয় মাছের ভরপুরের গল্পটাও যেন আজগবী। এ নদীতে শতশত জেলেদের কোলাহল যেন মিরকি নদীর আদিকথা। এখন রাখালেরা এ নদীতে গরু চড়ায়। ক্ষরশ্রোতা এ মিরকি নদীর ওপর গড়ে ওঠেছে ঘরবাড়ি। পরিণত হয়েছে আবাদি জমিতে।

ভারত থেকে নেমে আসা রাক্ষুসি সোমেশ্বরীর আর পাগলা নদীর গতিপথ শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার মিরকি নদীর বুকে জেগে ওঠেছে চর। কালের স্রোতে ধীরে ধীরে ভরাট হয়েছে নদীটি। যেন নতুন প্রজন্মের কাছে মিরকি নদী শুধুমাত্র কল্পকাহিনী।
এলাকাবাসী জানান, শ্রীবরদী উপজেলা সদর বাজার সংলগ্ন ছিল মিরকি নদী। এ নদীর পূর্বে শ্রীবরদী সদর বাজার, দক্ষিনে বনপাড়া, চককাউরিয়া, ঝালুপাড়া, পশ্চিমে পুটল, উত্তরে গেরামারা ও কাকিলাকুড়া এলাকা। সদর বাজার সংলগ্ন ছিল নৌকা রাখার শান বাঁধানো ঘাট। এ ছাড়াও নয়াপাড়া, গেরামারা, কাকিলাকুড়াসহ কয়েকটি স্থানে ছিল ছোট ছোট ঘাঁটি।

এ নদীটি ঘিরে শ্রীবরদীর তৎকালীন শম্ভূগঞ্জে গড়ে ওঠেছিল বিশাল পাটের বাজার। এ ঘাট হতে নৌকায় পাট বোঝাই করে নিয়ে যাওয়া হতো জামালপুরের জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। নানা পন্য সামগ্রী নিয়ে বেদেনীরা আসতো পাল তোলা নৌকায়। থাকতো প্রায় সারা বছর। চলাচল করতো এ ঘাট থেকে ও ঘাটে। মিরকি নদীতে বেদেনীদের পালতোলা নৌকায় আনাগোনায় যোগ হতো এক নতুন মাত্রা।

স্বাধীনতার আগেও এ নদীর গভীরতা ছিল ২০/২৫ ফুট। ওই সব এখন শধু স্মৃতি। নদীর ওই জৌলুস হারিয়েছে প্রায় ৩৫ বছর আগেই। পাহাড়ি ঢলে প্রতি বছরই এ নদীতে পড়ছে পলিমাটি। এতে ঐতিহ্যবাহী এ নদীর অস্তীত্ব বিলীন হচ্ছে। মাত্র দু’যুগে ১৩/১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদীর বুকে জেগে ওঠেছে চর। এ চরে প্রায় এক যুগ ধরে চলছে ইরি বোরো চাষাবাদ । প্রায় ১২ কিলোমিটারের অস্তীত্ব বিলীন হয়েছে অনেক আগেই। রয়েছে শুধু মিরকি নদী। এর আগে এসব এলাকাব বাসিন্দারা কেউ গড়ে তুলেছেন বাড়ি। কেউবা করছেন চাষাবাদ। মিরকি নদীর দু’পাড়ে কৃষকরা জানান, এ নদীর বুকে পলিমাটি পড়ে অধিক উর্বর হয়েছে। তাই এ জমিতে সারের প্রয়োজন হয়না। এমনকি সেচ সুবিধা থাকায় স্বাচ্ছন্দ্যে চলছে ইরি বোরো চাষাবাদ।

নদীর বুকে চাষাবাদ করে পার্শ্ববর্তী জমির মালিকরা বছরের ৫/৬ মাসের খাবার ধান ঘরে তুলছেন। এসব কৃষকের সংখ্যা পাচঁ শতাধিক।

সূত্র জানায়, এ নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে তৎকালীন খাল খনন কর্মসূচিতে অংশ গ্রহণ করে কর্মসূচীর আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনী ঘোষণা করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে পরবর্তীতে এর বাস্তবায়ন হয়নি। এ জন্য নদীটিতে জেগে ওঠেছে চর। ফলে আর নৌকা চলে না।

এক সময় যেসব জেলে এ নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো। সেই সব জেলে সম্প্রদায়ের অনেকের জীবনে নেমেছে দুর্ভোগের অমানিষা। কেউবা পেশা বদল করে চলে গেছে অন্যত্র। ফলে মৎস এলাকাটি হয়েছে মৎসশূন্য।

সচেতন মানুষ ও জেলেরা মনে করেন, নদীটি ড্রেজিং করা হলে বছরে কোটি কোটি টাকার মাছ উৎপাদন হতে পারে। এ নদীতে হতে পারে মৎস খামার। এখানেই হতে পারে হাজারো বেকারের কর্মসংস্থানের পথ। দেশে মেটাতে পারে মাছের চাহিদা।

লাস্টনিউজবিডি/এমএইচ

Print Friendly

Comments are closed

diamond world
Rupali bank ltd
exim bank
Lastnewsbd.com
পেপার কর্ণার
Lastnewsbd.com
islame bank
অনলাইন জরিপ
আজকের প্রশ্ন >

ইসি গঠন নিয়ে রস্ট্রপতির সংলাপ রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক মাত্রা আসবে বলে কি আপনি মনে করেন ?

ফলাফল দেখুন

Loading ... Loading ...
আর্কাইভ
জানুয়ারী ২০১৭
শুক্র শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহস্পতি
« ডিসে.    
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০৩১  
মতামত
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান সমস্যা ও করণীয়
।।দ্বীন ইসলাম।। দেশের ৯০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থ...
বিস্তারিত
সাক্ষাৎকার
সফল হওয়ার গল্প, সাফল্যের পথ
।।আলীমুজ্জামান হারুন।। ১৯৮১ সালে যখন নিটল মটরসে...
বিস্তারিত
জেলার খবর
Rangpur

    রংপুরের খবর

  • দিনাজপুরে নিখোঁজ প্রিন্স ও শাপলা উদ্ধার
  • বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর মেলার উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ
  • চিরিরবন্দরে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টায় অভিযোগ
  • রোলার স্কেটিং প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের সনদপত্র বিতরণ
  • দিনাজপুরে ওষুধ ব্যবসায়ীর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার

ইসি গঠন নিয়ে রস্ট্রপতির সংলাপ রাজনীতিতে একটি ইতিবাচক মাত্রা আসবে বলে কি আপনি মনে করেন ?

  • মতামত নাই (8%, ৭ Votes)
  • না (32%, ২৭ Votes)
  • হ্যা (60%, ৫১ Votes)

Total Voters: ৮৫

Do you support DD?

  • yes (0%, ০ Votes)
  • no (100%, ০ Votes)

Total Voters:

How Is My Site?

  • Good (0%, ০ Votes)
  • Excellent (0%, ০ Votes)
  • Bad (0%, ০ Votes)
  • Can Be Improved (0%, ০ Votes)
  • No Comments (100%, ০ Votes)

Total Voters: